ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ২১:৩৩

প্রিন্ট

ভাতফুল ও অন্যান্য কবিতা

ভাতফুল ও অন্যান্য কবিতা
সেলিম মণ্ডল

শিশুগাছ

মূলস্রোত থেকে বেরিয়ে

শিশু গাছটির মাথায় হাত বুলিয়ে দাও

চুমু খাও, আলিঙ্গন করো

কাঠ থেকে আগুন নিভে গেলে

পাতা জড়ো হয়

সেখানে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া

মৃত পরিবেশবিদ্যা জানে না

কুড়োল আর কোদালের চলাফেরা

তুমি মূলস্রোত থেকে বেরিয়ে এসে দেখো

ল্যাংটো শিশুটি কেমন গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে

ওকে একটা বীজ উপহার দাও

ওকে একটা দেশ উপহার দাও

জেলের জীবন, জলের জীবন

আমি একটা নৌকার কথা বলতে চাইছি, সেই নৌকা

যা বাপ-ঠাকুরদার সময় থেকে আজও ঘাট বদলায়নি

ঘাট বদলালে পাড় পাওয়া সহজ ভেবে যে বন্ধু

মাঝির কাছে কিছু খুচরো ধার করেছিল - সে জানত না

সব নৌকোতে চড়ে জন্মদিন পর্যন্ত যাওয়া যায় না

আমার অনেকগুলো জন্মদিন পেরিয়ে গেছে

একটা কাগজের নৌকো ছাড়া কেউই আমায় বলেনি

যৌবনকালে ঘাটে যাওয়া বারণ

জেলের জীবন অনেকটাই জলেরই মতন

বাড়তি পাওনা শুধু দু'একটা বাপ-ঠাকুদার মশারী

ভাতফুল।। দুই

ফুল হয়ে ফুটে আছে আজস্র সাদা ভাত

গায়ে ছোপ ছোপ হলুদ-কালো রঙ মিশে

ল্যাংটো শিশু তার উপর দাঁড়িয়ে তুলে নিচ্ছে মুঠো মুঠো

সবারই দুটো চোখ

চশমা নেই, সানগ্লাস নেই - কোটরে ঢোকা দৃশ্যগত!

মা, সেও অন্যদের মত পড়শি মুখ নিয়ে

পুড়িয়ে ফেলে কোমল হৃদয়

আর আমরা সামনে থেকে দেখি-

দূর থেকে ভেসে আসা দামি বিরিয়ানির গন্ধ

যেগুলোও আগামীকাল ভাতফুল হয়ে ফুটতে পারে

যদি, বৃষ্টি না আসে

ঘুম।। তিন

হাতঘড়ি পরে ঘুমোতে বড় ভাল লাগে

মনে হয় আমি এই পৃথিবীতেই আছি

নিজস্ব অক্ষরেখায়

ভুলে যাই, হাতহীন হাতঘড়িতে

খুব সহজেই দেওয়াল গজিয়ে ওঠে

যেখানে মসের চাদরে ঘুমানো হয়ত সহজ

কিন্তু টিক্ টিক্ শব্দে কাঁচা ঘুমও ভেঙে যায়

আমার হাত ঘড়িটা খুলে নাও

একটা দীর্ঘ আদুরে ঘুমের কাছে আত্মসমর্পন করি

জল দাও, শিকড় ছড়াই

।। ১।।

মাটি ছাড়াই হাঁটছি

উচ্চতা বা গভীরতা -

কোনটা সম্পর্কেই আমার বিশেষ ধারনা নেই

বুক খুঁজছি -এই চিরহরিৎ দেশে

আমাকে-একটা আঙুল দাও, একটা কম্পাস দাও

।। দুই।।

পাতা ভেবে একটা ছাগলও

ভূগোলের মানচিত্র চিবিয়ে ফেলে

তারও একটা দিন আছে , একটা পৃথিবী আছে

ভুলে গেছো বাতাসেরও পা নেই

তবুও সে সবার আগে হেঁটে চলে

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত