ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২৬

প্রিন্ট

পথ আলাদা, তবুও বিতর্কের ঝড়

পথ আলাদা, তবুও বিতর্কের ঝড়
ফাইল ছবি

বিনোদন ডেস্ক

শাকিব খান-অপু বিশ্বাস। দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একযুগেরও বেশি সময় শীর্ষে ছিলো এই জুটি। ক্যারিয়ারে তুঙ্গে থাকা মুহূর্তে ডুব দেন অপু বিশ্বাস। কোথাও নেই তিনি। অবশেষে যখন দেখা দিলেন তখন যেনো একপ্রকার ‘বোমাই ফাটালেন’। প্রকাশ্যে আসে তাদের গোপন বিয়েসহ সন্তানের খবর। হঠাৎ এমন কাণ্ড ভালোভাবে নিতে পারেননি শাকিব খান। ফলশ্রুতিতে দ্রুতই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। ফলাফল বিচ্ছেদ।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের কথার (আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে...) মতো দুজনের চলার পথ এখন আলাদা। তবে কোথাও যেন দুই প্রাক্তনকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দেয় বিতর্কের ঝড়।

তবে এক দশকের পরে গোপন বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনার আরো নেপথ্য কারণ আছে। কয়েক বছর আগে দেশের আর এক নায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে শাকিব একটি ছবি তোলেন। ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ার করেন বুবলী। এর পরই অপু-শাকিব সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একইসঙ্গে জল্পনা কল্পনায় লাগাম দিতে তাদের গোপন বিয়ের কথা প্রকাশ করেন অপু।

ছবি: সংগৃহীত

তবে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে শাকিব খান উল্লেখ করেছিলেন, অপু তাদের সন্তানকে বাড়িতে পরিচারিকার ভরসায় রেখে, নিজের পুরুষবন্ধুর সঙ্গে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শাকিবের দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, স্ত্রী অপু তার নির্দেশ মেনে চলেন না।

তবে বিচ্ছেদের পরে সে বছরই জন্মদিনে নিজের নতুন ছবির কথা ঘোষণা করেন অপু। মনে করা হচ্ছিল শাকিব খানের সঙ্গে সাংসারিক টানাপড়েনের জন্যই অপুকে নতুন সিনেমায় কেউ সই করাচ্ছিলেন না। অবশেষে ৩ বছরের সেই খরা কাটিয়ে ব্যস্ততার মূল স্রোতে ফিরে আসেন তিনি।

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা, বিয়ের পরেও ছবিতে অভিনয় করে যাওয়া নিয়ে শাকিবের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় অপুর। সন্তানের জন্মের পরেও অপু অভিনয় চালিয়ে যাবেন, সেটা মেনে নিতে পারেননি শাকিব। অন্য দিকে ক্যারিয়ার ছাড়তে রাজি ছিলেন না অপুও।

বিচ্ছেদের পরে অপু জানান, তিনি আরো বেশি করে কাজ করবেন। কারণ ছেলেকে ভালভাবে বড় করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অর্থের যোগান প্রয়োজন। পাশাপাশি, পর্দায় অভিনয় তাকে আলাদা পরিচয় দেয়।

ছবি: শাকিব খান-বুবলী

এদিকে বিচ্ছেদের পরেও সন্তান আব্রাহামের জন্য সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন শাকিব এবং অপু। অনেক দিন দেখা না হলেই কাজের মাঝে আব্রাহামকে মিস করেন শাকিব। ছেলের জন্যই মাঝে মাঝে দেখা করেন এই প্রাক্তন দম্পতি।

এক দশকের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার পরে শাকিব এবং অপু দু’জনের কেউই আর বিয়ে করেননি। ব্যক্তিগত জীবনে একা থাকতে থাকতেই নিজেদের আরো বেশি ডুবিয়ে দিয়েছেন কাজের মধ্যে।

ছবি: শাকিব খান-অপু বিশ্বাস

শাকিবের জন্ম ঢাকায়, ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ। লেখাপড়ায় মেধাবী শাকিব মার্শাল আর্টেও দক্ষ। নিজেই জানিয়েছেন, তার শৈশব ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু স্কুলের পর থেকেই ছোটবেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে থাকে। পরিবর্তে, শাকিব আগ্রহী হন সিনেমায়।

১৯৯৯ সালে তার প্রথম ছবি ‘অনন্ত ভালবাসা’ মুক্তি পায়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ‘ঢালিউড’-এ পায়ের নীচে জমি মজবুত করেন শাকিব। তার অভিনীত ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘সবাই তো সুখি হতে চায়’, ‘বিষাক্ত নাগিন’, ‘শিকারি’, ‘স্ত্রীর মর্যাদা’, ‘স্বপ্নের বাসর’, ‘নয়ন ভরা জল’, ‘পিতার আসন’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মনের জ্বালা’, ‘মাটির ঠিকানা’, ‘কোটি টাকার প্রেম’, ‘মনের ঘরে বসত করে’, ‘কিং খান’, ‘আদরের জামাই’, ‘দেবদাস’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘বসগিরি’, ‘রাজনীতি’, ‘চালবাজ’, ‘নোলক’ এবং ‘শাহেনশা’।

ছবি: শাকিব খানের উল্লেখযোগ্য সিনেমা

২০১৮ সালের ছবি ‘ভাইজান এলো রে’ ছবির সুবাদে শাকিব হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি বিনোদনের দুনিয়ার ‘ভাইজান’। আবার বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে তাকে ঢালিউডের ‘কিং খান’ও বলা হয়েছে। ওপার বাংলাতেও তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়।

ছবি: একফ্রেমে শাকিব, অপু, আব্রাম।

অন্যদিকে অপুর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশের বগুড়া জেলায়। উপেন্দ্রনাথ ও শেফালি বিশ্বাসের ৩ মেয়ে এবং ১ ছেলের মধ্যে অপু ছিলেন সবথেকে ছোট। জন্মের পরে তার নাম ছিল অবন্তী। পরে অভিনেত্রী জীবনে তিনি পরিচিত হন নতুন নামে। ২০০৬ সালে অপু প্রথম অভিনয় করেন ‘কাল সকালে’ ছবিতে। তার কেরিয়ারে উল্লেখযোগ্য ছবি হল ‘দেবদাস’ এবং ‘মাই নেম ইজ খান’। দু’টি ছবিই বলিউডের মূল ছবি থেকে অনুপ্রাণিত। ‘দেবদাস’-এ অপু অভিনয় করেছিলেন পার্বতীর ভূমিকায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত