ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫২

প্রিন্ট

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি ও টাইম স্কেল

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি ও টাইম স্কেল
এ এম জিয়াউর রহমান

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত বিষয় হচ্ছে ২০১৪ সালে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়েছেন বিধায় তারা আর ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাবেন না। কিন্তু যাবতীয় চিঠিপত্র, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র বিশ্লেষণ করে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তারা পদোন্নতি পায়নি এবং অর্থবিভাগের পত্র মোতাবেক দ্বিতীয় শ্রেণিও নয়। সুতরাং তাদের টাইমস্কেল প্রাপ্তিতে কোন বাধা নেই।

অতিরিক্ত সচিব মহোদয় দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছেন যে, প্রধান শিক্ষকেরা পদোন্নতি পেয়েছেন। সুতরাং তারা টাইমস্কেল পাবেন না। কিন্তু আমরা জানি, কোন পদে কোন ব্যক্তি পদোন্নতি পেলে তার একটা গেজেট হয় এবং নতুন পদে তিনি যোগদান করেন। গেজেট ও যোগদান ছাড়া পদোন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকগণ ০৮/০৩/২০১৪ তারিখেও প্রধান শিক্ষক ছিলেন ১০/০৩/২০১৪ তারিখেও ছিলেন, এখনো প্রধান শিক্ষক পদে বহাল আছেন, পদোন্নতি পেয়ে এটিইও হননি। সুতরাং পদোন্নতি পাবার প্রশ্নই উঠে না। অবশেষে তিনি আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাঁচে ফেলতে চাচ্ছেন।

আমরা সবাই জানি দ্বিতীয় শ্রেণি বলতে ১০ম গ্রেড বুঝায়, কোনক্রমেই ১১ তম গ্রেড নয়। কিন্তু আমাদেরকে ১১তম গ্রেড দিয়ে নন গেজেটেড দ্বিতীয় শ্রেণি করা হয়েছে যেটা আমাদের সাথে সুবিচার করা হয়নি। সেই সাথে অর্থবিভাগ ১১তম গ্রেডকে দ্বিতীয় শ্রেণি বলে স্বীকার করে না। তারা ১৫/১০/২০১৬ তারিখে পত্র (স্মারক নং--২০১০--৭৫২) দ্বারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন ১১তম গ্রেড থেকে ২০ তম গ্রেড পর্যন্ত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আর কোন কথা বা যুক্তির প্রয়োজন নেই। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চিঠি থেকে এটা সুস্পষ্ট যে ১১ তম গ্রেডকে ৩য় শ্রেণি হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।

এছাড়া মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগও তাদের রায়ে ১১ তম গ্রেডের উপরে করেস্পন্ডিং স্কেল নির্ধারণের আদেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে ১১ তম গ্রেড ২য় শ্রেণির আওতাভুক্ত নয়। সুতরাং যে যুক্তিতেই হোক ১৪/১২/২০১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর ন্যায় টাইমস্কেল পাবেন, বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই। আর আমরা বঞ্চিতরা যদি টাইমস্কেল আদায় করতে পারি তাহলে ২০০৮ সালের পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাপ্তিতেও আর কোন বাঁধা থাকবে না। তা না হলে ২০২৪ সালের আগে কেউ আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।

তাই আসুন সকলে মিলে একতা গড়ি, ন্যায্য পাওনা আদায় করি। ইতিপূর্বে আমরা ২০০৬ সালেও দুই গ্রেড উন্নিত হয়েছি। তখন আমরা টাইমস্কেল পেয়েছিলাম এবং ২০১৪ সালে সহকারী শিক্ষকদেরও গ্রেড উন্নিত হলেও তারা টাইমস্কেল পেয়েছে। বর্তমানে শ্রেণি প্রথা তুলে দেয়ার পরও বারবার আলোচনায় ‘শ্রেণি’ কে আনয়ন করার বিষয়টাও বোধগম্য নয়।

তাই, হাজার হাজার টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেড বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আবেদন, আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবেন না। জাতির বিবেক শিক্ষকদেরকে জ্ঞানহীন ভাববেন না, আমাদের কর্মকালকে মূল্যায়ন করুণ, আমাদের পাওনা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন। আমরা স্কুল ছেড়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে চাইনা।

লেখক

সহ-সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি)

বাসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক সমিতি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close