ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ২০:০২

প্রিন্ট

কবি সুকান্ত’র ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী

কবি সুকান্ত’র ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আজ সোমবার বিদ্রোহ ও কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতার যাদবপুর ১১৯ লাউডন স্ট্রিটের রেড অ্যান্ড কিওর হোমে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে কবির পৌত্রিক বাড়ির স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পামাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে কোটালীপাড়া উদীচী সংসদ। এসময় কোটালীপাড়া উদীচী সংসদের সভাপতি অশোক কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক রতন সেন কংকন উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে, ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুকান্ত। বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য। মা সুনীতি দেবী। জন্মের আগেই তার পূর্বপুরুষেরা গোপালগঞ্জ ছেড়ে ভারতে যান। ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও কবির পিতৃপুরুষের নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। কবি সুকান্তের পিতা নিবারণ ভট্রাচার্য্য কলিকাতার কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার সুবাদে কবির পরিবারকে কলিকাতাই থাকতে হতো।

উনিশ শতকের গোড়াতে বিট্রিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ সময় বিপ্লববাদী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের ভেতর থেকে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্ক্সবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

তার রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো- ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে ‘সুকান্ত সমগ্র’ নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসংঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

দীর্ঘদিন কবির পরিবার কলিকাতায় অবস্থান করার কারণে তার পূর্ব পুরুষের ভিটাটি বেদখল হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৯ বছর বেদখল থাকার পরে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবির বাড়ি দখল মুক্ত হয়। দখল মুক্ত হওয়ার পরে কবির পৈত্রিক ভিটাটি দীর্ঘদিন শূন্য অবস্থায় পড়েছিল।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জেলা পরিষদ কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন। এখানে কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর মার্চ মাসে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোনো বছরই বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। এ ব্যাপারে অনেকই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বুলু বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরতে হলে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে জাকজমক পূর্ণভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা উচিৎ। শুধু বাৎরিক একটি মেলা করে বাঙালি জাতির কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। কবি সুকান্তকে বাঙালি জাতির কাছে তুলে ধরতে হলে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close