ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক, প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১৩:২২

যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক, প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এত দিন বেশির ভাগ দেশের পণ্যে মোটামুটি একই হারে শুল্ক আদায় করত। কিন্তু এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশভেদে ভিন্ন হারে শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।

পাল্টা শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের পণ্যের প্রকৃত মূল্য বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর। তবে বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে ওঠেনি, বরং প্রতিযোগীদের তুলনায় এটি বাংলাদেশের কিছু সুবিধাও এনে দিতে পারে।

সুতির টি–শার্টের উদাহরণে বোঝা যাচ্ছে পরিবর্তনটি কেমন: গত বছর বাংলাদেশ প্রতিটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ১ ডলার ৬২ সেন্ট দরে। এত দিন পর্যন্ত সেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস আদায় করত ২৭ সেন্ট শুল্ক (গড় ১৬.৫ শতাংশ)। এখন নতুন করে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হওয়ায় একটি টি-শার্টে শুল্ক দিতে হচ্ছে আরও ৩২ সেন্ট। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি টি-শার্ট আমদানিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের খরচ হবে গড়ে ৫৯ সেন্ট (প্রায় ৭২ টাকা)।

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অবস্থা কেমন? ভারত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, তাদের টি-শার্টের রপ্তানি মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও এখন শুল্কের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে আরও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে ভারতের প্রতি টি-শার্টে এখন মোট শুল্ক দিতে হচ্ছে ১ ডলার ২৫ সেন্ট।

চীন, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আগেই চলছিল, তারা ২০২০ সাল থেকেই বাড়তি সাড়ে ৭ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে। বর্তমানে পাল্টা শুল্ক ৩০ শতাংশ ধরা হলে চীনা টি-শার্টে শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৮২ সেন্ট।

ভিয়েতনামের টি-শার্টে গড়ে শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৯৮ সেন্ট। ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ সেন্ট, কম্বোডিয়ায় ৮৯ সেন্ট, আর পাকিস্তানের শুল্ক ৫২ সেন্ট। এর মধ্যে শুধু পাকিস্তানকে তুলনামূলক সুবিধাজনক মনে হলেও, অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে।

ভবিষ্যৎ হুমকি যাদের মনে করা হতো, তারা কোথায়? একসময় মিয়ানমারকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু তাদের ওপর এখন ৪০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে তাদের প্রতি টি-শার্টে শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ১ ডলার ৮৮ সেন্ট, যা বাংলাদেশের রপ্তানিমূল্যের চেয়েও বেশি। তারা এখন কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েছে।

ইথিওপিয়া, যারা আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্টের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এই সুবিধা হারিয়েছে। ফলে তারাও প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাসের মতো শীর্ষ রপ্তানিকারকেরাও চাপে এই দুই দেশ এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাফটা মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আওতায় শূন্য শুল্ক সুবিধা ভোগ করত। কিন্তু এখন নিকারাগুয়া ১৮ শতাংশ এবং হন্ডুরাস ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান ও বিশ্লেষণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৭৬০ কোটি ডলারই ছিল তৈরি পোশাক। এত দিন তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ১৬.৭৭ শতাংশ। নতুন করে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হওয়ায় এই হার আরও বাড়বে। তবে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শুল্ক বাড়লেও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এশিয়ান-ডাফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাস আমাদের প্রতিযোগী নয়। আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের তুলনায় আমরা আগের মতোই আছি। ভারত ও চীনের চেয়ে এগিয়ে আছি। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়ার চেয়ে ১ শতাংশ শুল্ক বেশি হলেও পিছিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ইথিওপিয়াও এখন আর হুমকি নয়। এক কথায় বলা যায়, ৩৫ শতাংশ নিয়ে আমরা যে শঙ্কায় ছিলাম, তা কেটে গেছে।’

সব দিক বিবেচনায়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নীতির ফলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়ে গেছে। বরং অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলক কম শুল্ক এবং স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত