ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ১০:১৬

প্রিন্ট

মোবাইল কিনে দেয়ার কথা বলে দাদিকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

মোবাইল কিনে দেয়ার কথা বলে দাদিকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা
ফাইল ফটো
অনলাইন ডেস্ক

দাদি-নানিদের সঙ্গে নাতি বা নাতনিদের সম্পর্ক হয় মধুর। এমনকি বাবা-মায়ের চেয়েও ছোটদের বেশি আদর ও প্রশয় দিয়ে থাকেন পরিবারের এসব সিনিয়র সিটিজেনরা। তাই এসব বয়স্ক স্বজনদের কাছে তার নাতি-নাতনিদের আবদারের শেষ থাকে না। আর সেরকম একজন দাদিকেই কিনা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করলো এক নাতি। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির আল ওয়াতাবা এলাকায়।

সম্প্রতি দাদিকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে যায় তারই এক যুবক বয়সী নাতি। সে দাদিকে গাড়িতে উঠানোর আগেই গাড়ির পিছনে একটি গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেয়। এরপর সে মার্কেটে যাওয়ার বদলে বৃদ্ধাকে আবুধাবির আল ওয়াথবা এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তাদের পুরনো বাড়ি রয়েছে। এরপর সে ওই বৃদ্ধাকে গাড়িতে রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। আর গাড়ির দরজা জানালা সব বন্ধ করে দেয়। তারপর বাড়িতে গিয়ে বসে থাকে।

তার ধারণা ছিলো, সিলিন্ডারের গ্যাস গাড়িতে থাকা দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসলেই গাড়িতে আগুন ধরে যাবে। ওই আগুনে পুড়ে নীরবে মারা যাবে তার দাদি।

কিন্তু গাড়িতে আগুন লাগার বৃদ্ধা বাঁচার জন্য বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা জানালা বন্ধ থাকায় তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে গায়ে আগুন নিয়ে গাড়িতে বসেই সজোরে চিৎকার করতে থাকেন ওই বৃদ্ধা। তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দাদিকে গাড়ি থেকে বের করে আনে ওই যুবক। কেননা তার ভয় হচ্ছিলো, ওই নারীর চিৎকার শুনে বাইরের কেউ এসে পড়লে তার সব কুকীর্ত ফাঁস হয়ে যাবে। এভাবে দাদিকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ওই যুবকের।

তবে প্রাণে বাঁচলেও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ওই বৃদ্ধা তার মুখ, কান, মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের অনেক অংশ অোগুনে ঝলসে গেছে। তার গয়ের শতকরা ২৫ ভাগই দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আদালতে যুবক জানায়, তার দাদি সারাক্ষণ যুদু টোনা করার কাজে ব্রস্ত থাকতেন। আর এ কারণেই সে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো।

তবে তার এই অজুহাত ধোপে টেকেনি। বুধবার ওই যুবকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার দেরহাম জরিমানা বহাল রেখেছে আবুধাবির সর্বোচ্চ আদালত। এমনকি তার আপিল আবেদনেও সাড়া দেয়নি ওই আদালত।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত