ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৬ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের দায়ে চাকরি হারিয়েছেন আরো ১ শিক্ষক।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ছুটিতে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদের বারবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ১৬ শিক্ষক সাড়া দেননি; ফলে শিক্ষাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ওই শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদেরকে ছুটির সময়ে নেওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুতরা হলেন—ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, খায়রুল বাশার ও উপমা দাস; পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি; রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবব্রত পাল; আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার; সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন; অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উজ্জল হুসাইন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।

এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের দায়ে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের পৃথক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুন থেকে তাকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, “ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে ফাতেমা খাতুনকে সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত বলে মত দেয়।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তার বলছেন, চলতি বছরের এপ্রিলে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে ৫ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ড ফাতেমাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া অর্থ বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত