ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২

প্রিন্ট

বৈরী আবহাওয়ায়ও মেলায় বইপ্রেমীরা, বিদায়ের হাতছানি

বৈরী আবহাওয়ায়ও মেলায় বইপ্রেমীরা, বিদায়ের হাতছানি
জোবায়ের আবদুল্লাহ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ মেলা শেষ হতে আর মাত্র ২দিন বাকি। মেলায় বিদায় হাতছানি দিচ্ছে। এখন মেলায় বিক্রি ভালো হবে এটাই আশা সব প্রকাশকের।

মঙ্গলবার কর্মদিবসে বইমেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কমলেও প্রকৃত বইপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি ছিলো।

এদিকে, সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি, সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে মেলায় মঙ্গলবার দর্শনার্থী কম এসেছে। তবে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে যারা এসেছেন তাদের বেশিরভাগই মেলা থেকে বই কিনেছেন।

মঙ্গলবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার উভয় অংশ (বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঘুরে প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানান, মেলায় অন্যান্য দিনের তুলনায় ছুটির দিনগুলোতে সব ধরনের মানুষের উপস্থিতি অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। তবে গতকালের বৃষ্টি এবং আজকের মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দর্শনার্থী কম হয়েছে মেলায়। তবে যারাই স্টলগুলোতে এসেছেন, তাদের অধিকাংশই আজ বই কিনেছেন।

গ্রন্থমেলার শুরুর দিকে মেলায় দর্শনার্থীরা আসতেন বইয়ের মলাট দেখতে। পছন্দ হলে কেউ কেউ বই কিনতেন। কেউ আসতেন সেলফি তোলার জন্য। তবে এখন দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। এখন মেলা শেষের দিকে। আর তাই মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অধিকাংশই আসছেন শুধুমাত্র বইয়ের টানে।

অন্য প্রকাশ, তাম্রলিপি, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, কাকলী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, পার্ল পাবলিকেশন্স, অবসর প্রকাশন, অনন্যা প্রকাশনী,নালন্দা প্রকাশনী, অনিন্দ্য প্রকাশসহ বড় বড় স্টলগুলোতে আজ বিক্রি ভালো।

অন্য প্রকাশের মিডিয়া এন্ড সেলের দায়িত্বে থাকা টিপু বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আস্তে আস্তে মেলা শেষ হয়ে আসছে। প্রথম দিকে মেলায় শুধু দর্শনার্থী ছিলো। তাদের বেশিরভাগই ঘোরাঘুরির জন্য মেলায় আসতেন। অল্প সংখ্যকই তখন বই কিনতেন। তবে এখন মেলা একদমই শেষের দিকে। তাই মেলা যত শেষের দিকে যাচ্ছে, তত আসল বইপ্রেমীদের সংখ্যা বাড়ছে।

পার্ল পাবলিকেশন্সের বিক্রয়কর্মী সাজ্জাদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘মেলা এখন প্রায় শেষ। আর মাত্র দুই দিন বাকি আছে মেলা শেষ হওয়ার। মেলার প্রথম দিকে দর্শনার্থীরা এসে শুধু বই দেখত। তবে এখন যারা মেলায় আসছেন, তাদের বেশিরভাগই বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য আশার দিক।’

মেলায় নতুন বই: অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিনে আজ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে নতুন বই এসেছে ১৮৫টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ২০টি, উপন্যাস ৩১টি, প্রবন্ধ ১২টি, কবিতা ৫৬টি, গবেষণা ৭টি, ছড়ার বই ৮টি, শিশুসাহিত্য ৬টি, জীবনী ১১টি, রচনাবলি ২টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ২টি, নাটক ৫টি, বিজ্ঞান বিষয়ক বই ২টি, ভ্রমণকাহিণী ২টি, ইতিহাস ২টি, রাজনীতি ১টি, চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য ২টি, রম্য/ধাঁধা ১টি, ধর্মীয় ১টি, অনুবাদ ১টি, এবং অন্যান্য গ্রন্থ এসেছে ১২টি।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান: বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্রজন মৃণাল সেন, আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন: শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ম. হামিদ, তপন বাগচী এবং বিধান রিবেরু। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, মৃণাল সেন, আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন এই তিন চলচ্চিত্রজন পশ্চিম ও পূর্বের চলিচ্চিত্রশিল্পকে দেশীয় প্রেক্ষিতে যেমন ঋদ্ধ করেছেন, তেমনি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও পরিচিতি দিয়ে গেছেন। তিনজনই তাদের সময়ে ঘটতে থাকা সমাজ-ইতিহাসকে তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রের কাজের মাধ্যমে শাসন করেছেন এবং নিজেদের সক্ষমতার সাক্ষার গেছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন মানে নিজেদের গর্বিত ইতিহাসকে সামনে আনা। একইসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও সাহস সঞ্চয় করা।

আলোচকবৃন্দ বলেন, মৃণাল সেন, আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন বৃহৎ বাংলা চলচ্চিত্র-বিশ্বের তিন স্মরণীয় নাম। ভিন্ন প্রেক্ষিতে কাজ করলেও তাদের চলচ্চিত্রকর্মের মধ্যে অভিন্ন ঐক্যও পরিলক্ষিত হয়। এই ঐক্য মানবিক বোধ এবং সাধনার। মৃণাল সেনের চলচ্চিত্রে যেমন ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্তের পলায়ন এবং সংগ্রামের আখ্যান তেমনি আমজাদ হোসেনের চলচ্চিত্রে অমর একুশে থেকে বাংলাদেশের নিত্যকার বাস্তব উদ্ভাসিত হয়েছে অনন্য ব্যঞ্জনায়। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণে আনোয়ার হোসেন যে বিশিষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন তা তুলনারহিত।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, মৃণাল সেন, আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন এই তিন গুণী চলচ্চিত্রজনকে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে হারিয়েছি আমরা। বাংলা চলচ্চিত্রজগৎ ঋদ্ধ হয়েছে তাদের নানামাত্রিক ও বহুবর্ণিল অবদানে। বাংলা একাডেমি একুশের আয়োজনে তাদের স্মরণ করে আমার সবার শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন ফারুক মাহমুদ, সাদ কামালী, কামরুল হাসান, মাহমুদ শামসুল হক এবং জফির সেতু।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি সাজ্জাদ শরিফ, বায়তুল্লাহ কাদেরী, শামীম রেজা, জাহিদ মুস্তফা, হাসান মাহমুদ, রাসেল আশেকী, মাসুদ হাসান, মাশুক চৌধুরী, সুহিতা সুলতানা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সুপ্রভা সেবতী, মনিরুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মো. সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উজান’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, প্রিয়াংকা গোপ, সুমন মজুমদার, এ.কে.এম শহীদ কবীর পলাশ, মাহবুবা রহমান।

বুধবারের কর্মসূচি: বুধবার গ্রন্থমেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বইমেলা : উদ্যোগ ও অর্জন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ওসমান গণি, রেজানুর রহমান, ফরিদ আহমদ দুলাল এবং জালাল আহমেদ। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত