ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৯

প্রিন্ট

শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলা ও কপাল বাড়িয়ে সিঁদুর

শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলা ও কপাল বাড়িয়ে সিঁদুর
তোফাজ্জেল হোসেন

গেলো কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণে বলা যায়, শ্রীলংকা সন্ত্রাসের চাষবাসে বিশ্বাসী নয়। কারণ সেখানকার সরকার তাদের দেশে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলার ব্যাপারে এখনো কাউকে গোঁড়ার মতো দোষারোপ করেননি। লংকান প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান উইজার্ডিন তাদের পার্লামেন্টে দাবি করেন, এনটিজে ও জেএমআই নামে দুটি চরমপন্থী ইসলামিক সংগঠন এ হত্যাযজ্ঞে জড়িত। কিন্তু ঘটনার সাথে সাথে কিছু পশ্চিমা মিডিয়া, যেমন বিবিসি, কপাল বাড়িয়ে সিঁদুর নেবার কায়দায় চটাং করে বলে ফেললো, লংকান ন্যাশনাল তাওহীদ আল জামাত এ হামলা চালিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃটেন তামিল গেরিলা প্রধান প্রভাকরণকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে লংকার গৃহযুদ্ধের আয়ুষ্কাল ২৬ বছর করেছিলো এবং বিবিসি তামিলদের সবকিছুকে হালাল হিসেবে প্রচার করতো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস টিমের শ্রীলংকা বিষয়ক পরিচালক অ্যালান কিনানের ধারনা, “এনটিজে সেই গোষ্ঠী যারা গত বছরের একটি ‘ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ’ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু এসব শুধুই ধারনা।

শ্রীলংকা ২০০৯ সালে দীর্ঘ ২৬ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ থেকে পরিত্রান পাবার পর ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিলের সকালে ফের সন্ত্রাসী বোমা হামলায় আক্রান্ত হয়েছে; এ যুদ্ধের দগদগে ক্ষত কখনো শুকাবে না। কিন্তু সেখানে আবারো জ্বলন্ত আগুনে ঘৃতাহুতির মতো ঘটনা ঘটে গেলো। প্রায় পাশাপাশি সময়ে তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে নিষ্ঠুর এই হামলায় এ পর্যন্ত ২৫৩ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত ৫০০’র অধিক, গ্রেপ্তার ৬০ জন সন্দেহভাজন। নিহতদের একজন বাংলাদেশী সহ ৩৫ জনের অধিক বিদেশী। ইতোমধ্যে এ নারকীয় হত্যার নেপথ্যের নায়কদের ব্যাপারে মুহুর্মুহু গুঞ্জনের ডালপালা গজাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের একাংশ হামলাকারিদের আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ‘যার বিয়ে তার খবর নেই / পাড়াপড়শীর ঘুম নেই’। এখনো পর্যন্ত খোদ লংকান সরকার স্পষ্ট করে কিছু দাবি করেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একযোগে ঢাকের কাঠি নাড়তে আরম্ভ করেছে এবং তা লংকান সরকারের মোটেই অজানা নয়। তারা জানে কারা এই বিশ্বে শাক তুলতে তুলতে কেঁচো তুলে ছাড়ে, তারা জানে তামিলদের কারা উস্কে দিয়ে শ্রীলংকায় রক্তগঙ্গা বইয়েছে। যে জাতির মেমোরি যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতিতে ঠাসা, সে জাতি শোনা কথায় লাফ মেরে উঠতে পারেনা। অপপ্রচার রোধে সেখানকার সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্কুল সাময়ীকের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্য, তারা যৌক্তিকভাবেই স্কল্যান্ভ ইয়ার্ড, ইন্টারপোল ও এফবিআইকে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে।

জানা গেছে, শ্রীলংকার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুন্দরা ঘটনার ১০ দিন আগে এ ব্যাপারে অবহিত ছিলেন। এপ্রিলের ১১ তারিখে ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগ পুলিশ প্রধানকে হামলা সংবলিত আগাম বার্তা প্রেরণ করেছে। এ বার্তায় হামলাকারির নাম, অবস্থান, কর্মস্থল, মোবাইল ফোন নম্বর, হামলার স্পট ইত্যাদি তথ্যউপাত্ত উপস্থিত ছিলো। তাহলে open secret একটা বিষয় এত বড় একটা ট্রাজেডির জন্ম দেয় কীভাবে? অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে: এসব ঘটার আগ পর্যন্ত লংকান প্রধান মন্ত্রীর কানে কোনো খবরই পৌঁছায়নি। কিন্তু হামলার সাথে সাথে ভারত হামলাকারির নাম (মুহম্মদ জেহরান, ও আবু মুহম্মদ হাশিম, নিহত) প্রকাশ্যে আনে। ঘটনার প্রথম দিনেই গুজরাটের নির্বাচনি জনসভায় নরেন্দ্র মোদী হামলাটার রেফারেন্স টেনে বললেন যে তিনি ভারতকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করবেন। এ প্রেক্ষিতে হয়ত বিশ্ব একদিন বলবে, ২১ এপ্রিলের হামলাটা বিজেপি’র নির্বাচনি একটা প্রচারও ছিলো।

কাশ্মীরের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গ্রুপ জইশে মুহম্মদ দায় স্বীকার করেছে বলে বিজেপি সরকার প্রচার চালিয়ে থাকে। তারপর যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জইশে প্রধান মাওলানা মাসুদকে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে সচেষ্ট হয়। কিস্তু চীনের ভেটোর মুখে সেটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মজার ব্যাপার হলো, সেই যুক্তরাষ্ট্রই পরে স্বীকার করেছে, আসলে পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলায় কেবলমাত্র পরিবেশ দূষিত হয়েছে, সেখানে মানুষ মরার প্রমাণ মেলেনি। এসবে ধরে নেয়া যায়, ভারত-পাকিস্তানের এখনকার মুখোমুখি অবস্থান বিজেপি’র নির্বাচনি স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছু না। এখানে প্রাসঙ্গিক যে ভেনিজুয়েলাকে নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপিয় ইউনিয়ন উদোম নাচ জুড়ে দিয়েছে।

এএফপি’র এক খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলংকায় ২৫৩ জন নিহতের ঘটনার দায় আইএস নিয়েছে। তবে তারা সেখানে সন্ত্রাসী হামলার দায় নেয়নি। রুশ বার্তা সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, শ্রীলংকান এনটিজে এই সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অপরপক্ষে, আধুনা জুলিয়াস সিজার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রদায়িক এক টুইট বার্তা মোতাবেক, শ্রীলংকায় ইসলামিক জঙ্গী হামলায় ১৩৮ মিলিয়ন নিহত এবং আহত ৬০০ শ’র অধিক। অতি আতিশয্য ও উন্মাষিকতার দরুন উনি ১৩৮ ও ৬০০ সংখ্যা দুটো ব্যবহার করলেও এবার নিহতদেরকে ‘নিহত’ বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি নিউজিল্যান্ডে নিহতদেরকে ‘মৃত’ বলে দাবি করেছিলেন। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের মানুষের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু ইতিবাচক দিকে টার্ন নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সব সোর্সের আঙ্গুল কিন্তু একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের দিকে ধাবিত যা নগ্ন সাম্প্রদায়িকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ। এরকম ঢালাও অভিযোগের কারণে অনেক সময় প্রকৃত অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এবং সমাজে একই অপরাধ অব্যাহত হয়ে বিরাজ করতে থাকে। ১৯৯৫ সালে শ্রীলংকায় কোন ১০৭ জন কাদের দ্বারা খুন হয়েছে, ২০১৩-১৪ সালে Anti-muslim Riot’র নামে কে শিকারি আর কে শিকার তা দক্ষিণ এশিয়া সহ গোটা বিশ্বের সচেতন মানুষ মাত্রেরই জানা আছে।

আচ্ছা, যদি কোনোভাবে কোনো উইংস থেকে এমন দাবি করা হয় যে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের একটা পরোক্ষ কুফল, তাহলে সেটা কি কোনো বোধসম্পন্ন ব্যক্তি মেনে নেবে? আদৌ না, কারণ এটা কেবলই একটা ধারণা যার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অ্যালান কিনান গংরা এরকম কিছু ধারণাই করে চলেছেন যা প্রমাণ করতে শ্রীলংকাকে নিযুত পথ পাড়ি দিতে হবে, কারণ সেখানকার এ নারকীয় ঘটনাটা বৈশ্বিক দাদাগিরির আরো একটি অশুভ লক্ষণ মাত্র। এইতো ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে দেশটির বাত্তিকালোয়া শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে এক অস্ত্রধারী দলের সংঘর্ষে ৬ শিশু সহ ১৫ জন নিহত। এই অস্ত্রধারী কারা? এ ঘটনার পরেই লংকান প্রধান মন্ত্রী জুমার নামাজ ঘরে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ মসজিদে হামলা হতে পারে। কারা করবে এই হামলা? তো, দিনশেষে এটা স্বীকার্যের মতো ধ্রুব সত্য যে এই জঘন্য সন্ত্রাসী আক্রমণ নগ্ন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হয়েছে কিংবা করানো হয়েছে। আর, এটা থেকে লাভের ফসলের সিংহভাগ দাদাদের গোলায় গিয়ে উঠবে। অস্ত্র বাণিজ্যের ফসলটা তো আর খুচরো পয়সায় বিকোয় না।

দাদারা এখন মারণাস্ত্র ব্যবসায়’র নতুন কোনো বাজার হিসেবে দ্বীপরাষ্ট্র গুলোকে বেছে নিচ্ছে কিনা তা কে বলতে পারে? আগে নিউজিল্যান্ড, এখন শ্রীলংকা। সেখানে দীর্ঘ ২৬ বছর কৈ, মাগুরের মতো গেরিলা তৎপরতা জিইয়ে রেখে পশ্চিমারা কিন্তু কম লাভবান হয়নি। তাদের এ্ই লাভ-লোকসানের গেমের মাঝে ভারত রাজিব গান্ধিকে (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) হারিয়েছে।

এখন বিশ্বের মারণাস্ত্র ব্যবসায়’র ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ১০-টি কোম্পানি; যুক্তরাষ্ট্রের ৭-টি (লকহিড মার্টিন, বোয়িং জেনারেল ডায়নামিক্স, বেথিওন ডায়নামিক্স, নর্থ্রপ গ্রুম্যান, এলথ্রি কমিউকেশন্স ও ইউনাইটেড টেকনোলজিস) ও যুক্তরাজ্যের ৩-টি (বিএই সিস্টেম, এয়ারবাস ও ফিনমেকানিকা)। ২০১১ সালে এ গ্রহের বড় ১০০ অস্ত্র ব্যবসায়ী ৪১০ বিলিয়ন ডলার রোজগার করেছে। শ্রীলংকায় আত্মঘাতী বোমা হামলা সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্য এসেছে এসব অস্ত্রব্যবসায়ী দেশের বার্তা সংস্থার মাধ্যমে। কারণ, তাদের দরকার অশান্তি, যুদ্ধ। আর, বিনিময়ে চাই মারণাস্ত্র বাণিজ্য, মালকড়ি। বস্তুতপক্ষে, সমরাস্ত্রে ভরপুর রাষ্ট্রগুলো ‘বরের পিসী আর কনের মাসী’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা দু’দিকে ধার করা রামকরাতের মতো; যেতেও কাটে, আসতেও কাটে। অন্যকে উস্কে দাও এবং তাকে ধরিয়ে দাও এবং ডামাডোল পাকিয়ে তুলে হাতিয়ার বেচে কড়ি হাতাও, মধ্যপ্রাচ্যের তেল এনে নিজেদের ব্যারেল ভরো।

আজকের এই ইরাক, সিরিয়া, আইএসআই_ এসবের মূলে রয়েছে বুশ প্রশাসনের চাপিয়ে দেয়া ইরাক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে সর্বাধিক লাভবান আর্থিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে হলিবার্টন যারা সেসময় ৪০ বিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট পেয়েছিলো। জর্জ বুশের রানিংমেট (ভাইস প্রেসিডেন্ট) ডিক চেনি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ পর্যন্ত এই হলিবার্টনের প্রধান নির্বাহি ছিলেন। তিনি ২০০১ সালে রাজনৈতিক কারণে এ পদ ছাড়েন, যদিও সিএনএন পরে ফাঁস করে দেয় যে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়েও চেনি হলিবার্টনের কাছ থেকে মাসপ্রতি দেড় লাখ ডলার গুনেছেন। আবার, এই চেনিই সিনিয়র বুশের প্রেসিডেন্টশিপের সময় বলেছিলেন, আমেরিকার ইরাক যুদ্ধে যাওয়া ভুল হবে কারণ এর পরিণতি ভয়াবহ।

সত্যিই তো ভয়াবহ, কারণ ইরাক যুদ্ধের পরিণতি বা ফসল হিসেবে বিশ্ব পেয়েছে আইএসআই। এখন এ দায় কার? যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে পশ্চিমারা আগে আলকায়েদার ওপর দোষ চাপাতো। তারপর কল্পিত লাদেনের কল্পিত চ‚ড়ান্ত পরিণতির পর তাদের অসুস্থ প্রেতাত্মা এখন আইএস’র ওপর ভর করেছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী টনি ব্লেয়ার একফাঁকে বলেছেন, আসলেই ইরাক যুদ্ধ ভুল ছিলো। এই একটি মাত্র বাক্যেই কি সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে? এখন আইএস’র কী হবে? কারা এই আইএস? এইতো সেদিন সিরিয়ায় তাদের শেষ ঘাঁটিটার পতন হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আইএস সদস্য গেলো কোথায়? তারা কতজন মরেছে তার পরিসংখ্যান কই? এখন আবার তারা নতুন করে কোন জাহান থেকে উদয় হলো? ট্রাম্প তো মাস তিনেক আগেই তাদেরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। তাহলে আইএস কী ভূত-প্রেত বংশের কেউ বা কিছু? নিশ্চয়ই আইএসরা ভীনগ্রহের এলিয়েন নয়!

নিশ্চয়ই এসব প্রশ্ন এখন শ্রীলংকান কর্তৃপক্ষের অন্তর্দেশে সদা ঘুরপাক খাচ্ছে। নিশ্চয়ই তারা কপাল বাড়ানোদেরকে সিঁদুর দেবেন না। নিশ্চয়ই সেখানকার সরকার মেপে মেপে পা ফেলছেন; পশ্চিমা ভুঁইফোড় প্রচারণায় তারা হাওয়ায় লাফ দিয়ে ঠ্যাং-পা ভাঙতে চাইবে না। এরকম হুজুগে প্রচারে তৃতীয় বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তারা আর না বুঝেশুনে বিষ গিলতে চাইবে না।

আমার জনৈক সচিব ফেসবুক বন্ধু, যাকে স্বশরীরে এখনো দেখিনি, আমার ইনবক্সে একটা আর্টিকেল পাঠিয়েছে। এটার কিয়দাংশ উপসংহার হিসেবে তুলে ধরার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। উনি লিখেছেন: ‘... কেনো পৃথিবীতে আজ আস্ত্রের ঝনঝনানি? জানি না, আমরা কবে একটা মানুষের দুনিয়া পাবো_ এমন একটা দুনিয়া যেখানে কাশ্মীর খেকে ফিলিস্তিন, প্যারিস থেকে অরল্যান্ডো, ক্রাইস্টচার্চ থেকে বৈরুত, মুম্বাই থেকে গুজরাট, পেশোয়ার থেকে কাবুল, লন্ডন থেকে বার্সেলোনা, টুইনটাওয়ার থেকে ইরাক, বেসলান থেকে ইস্তানবুল, ঢাকা থেকে কলম্বো_ যেখানেই যে মারা যাক না কেনো, শুধু ভাববো এ দুনিয়া থেকে আরো একজন চলে গেলো। কিন্তু অপঘাতে মরণ আমরা বরণ করতে অনিচ্ছুক। আজ যারা কলম্বোয় নিহত, তাদের রক্ত নিশ্চয়ই লাল...মানুষ হয়ে মানুষ হত্যার মাঝে কিসের আনন্দ? হে মানবজাতি, আসুন আমরা মানুষের মতো সমাজবদ্ধ হয়ে থাকি...।’ আরেক বন্ধু লিখেছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়ত একদিন বুনো জানোয়াররা ঝগড়াঝাটির সময় একে অপরকে ‘শালা তুই একটা মানুষ’ বলে গালাগাল দিয়ে বসবে।

লেখক: কলামিষ্ট, অনুবাদক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close