ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৯

প্রিন্ট

দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলন

দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলন
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে অনুকূল পরিবেশ আর সকল পরিচর্চা করায় এবারে বাম্পার আলুর ফলন হয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত আলু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রেরণ করা হচ্ছে।

চাষীরা জমি থেকে আলু তুলতে শ্রমিক খরচ বহন করতে হিমশিম খায়, জেলার বাহিরের ব্যবসায়দের সাথে যোগাযোগও করতে না পারেনা তারা। তাই চাষীরা স্থানীয় মধ্যভোগী আলু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে। ফলে তাদের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন মধ্যভোগী আলু ব্যবসায়ীরা।

আলু চাষী মকবুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ বাজারে আলুর দাম কম হওয়ায় তেমন বেশি লাভ হবেনা,গত কয়েকদিন আগে আলু বাজারে ছিলো ২৯ শত টাকা বস্তা ( ৮০কেজি), এখন বিক্রয় হচ্ছে ২৬শত টাকা বস্তা।

আলু চাষী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ দিয়েছি। এখনো আলু তোলা হয় নাই, সম্পূর্ণ আলু তোলার পর বুঝা যাবে লাভ না ক্ষতি। অনেক আলু চাষী তাদের জমি থেকে সরাসরি মধ্যভোগী আলু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করার কারণে তারা বেশি একটা লাভ পাচ্ছেনা।

আলু চাষী রশিদুল আলম বলেন, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করলে ২০ বস্তা আলু হয়। ২০ বস্তা আলু বিক্রয় করলে ৪০ হাজার টাকা বিক্রয় হবে। সব খরচ বাদ দিলেও বিঘায় ৩০ হাজার টাকা লাভ টিকে।

মধ্যভোগী আলু ব্যবসায়ী মামুন আলী বলেন, আমরা কৃষকের জমি থেকে কম দামে আলু ক্রয় করি। পরে জমি থেকে ভ্যানে করে নদীতে নিয়ে এসে ধুয়ে বস্তা করি। এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করি। এখানে শ্রমিক খরচ দিয়ে মোটমুটি ভালোই লাভ হয়।

মৌসুমের শুরু থেকে অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ, রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ থাকায় এবারে জেলায় কৃষকেরা উচু-নিচু প্রায় সম্ভাব্য চাষযোগ্য জমিতে চাষীরা আলু চাষ করতে পেরেছে। মৌসুমের শুরুতে গেলেনা, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, ষ্টারিজ, ক্যারেজ, লেডিরোসেডা, পেটনিস জাতের আলু কৃষকেরা বেশি করে চাষ করেছে। এসব জাতের আলুর অধিক ফলন হওয়ায় কৃষকদের আলুর বীজ বোপন করতে কৃষি বিভাগ উৎসাহ দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা তৌহিত ইকবাল জানান, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৪৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদনে ফলন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ৫ হাজার ৭১৪ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। অর্জিত আলু থেকে উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন। জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়ন এবং ৯টি পৌরসভায় বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত উৎপাদিত ৪ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আলু জেলার বাহিরে সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলায় এ বছর ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close