ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০৮

প্রিন্ট

অর্ণব সান্যালের খেদ ও তামাশার গল্প

অর্ণব সান্যালের খেদ ও তামাশার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক

নেলসন অর্ণব সান্যালের প্রথম গ্রল্পগ্রন্থ ‘শুধুই কোম্পানির প্রচারের জন্য’। তার গল্পগুলোর নিগৃঢ় আলাপে খানিকটা মুখ ডুবাতে চাই। কারণ সে কালি নয়, রক্ত দিয়ে গল্প লেখে। যত বিষ, সব শুষে নিয়েও আবার তা উগড়ে দেয় বলে নগর নীলকণ্ঠ নয়। এখানে শ্বাস রুদ্ধ হয় অহরহ। পরিপাটি জীবনের খোঁজে নামা মানুষেরা হরহামেশাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পালাতে চায় নগর থেকে। আনমনে বলে ওঠে, ‘নাহ আর নয়।’

প্রতি সকালে এই মানুষেরা রাস্তায় নামে কাজে বা অকাজে। আবার সন্ধ্যায় বা রাতে ফিরে যায় ঠিকানা নামের আজব ফোকরে। আবার কেউ কেউ ফেরে না, পড়ে থাকে রাস্তাতেই—এই তার ঠিকানা। এই রাস্তারও গল্প থাকে। রাস্তায় থাকা মানুষ, এখানে হেঁটে চলা মানুষ, চলতে গিয়ে টক্কর লাগা মানুষ, গাছ ও নদীদের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষ কিংবা কখনো আসেনি, আসবে না এমন মানুষের গল্পও ধারণ করে এ নগর। নগরের গল্প তাই বিচিত্র সব মানুষের থাকা, না থাকা, বাঁচা, না বাঁচার গল্প। এ গল্প খেদ ও তামাশার।

এ গল্প সেই আশ্চর্য মোহরের, যার একপিঠে থাকা কয়লার আগুনে বেড়ে চলে অন্য পিঠে থাকা করপোরেশন। এই সব গল্পই আছে অর্ণব সান্যালের কাছে। অর্ণব সেইসব চরিত্রের অনায়াস গল্প বলেছে, যারা নায়ক হওয়ার সম্ভাবনার জাবর কাটতে কাটতে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠান বা আরও ভালো করে বললে ব্যবস্থার জাঁতাকলে নিজের পিষে যাওয়া দেখে নির্লিপ্ত চোখে। কেউ কেউ জাঁতাকলকেই সত্য মেনে এর কলকবজায় তেল দিয়ে চলে।

এ এমন এক ব্যবস্থার গল্প, যা ব্যক্তিকে ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে অলক্ষ্যে গড়ে চলে এক আত্মহননের কল। আর এমন গল্প বলতে গিয়ে অর্ণব কোনো অহেতুক আড়াল খোঁজেনি। চোখে চোখ রেখে সরাসরি গল্প বলা সহজ নয়।

গল্পগ্রন্থ: শুধুই কোম্পানির প্রচারের জন্য। লেখক: অর্ণব সান্যাল। প্রকাশক: দ্যু প্রকাশন। পাওয়া যাবে বইমেলায় ৭০৪ নম্বর স্টলে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত