ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

পানশিরে তালেবানের স্যুটকেসভর্তি বিপুল ডলার উদ্ধার

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৭

পানশিরে তালেবানের স্যুটকেসভর্তি বিপুল ডলার উদ্ধার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালেবান কয়েকজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে সেখানে দাবি করেন, পানশির উপত্যকায় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর বাড়ি থেকে লাখো ডলার ও সোনার বার উদ্ধার করা হয়। খবর রয়টার্সের।

ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান যোদ্ধারা মাটিতে বসে স্যুটকেসে থাকা ওই নগদ অর্থ ও সোনার বার গণনা করছেন। একজন তালেবান যোদ্ধা জানান, তালেবানের হাতে পানশির উপত্যকার পতনের পরের দিন তারা প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার উদ্ধার করেছেন। আর পরের সময়ে তল্লাশি চালিয়ে ৬২ লাখ মার্কিন ডলার ও ১৮টি সোনার বার উদ্ধার করেন।

আফগানিস্তানে এখন ব্যাপক নগদ অর্থের সংকট চলছে। এখন দেশটিতে এক ব্যক্তি দিনে ২০০ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সম্ভবত অবৈধ সম্পদের খোঁজে এ অনুসন্ধান।

এদিকে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব ব্যাংক হিসাব নিরীক্ষা করে দেখছে তালেবান। তালেবানের চোখে এসব অর্থ অবৈধভাবে উপার্জিত। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এএফপিকে বলেন, এই কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবী, মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা।

দেশটির একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, ‘তালেবান অডিটর’দের একটি দল তাদের ব্যাংকে এসেছিলেন। তারা নির্দিষ্ট কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তার হিসাব যাচাই বাছাই করে দেখেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির প্রশাসনের অধীনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনগণের জন্য আসা বিদেশি সহায়তার লাখ লাখ ডলার লুটপাট করেছে এই প্রশাসন।

স্বয়ং গণির বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের দখল নিলে দেশ ছেড়ে পালান গনি। বলা হয়, যাওয়ার সময় তিনি ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সম্পদ সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তালেবান ক্ষমতায় আসার আগেও দেশটিতে সরকারি কর্মীদের বেতন দেরিতেই পেতে হতো। আর গ্রামপর্যায়ে এক মাসের বেতন পেতে পরের মাসও পেরিয়ে যেত।

তালেবান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট আরও নাজুক হয়েছে। খাবার ছাড়াও অর্থের অভাবে পড়েছে লাখ লাখ আফগান। দুর্দশাগ্রস্ত এই বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থের সংকুলান করতে বাসার কার্পেট, ফ্রিজ, কুশন, ফ্যান, বালিশ, কম্বল, চামচ, থালাবাটি, পর্দা, বিছানার চাদর, ম্যাট্রেস, হাঁড়িপাতিল, থালাবাসন রাখার শেলফ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত