ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২০, ১২:২৩

প্রিন্ট

অবশেষে মিললো গ্রিন কার্ড, ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন না দরবার

অবশেষে মিললো গ্রিন কার্ড, ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন না দরবার
ছবি-সংগৃহীত

Evaly

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি দরবার হোসেন। পরদেশে ঠাঁই নেয়ার পর একটু সুখের আশায় তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। সেখানে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। থাকতেন নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিকত্ব গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন দরবার হোসেন।

এ সম্পর্কে ল’ অফিস অব এহসানের সহকারি আইন বিশেষজ্ঞ ড. রফিক আহমেদ জানান, বৈধ কাগজ করার জন্য দরবার অনেকের কাছেই গিয়েছিলেন। অনেক অর্থও ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।

ড. রফিক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ল’ফার্ম থেকে আমরা তার জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলাম। তার ইন্টারভিউর সময় আমি সাথে গিয়েছিলাম। করোনাকালে তার গ্রিনকার্ড আমাদের কাছে এসেছে। আমি তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। গ্রিনকার্ডের কথা শুনে খুব খুশি হয়েছিলেন দরবার হোসেন। বলেছিলেন, করোনা দুর্যোগ শেষ হলে তিনি অফিস এসে তার গ্রিনকার্ড নিয়ে যাবেন।’

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! এত সাধের গ্রিনকার্ডখানি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হলো না তার। গত ১৬ মে তার জ্যামাইকাস্থ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দরবার হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৪ বছর।

তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, হার্ট এ্যাটাক না করোনায়, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

তার মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে আইন বিশেষজ্ঞ ড. রফিক আহমেদ বলেন, ‘সবচেয়ে দু:খজনক বিষয় হলো- যে কার্ডের জন্য ৩৫ বছর অপেক্ষা সেই কার্ড আসল ঠিকই; কিন্তু দরবার হোসেন কার্ডটি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পেলেন না। এই ৩৫ বছরে তিনি যে আর কি হারিয়েছেন তা তিনিই জানেন। কিন্তু গ্রিনকার্ডের স্বপ্ন যখন পূরণ হলো- তখনই পরপারে চলে গেলেন দরবার হোসেন। এটা আসলে নিয়তির খেলা।’

উল্লেখ্য, দরবার হোসেনের দেশের বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ে। তিনি ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এখানে পায়ের নিচে মাটি পাওয়ার জন্য তাকে গত ৩৫ বছর ধরে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার দুটো ছেলে রয়েছে, দু’জনই আইটি বিশেষজ্ঞ। তারা নিউইয়র্কের বাইরে কাজ করেন, একজন ওহাইয়োতে অন্যজন মিশিগানে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত