তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরু করতে সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ হবে দ্রুত: পানিসম্পদ মন্ত্রী
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৬:২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে ‘খুব দ্রুত সম্ভব্যতা জরিপ শেষ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় তার সফরসঙ্গী পানিসম্পদ মন্ত্রী গণমাধ্যমকে এই কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, তিস্তায় একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডিং ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছেন…আমরা যৌথভাবে সেই সম্মতিতে একত্রিত হয়ে সেই স্ট্যাডিটা কমপ্লিট করব। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা স্টাডিটা কমপ্লিট করে বলে আমরা আশা করছি।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর কথায়, সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য যে সব নদীর রয়েছে সেগুলোর জন্য বাংলাদেশ চীনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। অনেকগুলা নদীর সঙ্গে তাদের যে সম্পৃক্ততা সেগুলো তো আমরা এডজাস্ট করবই। তার পাশাপাশি তিস্তার ব্যাপারে আমাদেরকে চীন যে সহযোগিতা দিবে এর ভিত্তিতে আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিব কবে নাগাদ হবে… খুব শিগগিরই তিস্তার যে পরিকল্পনা এই পরিকল্পনাটা আমরা জনগণের দ্বারগৌড়ায় পৌঁছে দেব। সেটার জন্য ইনশআল্লাহ এই বাজেটেই যেন আমরা কাজ করতে পারি সেই দিকটাকে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের কথা তুলে ধরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তার ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার আলোচনা করেছেন। ইভেন চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের সাইডে সেখানকার ওয়াটার রিসোর্স মিনিস্টার ছিলেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অন্যান্য মন্ত্রী এবং উপদেষ্টামণ্ডলী ছিলেন। সেখানে ডেলিগেটস যারা ছিলেন সবার মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তিস্তার জন্য আমাদের যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা-চাওয়া, তিস্তা অববাহিকায় যেখানে আমাদের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণে আমাদেরকে একটা বাস্তবের রূপ নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি ছিল বিধায় উনাদের (চীনে) একটা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রয়োজন। সেখানে একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডিং ব্যাপারে ওনারা (চীন) সম্মত হয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের একটা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব সম্পর্ক। ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার হাত ধরেই এই সম্পর্কটি স্থাপন হয়েছিল। তিনি তার জীবদ্দশায় দুইবার চীনে এসেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাতবার চীন সফর করেন। তার মধ্য দিয়ে খুব সম্পর্কটা আরো বেশি গভীর হয়েছিল বিদায় আমাদের চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের যে একটা ধারাবাহিকভাবে সম্পর্ক এত উন্নত…এটা তারা ফিল করে আমরাও সেটাকে বেশি অনার করি।
গত ২২ জুন চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। সেদিন তিনি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকালে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তার ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সফরের শেষ দিন শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তিনজন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহাদী আমিন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










