ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৩

প্রিন্ট

পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ভারতীয় জওয়ান নিহত

পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ভারতীয় জওয়ান নিহত
অনলাইন ডেস্ক

জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে এক ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে পাক বাহিনী জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কৃষ্ণাঘাঁটি সেক্টরে গোলাগুলিবর্ষণ করলে ওই জওয়ান নিহত হয় বলে জানা গেছে।

জবাবে ভারতীয় বাহিনী পাল্টা গুলি করেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

এর আগে, গত সোমবার পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্স যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জম্মু-কাশ্মীরের কঠুয়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ফরোয়ার্ড পোস্টগুলোতে গুলিবর্ষণ করেছিল। এক কর্মকর্তা বলেন, হীরানগর সেক্টরের মনিয়ারি-চোরগলি এলাকায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সীমান্তের ওপার থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করে জবাব দেয়।

এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলিবর্ষণ করলে ভারতের দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছিল।

সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে যা আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, এ বছর এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩৩ টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে। গত বছরে যা ছিল ১ হাজার ৬২৯ এবং ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬০।

এদিকে, হান্দওয়াড়ায়, তুষার ধসের কবলে পড়ে দুই ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- গানার অখিলেশ কুমার প্যাটেল ও রাইফেলম্যান ভীম বাহাদুর পুন। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ডের পক্ষ থেকে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। নর্দান কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং মৃত জওয়ানদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের উদ্দেশ্যে সমবেদনা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত রাজ্য ঘোষণা করে মোদি সরকার। এর আগের রাতেই সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয় ৮ লাখের বেশি ভারতীয় সেনা। বন্ধ করে দেয়া হয় সমস্ত স্কুল কলেজ। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সার্ভিসসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগও বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার।

কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহসহ ৫ শতাধিক রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বাদ যায়নি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এমনকি শিক্ষকরাও। নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে বন্ধ রয়েছে ওই রাজ্যের পত্র-পত্রিকাগুলোও। ফলে দীর্ঘ ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। প্রায়ই সীমান্তে দু দেশের সেনাদের গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া যায়।

সূত্র: পার্স টুডে

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত