ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

নৈরাশ্যের দলিল ডাক নাম শূন্য

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৮  
আপডেট :
 ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:০৩

নৈরাশ্যের দলিল ডাক নাম শূন্য
ফাইল ছবি

ফড়িং। ঘাসফড়িং। দিন তিনেকের অতিথি ছিল। আমার পাশে বসে থাকত। তাকে আলতো করে আঙুল কর পিঠে আদর করে দিতাম; সে না ঘুমিয়ে তার না বলা অনেক গল্প শোনাত। গল্পগুলো ছিল অবিকল মানুষের। কবিদের সবাই পাগল বলেন। তাতেও কবি খুশি। কবিরা হন ত্রিকালদর্শী যোগী। সে দেখতে পান আগামী।

কবিরা যা দেখেন, সাধারণের চোখে তা দেখেন না। তার জীবন গল্প শোনে নাম রেখেছিলাম— নৈরাশ্যের দলিল। ডাক নাম শূন্য।

জুতোর ভেতর বেটে মা ইঁদুর বাচ্চা দিয়েছে। বাবা ইঁদুর নাই। মা ইঁদুরের চরম খিদে। তারও মানুষের মতো খিদে। অতিথি ফড়িং ভোজন অভিপ্রায় বুঝতে পেরে ভৎর্সনা করি। সেও মানুষের মতো মাংসাশী স্বার্থপর ও চৌর্য মনের। সবকিছু কেড়ে নেয়া পুঁজিবাদী। তাকে বিশ্বাস করা কঠিন। ঘাসফড়িংটা নিষ্কাম যোগী, সে তার সংসার ছেড়ে মানুষের কাছে মোক্ষলাভে এসেছিল। দেখতে এসে দেখে এখানেও তার বিপদ। সে প্রতিকার চাইলে তাকে তার সমাজে ফিরে যেতে বলেছি। সেখানে তার নিষ্কাম জীবনে সমাজ স্বজাতি বেঁচে থাকা ধর্ম পালন করতে বলেছি।

সে আমার হাত ধরে মানুষের মতো ধর্মান্তরিত হতে চেয়েছিল। আমি তাকে বলেছি — শিষ্য! এ পৃথিবীতে মানুষের অনেক ধর্ম। কেউ নিজে থেকে না চাইলে কোনো ধর্মই তাদের মুক্তি দিতে পারে না। ধর্ম মনে। হৃদয়টাকে পুঁজিবাদী হিংসে খামার না বানিয়ে নিজের মুক্তি আশ্রম বানিয়ে নাও। জুতোর ভেতরে বসে ইঁদুর তার ছানা নিয়ে হাসে। সে ছানাদের বলে, আমাদের ইঁদুর ধর্মে কী বলে জানো? যত পার ভোগ কর। তোমরা মানুষদের যা পার ক্ষতি কর। ওদের শষ্যভূমিতে গমন কর পাকা ধান যত পার খেয়ে নাও। কেটে দাও। তারপরে যত পার অনিষ্ট করে দাও। তারপরে যা পার লুটপাট করে নিয়ে আসো। নগদ যা পাও হাত পেতে নাও। ইঁদুর মাতৃ কুবচন শোনে আস্তে আস্তে ইঁদুর ছানাগুলো বড় হয়।

আমার প্রতি ইঁদুর ছানাগুলোর মনে ছিল মানুষের মতো এক রাজ্য হিংসা। তারা নানাভাবে আমার ক্ষতি করতে চায়। লেখার কলম গর্তে নিয়ে যায়। অফিসের ইউনিফর্ম রাতে গোপনে কেটে যায়। জুতোয় মলত্যাগ সেরে মোজায় ঘৃণা দলা পাকিয়ে থুথু রেখে যায় । তাদের নতুন নতুন ইউটিউবার দৈত্য গুরু শুক্রাচার্য খুঁজে বেড়ায়। আমার গীটারের তার কেটে দেয়। তবলা তানপুরা হারমোনিয়াম কেটে আমার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাদের আদি গুরু শুক্রাচার্যের কৃপায় তারা দখলে নেয়,মানুষের ঘর সংসার শষ্যের মাঠ শহর বন্দর। দখলে নেয় মানুষের মুখের ভাষা নানা সুকীর্তি পুরাকীর্তি প্রবচন মুক্তি পাঠ ভালো উপসংহার।

মানুষ এখন ঘর সংসার ছেড়ে ইউটিউবার ইঁদুর সংসারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নিষ্কাম ঘাসফড়িং নৈরাশ্যের দলিলে ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল পেরিয়ে বাঁচার নামজারি খতিয়ানটুকুর একটি ঠিকানা দলিত জীবনে মানুষ খুঁজে চলেছে।

লেখক: রাজীব কুমার দাশ

কথাসাহিত্যিক প্রাবন্ধিক ও কবি।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত