ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৩৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

নারী-পুরুষের চুল পড়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৮  
আপডেট :
 ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:১২

নারী-পুরুষের চুল পড়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
ফাইল ছবি

নারী কিংবা পুরুষ, সবারই চাওয়া থাকে মাথাভর্তি যেন ঘন ও কালো চুল থাকে। মাথায় চুল রাখতে ও তার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অনেকেই রকমারি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কিন্তু অনেক পুরুষেরই মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণ চুল উঠে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। ফলে একপর্যায়ে টাক হয়ে যায় মাথা। যা নিয়ে বিব্রতবোধ করেন অনেকেই।

এদিকে যেসব নারীদের মাথার চুল ধীরে ধীরে পড়ে যেতে থাকে, তারাও বিরক্তবোধ করেন। নারীরা মনে করেন, দীঘল কালো চুলই তাদের সৌন্দর্যের বড় উপাদান। কিন্তু চুল পড়ে গেলে করণীয় কী? রকমারি উপাদান ব্যবহার করেও অধিকাংশ সময় কার্যকরী ফল পাওয়া যায় না। এমনকি অনেক সময় চুল পড়ে যাওয়ার কারণও জানা যায় না।

চুল নারী-পুরুষ উভয়েরই এক সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর মাথা থেকে অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৌশিক লাহিড়ি জানিয়েছেন, নারীদের তুলনায় পুরুষদের চুল বেশি পড়ে।

এ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, একটি বিষয় মনে রাখবেন, মানুষের মাথায় অনেক বেশি চুল থাকে। প্রায় লাখ পরিমাণ চুল। এই বিশাল পরিমাণ থেকে প্রতিদিন ১০০ চুল পড়া সাধারণ। একইভাবে নতুন করে ১০০টি চুল গজানোও স্বাভাবিক।

তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ছেলে ও মেয়েদের চুল পড়ার কারণ আলাদা। ছেলেদের চুল পড়ার কারণ অধিকাংশ সময়ই বংশগত হয়ে থাকে। প্রকৃতি চায় পুরুষের মাথায় যেন চুল না থাকে। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে টাক চায় না! তাহলে মেয়েদের চুল পড়ে কেন?

কৌশিক লাহিড়ি বলেন, রক্তাল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, পরিবারের অন্য কারও এ ধরনের সমস্যা কিংবা কোনো ধরনের স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ, কোনো একটির ঘাটতি খুঁজে বের করি আমরা। সেটি ঠিক করতে পারলে মেয়েদের চুল পড়া বন্ধ করা যায়।

এ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, অনেক সময় ৭০ বছরের নারীদেরও খুব সুন্দর চুল দেখা যায়। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। কখনো চুল স্ট্রেটনিং ও কালার করানো ঠিক নয়। এতে চুলের ক্ষতি হয় ও চুল পড়ার ঝুঁকি থাকে।

জেনে নিন কোন কোন কারণে চুল পড়ে যায়।

১. অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা বংশগত

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া জেনেটিক। এই অবস্থার পুরুষদের মাথার উপরের অংশ থেকে চুল কমে যেতে থাকে এবং আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই অবস্থা হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তবে বয়ঃসন্ধির পর যেকোনো সময়ে এটি শুরু হতে পারে। অনেক নারীদের মেনোপজের পরে এই অবস্থা দেখা দিতে পারে। হরমোন এতে ভূমিকা রাখে।

২. গর্ভকালীন বা গর্ভধারণ পরবর্তী সময়ে

গর্ভকালীন বা গর্ভধারণ পরবর্তী সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এই কারণে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ধরনের চুল পড়া একটি অস্থায়ী অবস্থা এবং সাধারণত এক বছরের মধ্যে বা তার আগেই সমাধান হয়ে যায়।

৩. টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম

স্বাস্থ্যকর চুলের ফলিকল বৃদ্ধির চারটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। চুলের ফলিকল চুলকে ঠেলে দেয় এবং অ্যানাজেন পর্যায়ে এটি বৃদ্ধি পায়। ক্যাটাজেন পর্যায়ে চুলের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং টেলোজেন পর্যায়ে স্বাভাবিক চুল পড়া শুরু হয়, এক্সোজেন পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়। টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে চুল চক্রের টেলোজেন পর্যায়ে থাকে। এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়ে। টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কিছু সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে প্রসব, অস্ত্রোপচার, তীব্র মানসিক চাপ, দ্রুত ওজন হ্রাস, থাইরয়েড কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধ।

টেলোজেন এফ্লুভিয়াম সাধারণত একটি অস্থায়ী অবস্থা যা সময়ের সাথে সাথে সমাধান হয়, তবে কারণ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে যদি ডাক্তার সন্দেহ করেন যে কোনও ওষুধ চুলের ক্ষতি করছে, তবে কম ডোজ বা ওষুধ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।

৪. অ্যানাজেন ইফ্লুভিয়াম

অ্যানাজেন ইফ্লুভিয়ামের কারণে চুলের চক্রের অ্যানাজেন (বৃদ্ধি) পর্যায়ে প্রচুর পরিমাণে চুল দ্রুত পড়ে যায়। এর কারণে মাথার পাশাপাশি ভ্রু এবং চোখের পাপড়িসহ শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে চুল পড়ে যেতে পারে। অ্যানাজেন ইফ্লুভিয়ামের সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কেমোথেরাপি বিকিরণ থেরাপি, ছত্রাক সংক্রমণ কিংবা নির্দিষ্ট রোগ।

৫. অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা

অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা হলো একটি অটোইমিউন অবস্থা যার কারণে হঠাৎ করে চুল পড়ে যায়। ইমিউন সিস্টেম শরীরের অন্যান্য সুস্থ অংশের সঙ্গে চুলের ফলিকলকে আক্রমণ করে। মাথার ত্বকের চুল, ভ্রু এবং চোখের পাপড়ি পড়ে যেতে পারে এই অবস্থার কারণে।

৬. ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া

ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া হলো টাইট করে চুল বাঁধার কারণে চুল পড়া। অতিরিক্ত টেনে বাঁধার কারণে চুল ভেঙে যায় এবং আলগা হয়ে যায়। টাইট বান বা পনিটেল বা এক্সটেনশনের কারণে এমন অবস্থা হতে পারে।

৭. ওষুধ

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে। এই জাতীয় ওষুধের উদাহরণগুলোড় মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ধরনের ব্রণের ওষুধ, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, বিটা-ব্লকার, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, হরমোনযুক্ত ওষুধ বা থাইরয়েডের ওষুধ।

৮. জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার চুল পড়ার কারণ হতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে। জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল খেতে চাইলে এমন ধরন বেছে নেওয়া জরুরি যার কম অ্যান্ড্রোজেন সূচক রয়েছে। এটি চুল পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্যান্য রূপ যা হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করে, যেমন ইমপ্লান্ট চুল পড়ার কারণ হতে পারে। আমেরিকান হেয়ার লস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যাদের জেনেটিক চুল পড়ার ঝুঁকি বেশি তাদের নন-হরমোনাল ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল বেছে নেওয়া উচিত।

৯. পুষ্টির ঘাটতি

বায়োটিনের অপর্যাপ্ত মাত্রার কারণে চুল ভেঙে যায় এবং ঝরে পড়ে। আপনি যদি পর্যাপ্ত ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল এবং শাকসবজি না খান, তবে শরীরের জন্য আয়রন শোষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আয়রনের ঘাটতি চুল পড়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে বা সম্পূরক গ্রহণ করে কমাতে পারেন চুল পড়ার হার।

১০. দাদ

রিংওয়ার্ম বা দাদ একটি ছত্রাক সংক্রমণ যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে। টিনিয়া ক্যাপিটিস হলো মাথার ত্বকে দাদ যা চুল পড়ার অস্থায়ী কারণ। এর সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকে বা ত্বকে আঁশযুক্ত এবং বিবর্ণ রিংয়ের মতো ছোপ, ফোসকা বা চুলকানি, ভঙ্গুর চুল।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত