ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৩৮

প্রিন্ট

বসন্তে ঘুরে আসুন তাহিরপুরের শিমুল বাগান

বসন্তে ঘুরে আসুন তাহিরপুরের শিমুল বাগান

Evaly

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

কলিতে ভরে গেছে সারি সারি সাজানো শিমুল গাছের ডালগুলো। ইতিমধ্যে সবুজের আবৃত্ত ভেদ করে কিছু কিছু গাছের ডালে ফুটতে শুরু করেছে রক্তলাল শিমুল ফুল। প্রতি বছরের মত এবারও শীতের শেষ সময়ে বসন্তের আগাম বার্তা এভাবেই জানান দিচ্ছে ভারতের মেঘালয় পাহাড় ও যাদুকাটা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগান।

বাগানের পাশের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানে ফ্রেরুয়ারির শুরুর দিকে পুরোদমে শিমুল ফুল ফুটতে শুরু করবে। মাঘের শেষ দিক থেকে ফাগুন মাস পর্যন্ত শিমুল বাগানে রক্তিম আভা এই বাগানের মূল আকর্ষন। ইতিমধ্যে সারিবদ্ধভাবে সাজানো অল্প কিছু গাছে পাপড়ি মেলেছে শিমুল ফুল। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে অল্প সংখক পর্যটক ও দশনার্থীরা আসছেন এই শিমুল বাগানে। এছাড়াও শীত,বর্ষায় সব সময় শিমুল বাগানের সৌর্ন্দয উপভোগ করতে দল বেঁধে ছুটে আসে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা। ফলে হাওর,পাহাড় নদী ও শিমুল বাগানের সৌন্দর্য সব মিলেমিশে মানিগাঁও গ্রামটি হয়ে ওঠেছে প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থান মানিগাওঁ গ্রাম সংলগ্ন শিমুল বাগানটির অবস্থান। স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়,সম্প্রতি বাগানে আগত পর্যটকদের জন্য বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে একটি খাবার হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য করা হয়েছে বসার ব্যবস্থা। এতে করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপকৃত হবে বলে জানান বাগান মালিকপক্ষ।

জানাযায়, ২০০২সালে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে ৯৮বিঘা অনাবাদী জমি ক্রয় করে বানিজ্যিক ভাবেই এই শিমুল বাগান তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি এবাগানে সারিবদ্ধ ভাবে ৩হাজারের বেশি শিমুল চারা রোপন করেন। শুরু থেকে এপর্যন্ত ১৮ বছরের ব্যবধানে সেদিনের শিমুল চারাগুলোর ডালপালা পুষ্প পল্লবে এক অতুলনীয় দৃষ্টিনন্দন বাগানে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় এই বাগানে বিভিন্ন ছবি,নাটক ও গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং হচ্ছে।

এই বাগানে বেড়াতে আসা স্থানীয় সোহেল আহমেদ সাজু, আবুল কাশেম, মাসুদসহ অনেকেই বলেন, এই বাগানটি দেখতে অসাধারন এবং তিনি এত বড় শিমুল বাগান দেশের কোথাও আর দেখেননি। নদী,পাহাড় আর শিমুল বাগান প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা এখানে। যার ফলে বাগানের ভিতরটায় গেলে এক অন্য রকম ভালো লাগার জন্ম নেয়। হারিয়ে যাওয়া যায় অন্য এক অজানা ভুবনে।

শিমুল বাগানের প্রতিষ্টাতা জয়নাল আবেদিনের ছেলে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আপ্তব উদ্দিন বলেন,আমার বাবা একজন বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন। তিনিই যাদুকাটা নদীর তীরে এই শিমুল বাগান তৈরি করেন। বাবা নেই, আছে তারেই রেখে যাওয়া এক অনবদ্য সৃষ্টি। যার জন্য এখনও সবাই আমার বাবার কথা মনে করছেন। বাবার রেখে যাওয়া এই দৃষ্টি নন্দন শিমুল বাগানটি আমি দেখাশুনা করছি। পাশাপাশি আর কীভাবে এর সৌন্দর্য বাড়োনো যায় সেই চেষ্টাও করছি।

তিনি আরো জানান, এই বাগানটিকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য পারিবারিকভাবে জেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট করারও চেষ্টা করছেন তারা।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সরাসারি বাসে সুনামগঞ্জ যাবেন। সুনামগঞ্জের আব্দুল জহুর সেতু থেকে সিএনজি বা মটর সাইকেলে করে যাবেন লাউড়েরগড় বাজার। এতে জন প্রতি একশত টাকা খরচ হবে। চাইলে সিএনজি রিজার্ভ করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া বেশি লাগবে। লাউড়েরগড় বাজার পার হতেই যাদুকাটা নদী। আর এ নদী পার হলেই পৌঁছে যাবেন অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত শিমুল বাগানে।

শিমুল বাগানের আরও কিছু ছবি

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত