ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৩২

প্রিন্ট

দুই বাংলার সীমান্তে উদযাপিত একুশে ফেব্রুয়ারি

দুই বাংলার সীমান্তে উদযাপিত একুশে ফেব্রুয়ারি
কলকাতা প্রতিনিধি

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র‌ুয়ারি/ আমি কি ভুলতে পারি।’ একই গানের সুরে শুক্রবার সকাল থেকেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের সমরোহে মুখর হয়ে উঠেছে ভারত বাংলাদেশের পেট্রাপোল ও বেনাপোল সীমান্তে।

অমর একুশের সুরে দুই পারের মঞ্চ থেকে ভেসে আসা ‘একই আকাশ, একই বাতাস/এক হৃদয়ে একই তো শ্বাস’গানের সুর যেন বেঁধে রাখে সবাইকে। ২০০২ সালে ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার তথা ভারত বাংলাদেশ যৌথভাবে গঙ্গা পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতির’উদ্যোগে সীমান্তবর্তী প্রায় ২৫টি সংগঠন শুক্রবার সীমান্তের পেট্রাপোল ও বেনাপোলের এই মিলন মেলার সূচনা করে।

বাংলাদেশের বেনাপোল পৌরসভা আর এপারের বনগাঁ পৌরসভার বেনাপোলের শূন্য রেখা থেকে মাত্র ২০০ মিটারের দূরত্বে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’। ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীরা এই দু’ই মঞ্চে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার। দুই বাংলার মানুষ সীমান্তে মিলিত হয় আলিঙ্গনে। মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।

এদিন সকালে আয়োজকরা আগে থেকেই নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপেক্ষায় ছিলেন। শুক্রবার ঘড়িতে যখন সকাল ৯টা, তখন সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে পা রাখেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ পশ্চিমবাংলার কবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের একটি প্রতিনিধিদল। তাদের অভ্যর্থনা জানান ওপার বাংলার যশোরের শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতের বেনাপোল সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। তবে মানুষের চাপ সামলানো ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবার আলাদা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় দুই বাংলার অনুষ্ঠান।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার সময় পেট্রাপোল বেনাপোল চেকপোস্ট পেরিয়ে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পশ্চিমবাংলার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

অন্যদিকে, অমর একুশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায়।

প্রতি বছর এই দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা পৃথিবীতে পালিত হয়। গত পাঁচবছর ধরে উজ্জীবন সোসাইটি, তিওড়, হিলি, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ ভারত এবং ‘আমরা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ও ‘সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত’হাকিমপুর, দিনাজপুর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণে হিলি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পেরিয়ে নো ম্যানস ল্যান্ডে অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করছে।

ভারতের উজ্জীবন সোসাইটি এবং বাংলাদেশের হিলির মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও আলোকিত সীমান্তের যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারত ও বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য আদান প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। এতে ভারতের কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল যোগদান করেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে তাই শিকড়ের টানে ভোর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রান্তিক শহর হিলি সীমান্ত মুখরিত হয়ে উঠল নানা অনুষ্ঠানে। এ দিন হিলি সীমান্তের চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টের ওপারে বাংলাদেশের মাটিতে দুই বাংলার মানুষ পুরনো স্মৃতি ও আবেগের টানে মিলিত হয়ে পালন করলেন ভাষা দিবস। আজ দুই বাংলার মাঝে কাঁটাতারের বেড়া পড়লেও ২১ফেব্রুয়ারির এই দিনটিতে মানুষের আবেগের কাছে তা মুছে যায়। মাতৃভাষা দিবস উদ্ল‌যাপনে একসঙ্গে শরিক হন দুই বাংলার মানুষ।

এপার বাংলার হিলি ব্লকের তিওড়ের ‘উজ্জীবন সোসাইটি’র সম্পাদক সূরজ দাশ, ‘উত্তরের রোববার’-এর পক্ষে কবি ও সমাজসেবী বিশ্বনাথ লাহা, কবি ও গল্পকার গগন ঘোষ, সমাজসেবী বিনয় আগরয়াল, সমাজসেবী দীপক ঘোষ প্রমুখ, এছাড়াও অমূল্য রতন বিশ্বাস, নবকুমার দাস, প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওপার বাংলার সাপ্তাহিক ‘আলোকিত সীমান্ত’-এর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’-এর কর্ণধার লিয়াকত আলী প্রমুখ।

এরপর ভারতের কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যর প্রতিনিধি দলটি বগুড়ার ‘ইন্দো বাংলা ট্যুরিজম সাংবাদিক ফোরাম’এর আয়োজনে ‘বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মঞ্চে’একুশের বইমেলায় কবিতা পাঠ করেন। এই ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ইন্দো বাংলা ট্যুরিজম সাংবাদিক ফোরাম’এর পক্ষ থেকে ভারতের ৫ সদস্য প্রতিনিধি দলকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

আয়োজক সংস্থার পক্ষে মাজেদ রহমান, কমলেশ মোহন্ত শানু এবং জিয়া শাহিন দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক মেল বন্ধন গড়ে তুলতে এমন অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত