ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২১, ১৮:৫৬

প্রিন্ট

বার্লিনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

বার্লিনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

জার্মানি প্রতিনিধি

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যেগে পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বিশেষ এই দিনটিতে সংক্ষিপ্ত আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য ছিল জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ভিডিও চিত্র প্রদর্শণী ও আলোচনা সভা ও দোয়া কামনা।

অন্যান দেশের মত জার্মানিতেও এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপন করার কথা থাকলেও করোনার পরিস্থিতির খারাপ হওয়ার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি তবে জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী শিশুকিশোরদের জন্য আগামী ২০ তারিখে সংক্ষিপ্ত চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার ব্যাবস্থা করেছে বার্লিনের এই দূতাবাস কতৃপক্ষ।

কর্মসূচির শুরুতে করোনার বিধিনিয়ম মেনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ একাত্তরের রনাঙ্গনে শহীদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পরে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জার্মান ও বার্লিন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও অন্যান অঙ্গসংগঠনসহ সর্বস্তরের প্রবাসীরা। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রর প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা। দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর জীবন নির্মিত তথ্যচিত্রটিও।

এসময় জাতির জনকের জীবন সংগ্রাম ও দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, জার্মান ও বার্লিন আওয়ামী লীগের নেতা মিজানুর খান, শাহ আলম, মাসুদুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী রুবেল, নোমান হামিদ, সুমন রানা শেখ, সুর্য কান্ত ঘোষ, মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী।

আলোচনায় আরো অংশ নেন যুবলীগ নেতা বদিউজ্জামান, মাইনউদ্দিন, পিন্টু আলম, রাশেদ খান, রেদোয়ান, লিখন ও হাসান আহমেদসহ আরো অনেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এই আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন সত্যিকারের বড় একজন নেতা।

বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।

সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

এসময় দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত