ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৫৫

প্রিন্ট

ব্যাংকগুলোতে লম্বা লাইন

ব্যাংকগুলোতে লম্বা লাইন
ছবি- নিজস্ব

আসিফ কাজল

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশে চলছে লকডাউন। তবে সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে ব্যাংক, শিল্পকারখানা ও সরকারি বেসরকারি অফিস। তবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে খোলার কারণে বেড়েছে জনদুর্ভোগ, বিঘ্নিত হচ্ছে সেবাদান।

সরেজমিন রাজধানীর সরকারি- বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ও উপ-শাখাগুলো ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবের অগ্রণী ব্যাংকে সকাল থেকেই শুরু হয় লম্বা লাইন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে ১২.৩০ মিনিট খোলা থাকবে। সময় কমে আসায় দেশের ব্যাংকগুলোর চিত্রও যেনো বদলে গেছে বলে বলছেন ব্যাংকে আসা সাধারণ গ্রাহকরা।

রমজান আলী নামের এক গ্রাহক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি টাকা তোলার জন্য। কিন্তু দেখেন কি লম্বা লাইন। মনে হচ্ছে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু আমি টাকা তুলতে পারবো না।

একই ব্যাংকে টাকা জমা দিতে এসেছেন ফায়জান হোসেন। বাংলাদেশ জার্নালকে তিনি বলেন, এটা কেমন সিদ্ধান্ত আমরা ঠিক বুঝিনা। সময় কমিয়ে দেওয়া মানে একটা অযথা বিড়ম্বনা ও ভীড় সৃষ্টি হওয়া। এরফলে জনগণ শুধু ব্যাংক সেবা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে তাই নয়, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে। কারণ লম্বা লাইনে কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছে না। সবাই কাছাকাছি চলে আসছে।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সময় নির্ধারণ করায় চাপ বেড়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকায় কিছুই করার নেই। এরফলে শুধু সেবা গ্রহীতায় নয় আমরা যারা সেবা দিচ্ছি তারাও ঝুঁকিতে আছি।

এদিকে বাসাবো উপশাখার আইএফাইসি ব্যাংকে সকাল থেকে কোন গ্রাহক না থাকলেও আধাঘণ্টা পরেই শুরু হয় ব্যাংকিং লেনদেন।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিকে আমরা ভেবেছিলাম লকডাউনের প্রভাবে কেউ আসছে না। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গেই প্রচুর গ্রাহক জড়ো হন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ টা থেকে ১২.৩০ পর্যন্ত চলছে ব্যাংকিং লেনদেন। এরপর দুপুর দুটো পর্যন্ত হিসাব-নিকাশ এ ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ছুটি হচ্ছে ব্যাংকগুলো। ফলে ব্যাংক সেবার সময় কমে যাওয়ায় যেমন তৈরি হচ্ছে মানুষের ভোগান্তি তেমনি মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব। এরফলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এ বিশষে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এই মুহুর্তে দেখতে হবে সবাই মাস্ক পরছে কিনা, স্যানিটাইজ ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কিনা। এই তিন বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সময় কমে যাওয়ায় ব্যাংকে ভীড় বাড়ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যাংকের উচিত এক ঘণ্টায় কতজনকে সেবা দিবে তার একটা পরিকল্পনা করা। কারণ তারাও ঝুঁকিতে আছেন। আবার গ্রাহকের উচিত ধৈয্য ধারণ করা। যেন একদিনেই তারা সেবা নিতে ব্যাংক শাখায় সবাই জড়ো না হন। তাহলে লকডাউনের কোন সুফল আসবে না।

একে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত