ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১০:০৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারে লড়াই চালাচ্ছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার আশা।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৮৮ থেকে এক লাফে বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। খবর এএফপির।

গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই জোড়া কম্পনে উত্তর ভেনেজুয়েলার অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, ফেটে গেছে কিংবা বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছে। এলাকাগুলোতে এখনও শক্তিশালী আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজে চরম আতঙ্ক ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাসের উত্তরের রাজ্য লা গুয়াইরাতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে এক শিশু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাঁচার জন্য কান্নাকাটি ও চিৎকার করলেও উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবে তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরবর্তীতে শিশুটি মারা যায়। এলাকার অন্য একটি ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও তিনজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেলেও বাসিন্দারা নিরুপায়, কারণ তাদের কাছে উদ্ধারের মতো কোনো ভারী সরঞ্জাম নেই।

কারাকাসের ডোমিঙ্গো লুসিয়ানি হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সম্পূর্ণ একা হাসপাতালে আনা হচ্ছে, যাদের কেউ কেউ শুধু নিজের নাম বলতে পারছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ লা গুয়াইরা অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র সংকটের মুখে স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে সাধারণ মানুষের লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) এই পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছে।

ভেনেজুয়েলার এই স্মরণকালের ভয়াবহতম দুর্যোগে পাশে দাঁড়াতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক দেশ। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো ইতোমধ্যেই তাদের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করার পাশাপাশি ১৫০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের এই সহায়তা হবে অত্যন্ত বড়, দ্রুত ও কার্যকর। এছাড়া চীন, ভারত, ব্রাজিল ও ইরানও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ ভেনেজুয়েলার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন। জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ভেনেজুয়েলাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ১২৬ বছরের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশাল সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।

ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলটি মূলত ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এর আগে ১৯৯৭ সালে এখানে এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

তবে গত বুধবার রাতের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী। ভেনেজুয়েলার এই কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বোগোতা ও উত্তর ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি শহরেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত