"আবালবৃদ্ধাঃ বিশ্বং হস্তেন নৃত্যন্তি।"
(আবাল বৃদ্ধ হাতে নাচিছে বিশ্ব)
রাজীব কুমার দাশ
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৪

হবিগঞ্জ শাহরাস্তি মোড় ঘুরে মূল শহরের দিকে পথচলা। মাহুত উপবিষ্ট অশীতিপর কাছাকাছি এক হাতি কাছে এসে শুঁড় উঁচিয়ে কিছু একটা বলতে চায়। মাহুত ব্যাটাকে জিজ্ঞেস করে বললাম," কি হয়েছে? কী চায়...! "
ধুরন্ধর মিথ্যাশ্রয়ী চোখে মাহুত বলল — মামা, হাতি টাকা চায়।
শুঁড়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
সরাসরি জিজ্ঞেস করে বললাম — তোমার কত টাকা দরকার ?
আবাল মানে অবুঝ। তাদের চিন্তার ভাঁজে ভাঁজে তাড়াহুড়ো করে — লঙ্গরখানা সেঁকা রুটি বা কাঁচা ভাজা পরোটার মতো করে এটা ওটা নানান লোভ সুখের বিস্তর অবস্হা। চিন্তার আরো একধাপ এগিয়ে ধরে নিতে পারেন, তারা হাতির পাল বাবা মা হাতির কথা না শোনা, — দলছুট দুষ্টুটা।শেষমেশ তাদের শেষ পরিণতির জন্য তারা তাদের মা বাবা ভাই বোনের সাথে দেখা করা দূরে থাক; বেঁচে থাকা বাকিটা জীবনে মাহুতের আঁকুশি হাতে মা বাবার কথা না শোনা আগবাড়ান দলছুট দুষ্টুমির পরিণতি পথচলা।
পরিণত বয়সে এসে শিকার হাতিরা যখন বুড়ো রাজার প্রমোদ ভ্রমণ,সৌখিন শিকার, রাজ দরবারের মাঙ্গলিক নানান অনুষ্ঠান সেরে মানুষের হিংসা যুদ্ধের প্রথম কাতারে — এমনকী মানুষের ভিক্ষা বৃত্তিতেও এইসব আবাল দুষ্টু হাতি দলছুটের দল যখন মানুষের জন্য যখন ভিক মাগে,—তখন তাদের মাঝেও জেগে উঠে, এক একটি মাউন্ট এভারেস্টসম অনুশোচনার পর্বতমালা।
তাদের মা বাবা হাতি কত কত করে তাদের মানা করে বলেছিল," ওরে ঐরাবত, ওরে পুণ্ডরীক, ওরে বামন, ওরে কুমুদ, ওরে অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, বায়ু, সার্বভৌম, সুপ্রতীক, ঈশান — এই পৃথিবী সংসারে তোমাদের অনেক অনেক কাজ পড়ে আছে। আগে তোমরা তোমাদের নিজেদের অবস্থান দেখে নাও। পরিবার সমাজ দলের প্রধান হতে শৃঙ্খলা শিখে নাও। তোমাদের ধরে নিতে আসা তোমাদের স্বগোত্রীয়দের চিনে নাও। তারাও আমাদের সাথে থাকবে খাবে দাবে। তাদের উপরে ঘাপটি মেরে কৌপিন পরে কাদাটে থাকবে, একজন মানুষ। তোমাদের স্বগোত্রীয়রা তোমাদের আবাল চিন্তার ভাঁজে ভাঁজে নানান রকমের কু-মন্ত্রণা দিয়ে তোমাদের আগবাড়ান দলছুট করে সামনে টেনে নিয়ে যাবে। তখন তুমি চাইলেও ফিরতে পারবে না। যাদের তোমার মা বাবা বাদে তুমি তাদের চিনবে না। আমাদের দলের জ্ঞানী দাদুকে সম্মান করবে।
" আমি নওমুসলিম নারী। আমাকে দয়া করে সাহায্য করুন। " হাতি শুঁড়ের সামনে খালি হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মাঝবয়সী নারী।
সকাল হতে বিজ্ঞদের সমালোচনা করতে না পারা মহান এজলাসে " যাহা বলিব সত্য বলিব " ভীড়ে খালি হাতে সকলেই দাঁড়িয়ে আছে। সকলের হয়েছে নিত্য সুখ বাসনার বিচ্যুত অভিজ্ঞতা।
বোরকা পরা নতুন নামে পরী বিবি বলে চলেছেন —
"হুজুর আদালত। আমি তার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। সে বলেছিল,
"ধর্ম যার যার পরিবার তোমার আমার।" শাহরুখ কুরেইশী আরো বলেছিল, তোমার জন্য আলাদা করে পূজোর ঘণ্টা সময় ঘর থাকবে। নিশ্চিত নিশ্চয়তা বিশ্বাসের সাথে সে আরো বলেছিল," আমিও হব শাখরুখ
খানের মতন। "আমাদের সন্তানদের
ধর্মের স্হানে লেখা হবে বাংলাদেশী।প্রাণীদের মধ্যে হাতিরা হন উন্নততম জ্ঞানী। আমায় কাছে টেনে ইনফ্রাসাউন্ড ও শারীরিক ভাষায় দু'চারটে কথা উষ্ণ অবউষ্ণ হৃদয় থেকে বলে গেলেন।
" আবালবৃদ্ধাঃ বিশ্বং হস্তেন নৃত্যন্তি।"
লেখক: কথাসাহিত্যিক প্রাবন্ধিক ও কবি। মেইলঃ rajibkumarvandari800@gmail. Com.
>এই লেখার সব দায় লেখকের।










