ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২১, ১৮:২৫

প্রিন্ট

খানসামায় সাদা সোনা খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন

খানসামায় সাদা সোনা খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন
খানসামায় সাদা সোনা খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর

দেশিয় সাদা সোনা হিসাবে খ্যাত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে কৃষকরা ব্যাপক হারে রসুনের আবাদ করেছেন। অল্প দিনের মধ্যেই চাষিরা তাদের সাদা সোনা খ্যাত রসুন ঘরে তুলতে পারবে আশা করছে। বিগত বছরগুলোতে রসুনের ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ব্যাপক সফলতা পায় রসুন চাষিরা। উৎপাদিত রসুনের ভালো দাম পাওয়ায় প্রতিবছর রসুন আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও উপজেলায় রসুনের বাম্পার ফলনের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন রোপণ করা হয়েছে।

সরে জমিন ঘুরে খানসামা উপজেলার জুগীরঘোপা, কায়েমপুর, জোয়ার, কাচিনীয়া, আগ্রা, গুলিয়ারা ও গোয়ালডিহি গ্রামে রসুন চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমের শুরুতে রসুনের ভালো দাম না থাকলেও শেষ সময়ে এসে রসুনের ভালো দাম পেয়েছে কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপকহারে রসুন আবাদ করেছেন। এ ছাড়া এবার রসুন বীজের অঙ্কুরোদগমও ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং প্রয়োজনীয় সেচ ও সার পাওয়ায় রসুনের চারা এখন দ্রুত বেড়ে চলেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রসুনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

রসুন চাষি ধীমান দাস জানান, প্রতি একর জমিতে রসুন চাষে শ্রমিক ও চাষ বাবদ খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। আর বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ বাবদ খরচ হয় আরো ৩০ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি একরে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে একর প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ মণ রসুন পাওয়া যায়। গড়ে প্রতি মণ রসুন আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা করে হলে দাম পাওয়া যায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মতো।

কাচিনীয়া গ্রামের মহেশ আলী জানান, আমাদের কাচিনীয়া হাটে সারা বছর রসুন বিক্রি হয়ে থাকে তাই এই এলাকার রসুন চাষিরা স্বল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে রসুন বিক্রি করতে পারে। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ রসুন চাষ করে থাকে।

পাকের হাট শাহপাড়ার মনোয়ার হোসেন জানান, প্রতি বছর তিনি ৫ বিঘা জমিন রসুন চাষ করেন এ বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন। রসুনের গাছ সবুজ থেকে এখন হলুদ হতে শুরু করেছে। অর্থাৎ রসুন মাড়াই করার সময় এসেছে। আশা করছি এ বছরও ফলন ভালো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, বর্তমানে খানসামায় কৃষকদের কাছে রসুন অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। খরচ কম ও অধিক লাভ হওয়ায় বর্তমানে এই ফসলের ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। রসুন চাষে কৃষককে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাই এবারও রসুনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত