ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৭

প্রিন্ট

‘খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব অনৈতিক’

‘খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব অনৈতিক’
জুয়েল খান

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নানা মহলে মুখোরোচক আলোচনা বেশ পুরনো। এর আগে পুকুর ও খাল উন্নয়ন শিখতে বিদেশ সফরে ১০০ জন র্কমর্কতার প্রশিক্ষণের নামে সরকার ব্যয় করে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এরপর চাষ শিখতে একটি প্রকল্পের আওতায় ৪০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশ পাঠানো হয়।

এবার আলোচনায় এসেছে ভিন্নধর্মী এক প্রস্তাব। খিচুড়ি রান্নার অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশ যাবেন সরকারের ১ হাজার কর্মকর্তা। বিষয়টা এখন নানা মহলে আলোচনার খোরাক যোগাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কী আছে এই প্রকল্পের প্রস্তাবে। জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক এবং ডিপিই কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান বলেন, পাঁচ বছরে ১ হাজার কর্মকর্তাকে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কীভাবে খিচুড়ি রান্না করতে হয় এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে তারা ধারণা নিতে পারবেন।

এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে। এজন্য বিদেশি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পের আওতায় ৫০৯টি উপজেলার শিক্ষার্থীরা এ খাবার পাবে।

খিচুড়ি রান্নার প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকরব আলী খান ‘বাংলাদেশ জার্নাল’কে বলেন, অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের ভ্রমণে তেমন কোনো লাভ হয় না। সুতরাং এই ধরনের প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের বিবেচনা করে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, বাংলাদেশের একটি অতিপরিচিত খাদ্য হচ্ছে খিচুড়ি। তাই খিচুড়ি রান্না কিংবা পরিবেশন শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে প্রস্তাবে প্রজাতন্ত্রের অর্থের অপচয় হয় সেই প্রস্তাব কখনই মেনে নেয়া যাবে না। সুতরাং সরকারি কর্মকর্তাদের খিচুড়ি রান্নার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব সস্পূর্ণ অনৈতিক।

তবে প্রশিক্ষণের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিদেশের স্কুলগুলো দেখিয়ে আনা যায়। সেখানে তারা কীভাবে শিক্ষার্থীদের সেবা করবে, শুধু খাবার নয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিষয় দেখিয়ে আনা যেতে পারে। তবে সেটা কোনোভাবেই কর্মকর্তা পর্যায়ের কেউ নয়, কর্মচারী এবং সর্বোচ্চ শিক্ষক। এছাড়া কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা সম্পূর্ণ কান্ডজ্ঞানহীন প্রস্তাব। বিবেক বিবেচনা লোপ পেয়েছে তাই একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ধরনের প্রস্তাব দেয়ার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের সহনশীলতা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে যা ইচ্ছা করতে পারছে। সুতরাং কোনো ভাবেই এধরনের অবিশ্বাস্য, অবাস্তব প্রস্তাব মেনে নেয়া যায় না।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত