এনইআইআর চালুর পর নকল ফোনের ভয়াবহ চিত্র, বন্ধ হচ্ছে না এখনই
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২১

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালুর পর নকল বা ক্লোন মোবাইল ফোন নিয়ে ‘ভয়াবহ তথ্য’ প্রকাশ করেছে সরকার। শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে কোটি কোটি নকল আইএমইআই নম্বরের হ্যান্ডসেট সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব ফোন এখনই বন্ধ করা হবে না।
তথ্য বিবরণীতে গত ১০ বছরের হিসাব তুলে ধরে বলা হয়, একটি মাত্র আইএমইআই নম্বর 99999999999999 ব্যবহার করে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি মোবাইল ফোন। একইভাবে 440015202000 আইএমইআই নম্বরে প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইস শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসেবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া 35227301738634 নম্বরে সাড়ে ১৭ লাখ, 35275101952326 নম্বরে সোয়া ১৫ লাখ এবং আরেকটি আইএমইআই নম্বরে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকার বলছে, চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব নকল ফোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
তবে এসব ফোন হঠাৎ বন্ধ না করে আপাতত ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জনজীবনে অসুবিধা সৃষ্টি হয়—এমন কোনো পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, দেশে সংঘটিত ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশই অনিবন্ধিত বা নকল ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘটিত হয়। ‘আন-অফিসিয়াল’ নতুন ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রির এই প্রতারণাকে সরকার ‘অভাবনীয় ও নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে জনস্বার্থে এই চক্রের লাগাম টানা জরুরি বলে মনে করছে।
কর ফাঁকি রোধ এবং নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করতে সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়। এই পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর হলে কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালুর আগ পর্যন্ত ব্যবহৃত কোনো ফোনই বন্ধ করা হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রতিবাদে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। গত ৭ ডিসেম্বর তারা বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও ও দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এনইআইআর চালুর সময় ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।
তবে এনইআইআর চালুর দিন বৃহস্পতিবার বিটিআরসি কার্যালয়ে একদল মোবাইল ব্যবসায়ী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় ৪৫ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে এনইআইআর চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেন, নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক মোবাইল ফোন নিবন্ধিত দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি বলেন, “এনইআইআর কার্যক্রম চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কারও অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না।” এক এনআইডিতে অনেক ফোন দেখানোর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় ৩ বিলিয়নের বেশি ডেটাসেট পাওয়া হয়েছে, যেখানে ‘হিস্টোরিক ডেটা’সহ সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত। মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান সময় দেখানো হওয়ায় অনেক এনআইডিতে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।
বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে পুরোনো ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে কেবল বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যাই দেখানো হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










