ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২০:০৪

প্রিন্ট

দেশি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ পদ্ধতি

দেশি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ পদ্ধতি
প্রতীকী ছবি: খেজুর রস সংগ্রহ পদ্ধতি

জীবন-শিল্প ডেস্ক

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ: গাছ সাধারণত নির্বাচন করা হয় ৫-৭ বছর বয়সের। যে সকল গাছ দেখতে সুস্থ সবল, সে সব গাছ নির্বাচন করলে অধিক রস আহরিত হয়। খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জন্য গাছ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেজুরের রস সংগ্রহ গাছ কাটার উপর নির্ভর করে কারণ রস সংগ্রহের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ করা অতি জরুরি।

এ জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ গাছী দিয়ে গাছ কাটলে রস আহরণের হার ও গাছের স্থায়িত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য কিভাবে গাছ কাটতে হবে গাছের কোন অংশে কতটুকু কাটতে হবে, কোন সময়ে বেশি পরিমাণ রস, সর্বোপরি গাছটি কিভাবে কাটলে অধিক রস সংগৃহীত হবে এবং গাছটি দীর্ঘ স্থায়ী হবে তা গাছীর সম্যক ধারণা থাকতে হবে। এই সব ধারনা ও জ্ঞান থাকলে গাছটি সহজে মরবে না। আর এই জন্য গাছীকে অবশ্যই প্রশিক্ষিত হতে হবে। কারণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং তা থেকে সিরাপ, গুড়, পিঠা, পায়েস ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরি করার জন্য অধিক পরিমাণে রস আহরণ করতে পারবে। গবেষণায় দেখা গেছে গাছের বেডের ১'/৩' অংশ লম্বা ও ৭.৫-১০ সে.মি গাছ কাটলে বেশি পরিমাণ রস পাওয়া যায়।

রস সংগ্রহ পদ্ধতি: নভেম্বর মাসের মাঝামাঝির দিকে গাছ পরিষ্কারের কাজ শুরু করতে হয়। গাছ পরিষ্কার করার পর ১৫-২০ দিন পর গাছ কাটা শুরু করতে হয়। এরপর ছাটা অংশের যেখানে রস নিঃসরণ শুরু করা হয় সেখানে ‘ট’ আকৃতির চিকন প্রায় ৭-৮ ইঞ্চি লম্বা বাঁশের কঞ্চি আধা ইঞ্চি পরিমাণ গাছে ঢুকিয়ে দিতে হয়। ‘ট’ আকৃতির কাঠির মধ্যে দিয়ে ফোটায় ফোটায় গাছের রস ঝুলন্ত হাড়িতে জমতে থাকে।

গাছ একবার ছাঁটলে ৩-৪ দিন রস সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে ৩ দিন শুকাতে হয়। এইভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত ডিসেম্বর হতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করতে হয়। রস সংগ্রহের পর হাড়ি পরিষ্কার করে রৌদ্রে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসে গাঁজন বন্ধ হয়।

রস সংগ্রহের জন্য ধারালো দা, মাটির পাত্র বা হাড়ি, নেট, লোহার বা স্টিলের কড়াই, চুলা, জ্বালানী, ছাকনি, ও বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

কৃষিবিদ ডঃ মোঃ আবুল কালাম আল আজাদ

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত