ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪:৫৯

প্রিন্ট

বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ কতদূর?

বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ কতদূর?
রাজীব কুমার দাশ

সবাই বর্তমানের কোলে চেপে ভবিষ্যৎ দেখার স্বপ্নে বিভোর। এক ভীষণ উদ্বিগ্ন চিন্তার রাহুগ্রাসে সুন্দর বর্তমান! সবারই চিন্তা ভালো থাকা। মন্দ চিন্তা-ভাবনা অন্যদের জন্য হলেও সমস্যা নেই তবে নিজের বেলায় ষোলোআনা নিরাপদ ভাবনা চাই-ই।

ভাবনা জগতের সম্রাট কতোজন আছেন জানি না! তবে কৃতঘ্ন অনিষ্টকারী ফকির বাবাদের সংখ্যা এর থেকেও অনেক বেশি। বর্তমানের টুঁটি চেপে ধরে ভবিষ্যৎ বিশ্বাস পরীক্ষার সবাই নিয়মিত ছাত্র। অনিয়মিত কেউ নেই। বিশ্বাসের অবিমৃষ্য খেলায় সবার হাতেখড়ি। মানবীয় বর্তমান ছেড়ে ভবিষ্যৎ অন্ধবিশ্বাসের এক তেলেসমাতি মশাল হাতে নিয়ে যে যার মতো ভবিষ্যৎ সিঁড়ি'র ধাপে ধাপে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে যেখানে কারোর রক্ষা নেই ভবিষ্যৎ তো যোজন দূরে!

সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় হলেও ঔপনিবেশিকতাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ একে অপরের পরিপূরক। ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি মানব সভ্যতার একটি চরম অভিশপ্ত হাইপারসনিক ভাবনা। তবে এ নীতি সবার অজান্তে পৃথিবীজুড়ে সরব নীরবে আমাদের মতো মূর্খদের হাতে ক্রোধ, ঘৃণা, অহঙ্কার, স্বার্থান্ধ অজাচার সভ্যতা মতবাদ বন্দুক দিয়ে শাসন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। অথচ আমার মতো মূর্খরা ঘূর্ণাক্ষরে জানাতো দূরে থাক কল্পনাতেও আসেনি। স্বার্থান্ধ বুর্জেয়া সাম্রাজ্যবাদের কালো থাবা পৃথিবী ধ্বংসের শেষদিন পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত করবে।

মানব মন যারপরনাই দুর্নিবার ভোগী। হাজার দূরে থাক! লক্ষ নিযুত কোটিতেও একজন নিষ্কাম যোগী পাওয়া পৃথিবীর ভাগ্যের ব্যাপার। ভোগ সাম্রাজ্যকে পূর্ণতা দিতে তৈরি হয় যত নতুন-নতুন ফন্দিফিকির স্বার্থান্ধ পলিসি! এসব পলিসি ব্যবহার করে টেনে আনছে- ধর্ম, ভন্ডামি, চরম মিথ্যা, চরম স্বার্থ। প্রস্তরযুগের হাত ধরে আধুনিক যুগ। বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা এখন নিত্যসঙ্গী।

মানব মনে বিজ্ঞানের হাইপারসনিক চিন্তা অদমনীয়! প্রতিমুহূর্ত রেনেসাঁ সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বার্তা নিয়ে টইটুম্বুর অগ্রযাত্রায় যেখানে সুখের নন্দনকাননে ময়ূর পুচ্ছ সৌন্দর্য দেখার কথা সেখানে আমরা তথা বিশ্বময় দেখছি বুলেট বোমা! ধর্ম, অর্থনীতি, অর্থব মিথ্যা স্বার্থান্ধ রাজনীতি, ব্যক্তি পরিবার সমাজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বার্থান্ধ শোষক শাসক গোষ্ঠী/সম্প্রদায়ের চরম টার্গেট আমৃত্যু ভোগ বিলাস!সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিপতি-পুঁজিবাদ। ওদের ভোগের উপাচারে ওরা হাতিয়ার করে ধর্ম, কুটনীতি, শকুনিচাল, নতুন-নতুন পরিস্থিতি, কৌশল! সবশেষে গদি টিকিয়ে রাখতে ‘চেক এন্ড ব্যালেন্স।’

বুর্জেয়া সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদের শেষ পরিণাম বেশ ভয়ঙ্কর! মধ্যযুগের পর বৃটিশদের শেষ সাম্রাজ্যবাদ পলিসি ভাগ, শাসন নীতিতে ক্ষতবিক্ষত এ উপমহাদেশ। কোনো সমৃদ্ধ সভ্যতা এ পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি! যদি ভুল না বলি? এভাবে ধর্মের বিভাজন সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ উপমহাদেশের মানুষকে সমৃদ্ধ-সভ্যতাতো দূরের কথা অন্য মহাদেশে পালিয়ে গিয়ে জীবন বাঁচাতে হবে। সাম্রাজ্যবাদ শত্রুরা বসে নেই, থেমে নেই তাদের দাবার চাল। রাজা-মন্ত্রী কখন হাসবে-কাঁদবে এনারা জানেন। দেশভাগের আগে সরাসরি শাসন করলে ও এখন পরোক্ষ শাসন-শোষণ করছে।

কারোর প্রতি কারো বিশ্বাস নেই। মানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেন না। হালের গর্বিত ফ্যামিলিয়ার সামাজিক যোগাযোগ দিয়ে শুরু করছি। দিন-মাস-বছর যায়, উঠতে বসতে খেতে নাইতে গাইতে টুং টাং আওয়াজ! ক্রর, ক্রর, চ্যাট হচ্ছে! পরিবারের সবারই হাতে মোবাইল। কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় সুযোগ নেই। সবার গোপন জটিল পাসওয়ার্ড! মোবাইল ভেঙে যাবে কিন্তু চরম বিপদেও কেউ কারোর মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না বা সুযোগ নেই।

চ্যাটে প্রেমিক চরম আবেগে যখন বলেন- ‘জানু জানো, আমি তোমায় না পেলে কিন্তু সত্যিই মরে যাব! অপরপ্রান্তের চরম আবেগ থাকা সত্ত্বেও কিছু বলছেন না, জাস্ট হলুদ একটা স্টিকার পাঠান।’

কারণ ‘জানু’ ভালো করে জানেন এটা কথার কথা! সারাদিনে তার জান এ রকমের কম করে হলেও শ’খানেক জানুর জন্য মরে-বাঁচে। মিছেমিছি হাত কাটে-পা কাটে, বুকে লাভ উল্কি-ট্যাটু আঁকে। মানে টাইমপাস, হাফ টাইম, ফুল টাইম প্রেম। এক সময়ে গান শোনায় ‘তোর জন্য গাঁজা ধরেছি, তোর জন্য মদ, তোর জন্য সুরেলা জীবন করেছি সর্বনাশ।’

সবাই চরম স্বার্থরক্ষা করে চলেন। আবেগের পাঁচ বাড়ির দরজা বন্ধ। সভ্যতা কৃষ্টি সংস্কৃতি এমনকি ধর্মের লাগাম পর্যন্ত বহু আগেই সাম্রাজ্যবাদ- বিস্তারবাদীদের হাতে সুকৌশলে ধরাশায়ী হয়েছে। সবাই ওদের তুরুপের তাস হয়ে ধর্ম-কর্ম-বর্মে জিরাফে আছি। সারাবিশ্ব এখন বিস্তারবাদীদের নতুন-নতুন ভীষণ চালে অস্থির। বিশ্বময় সবাই এক চরম অস্থিরচিত্ত নিয়ে কম-বেশ চলছে বলছে। প্রতিদিনই চলার পথে এক ভীষণ পরস্পর অবিশ্বাস্য অবিমৃষ্য অস্থিরচিত্ত সবাইকে তাড়া করছে। এক স্বপ্নহীন নৈরাজ্য নৈরাশ্য আতঙ্কিত, সভ্যতার সংকট চরম ঘৃণা নিয়ে বেড়ে উঠছে একটি প্রজন্ম। এ প্রজন্ম বা আমরা কেউ-ই কী সাম্রাজ্যবাদ-বিস্তারবাদীদের দেখেছি বা চিনি? না চিনি না!

এরা সবাই আমি তুমি সে’তে সুযোগবাবা সেজে ঘাপটি মেরে বসে আছে। অনেক দেরি হয়ে গেছে! সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারবাদীদের ছোবলে আজ উপমহাদেশ দিশেহারা। সমৃদ্ধ সভ্যতা কারোর নেই। চরম হতাশায় জর্জরিত। সবাই কসাইখানার পশুর মতো জাবর কাটছে। একদিন ‘বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ’ দশ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডবে চিরদিনের জন্যে হারিয়ে যাবে না, তো?

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত