ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ মে ২০২০, ১৩:১৪

প্রিন্ট

এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ কী?

এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ কী?

Evaly

আলাউদ্দিন ভূঁইয়া

এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সুনির্দিষ্টভাবে বললে আমাদের নিজেদের মধ্যে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। যে এন্টিভাইরাস ওষুধটির কথা বলা হচ্ছে (remdesvir) তার ফলাফল দেখি - ওষুধটির প্রয়োগ করার পর একটা গ্রুপের রোগীর ভালো হতে সময় লাগে ১১ দিন।

অন্য আরেকটি গ্রুপে প্রয়োগ না করলে সময় লাগে ১৫ দিন। আর একটি গ্রুপ (যারা ক্রিটিক্যাল রোগী) এর মধ্যে, ওষুধটি প্রয়োগ করার পরেও প্রতি ১০০ জনে ৮ জন মারা গেছে। আর যেই গ্রুপ-এ (ক্রিটিক্যালরোগী) ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়নি তাদের মধ্যে শতকরা ১১.২ জন মারা গেছে। কাজেই মেডিসিন এখনো কোন সমাধান নয়। ভ্যাকসিন আসতে হয়তো আরো ৬/৭ মাস থেকে বছর খানেক লেগে যাবে - কাজেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই এখন একমাত্র প্রতিরোধের উপায়। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও বেশ কয়েকটি দেশ খুব সাফল্যের সাথে এ ব্যবস্থায় মহামারিটি মোকাবিলা করেছে।

আমি আমেরিকার যে স্টেটে থাকি (নিউইয়র্ক) তা হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ আক্রান্তের জায়গা। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা (পরীক্ষা মোতাবেক) ৩,৫৭,৭৫৭ এবং মোট মৃতের সংখ্যা ২৮,৪৩৭। শুধুমাত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তা এখন অনেক কন্ট্রোলে চলে এসেছে।

একদিনে নতুন ইনফেকশন সর্বোচ্চ ১০,৭৯ ৪ জন (এপ্রিল ১০) থেকে এখন ১২৪১ জনে (মে ১৮) নেমে এসেছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, নিউইয়র্ক'র এই অর্জন প্রায় দুইমাসেরও কমসময়ে। যা সম্ভব হয়েছে লকডাউন যা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়ক, আর পর্যাপ্ত টেস্টের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে - আমাদের দেশে প্রায় সমান সময় ধরে লকডাউন চললেও অমরা কিন্তু এখনো সমান সফলতা পাইনি। উত্তর খুঁজলে প্রথমেই জানতে হবে লকডাউন কী?

লকডাউন হচ্ছে আক্রান্ত এলাকার ভিতর ও বাহিরে অবাধ যাতায়াত বন্ধ করা ও সংক্রমণটি প্রতিরোধ করা।

তারপর টেস্ট করে সব আক্রান্তকে তালিকায় এনে এবং তারা যাতে অন্যকে সংক্রমিত না করে সে ব্যবস্থা নেওয়া।আমরা তা কতটুকু সঠিকভাবে ইমপ্লিমেন্ট করতে পেরেছি।আমাদের দেশে এখন প্রতিদিন দশ হাজার টেস্ট হচ্ছে, কিন্তু হওয়া উচিত কমপক্ষে একলক্ষ বা তারও বেশি।

আমাদের সরকার লকডাউন কার্যকরী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা গার্মেন্টস বা গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রি (উদাহরণ: KAFCO সার কারখানা) খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে - এটা সংক্রামক এড়িয়ে করা সম্ভব। বিবিসিতে মার্সেডিজবেঞ্জ'র সিইও'র ইন্টারভিউ দেখছিলাম।

জার্মানিতে মার্সেডিজবেঞ্জ তাদের প্লান্ট'র কর্মচারীদের দুই শিফট-এ ভাগ করে প্লান্ট ওপেন রেখেছে। দুই শিফট হওয়াতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং ইমপ্লিমেন্ট সম্ভব হয়েছে।

সরকার নিশ্চয় সংক্রামক প্রেডিকশন মডেল ব্যবহার করছে। যদি লকডাউন তুলে দেয় তাহলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। এখানে লক্ষ্য রাখা দরকার যে, গরিব মানুষ যাতে অনাহারে না থাকে।

সবশেষে যেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে যে- খুব বেশিদিন আমরা লকডাউন চালাতে পারব না। মানুষ প্রতিরোধ করবে, ঘর থেকে বের হয়ে আসবে, যা হওয়ার হবে - এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। ইতিহাসও তাই বলে।

কাজেই আমাদের এখন তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে হবে - সঠিক লকডাউন এবং পর্যাপ্ত টেস্ট এবং রিয়ালিস্টিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা। নিউইয়র্ক খোলার জন্যে প্রিপারেশন নিচ্ছে এবং তা শুনতেই খুব ভালো লাগছে। আমাদের দেশও আশাকরি খুব শিগগিরই এ উৎসবটা করবে। তার জন্যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সেই প্রত্যাশাই রইলাম। ভাল থাক আমার প্রিয় জন্মভূমি!

Writer: Associate Professor, Icahn School of Medicine at Mount Sinai, USA; Founder and CEO of iHealthScreen Inc., USA

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত