ঢাকা, সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:১৬

প্রিন্ট

চট্টগ্রাম-রামগড় মহাসড়ক উন্নয়নে জোর গতি

চট্টগ্রাম-রামগড় মহাসড়ক উন্নয়নে জোর গতি
চট্টগ্রাম-রামগড় মহাসড়ক

মোস্তফা কামাল পাশা

বেলা দুটোয় নগর থেকে যাত্রা করি। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গ্রামের বাড়ি ছিলাম। এবার আগের সড়ক দুর্ভোগ অনেক কমেছে। চট্টগ্রাম-রামগড় মহাসড়কের হাটহাজারী থেকে নাজির হাট অংশ দু'লেইনে উন্নয়ন কাজ দ্রুতই এগুচ্ছে। তাও মাত্র দু'সপ্তাহে।

গত বছর শেষে বেশ ক'বার বাড়ি যাই মহাসড়কের খানা-খন্দক সাঁতরে। ২৮ ডিসেম্বর দেশের সর্বাধুনিক ও বহুমাত্রিক দৈনিক বাংলাদেশ জার্নাল এ অভিমত কলামে উন্নয়নের ধীরগতি ও গণদুর্ভোগের অসহনীয় চিত্র তুলে ধরে তীর্যক কলাম লিখি 'রামগড় মহাসড়ক উন্নয়ন: বলদ না ছাগী' শিরোনামে। কলামটি নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিলে প্রচুর শেয়ারও হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগের মনোযোগেও আসে। পরপরই কাজে গতি আসে।

ঠিকাদারেরা জড়তা ঝেড়ে ফেলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। ফলাফল গতকাল মাত্র সোয়া ঘণ্টার বাড়ি পৌঁছাই। রাস্তায় পানি ছিটিয়ে রোলার মেসিন চালানোয় হাটহাজারী থেকে এনায়েতপুর বাজারের কাছাকাছি পর্যন্ত সড়ক বেশ প্রশস্ত ও মসৃণ হয়েছে। সেতুগুলো ভেঙে প্রশস্ত করায় কিছু সেতুর সংযোগেস্থলে সমস্যা আছে। কাজে গতি থাকলে এগুলোও ঠিক হয়ে যাবে দ্রুত।

নিজের পারিবারিক স্বার্থ সুরক্ষায় এখন প্রতি সপ্তাহে বাড়ি যেতে হয়। বাংলাদেশ জার্নালে দুর্ভোগের সামান্য অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পর কাজে গতি আসায় চলাচলকারীরা খুব খুশি। কাজের গতি ঠিক থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঘণ্টার কম সময়ে চট্টগ্রাম-নাজির হাট ৪২ কি.মি পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

নুরুল আলম একজন সিএনজি চালক। তিনি হাটহাজারী-নাজির হাটে নিয়মিত শেয়ারের যাত্রী টানেন। বুধবার বিকালে এনায়েতপুর বাজারে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে রাস্তা অনেক ভাল হয়েছে। আগে অনেক কষ্ট হতো। রাস্তার খানাখন্দে পড়ে গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আয় রোজগারও বেশ কমে যায়। এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী কথা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে নাজির হাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির বহুদফা নির্বাচিত সাবেক সভাপতি ও আয়কর বিশেষজ্ঞ কাজী মহসিন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী ধলই ইউনিয়নের কাজী বাড়ি। তিনি বহু বছর যাবত সপ্তাহান্তে বাড়ি যান।

সড়ক দুর্গতির কষ্টের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জার্নালকে ধন্যবাদ। আগে কোন মিডিয়া এভাবে সড়ক দুর্ভোগ নিয়ে লিখেনি। আপনার লিঙ্ক পড়ে বুঝেছি, এটা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী কাটির হাট হাইস্কুল, মহিলা কলেজ, মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জড়িত। তিনি চট্টগ্রাম ভার্সিটি এলাকার বাসা থেকে প্রায় প্রতিদিন গ্রামে যান। উন্নয়নসহ স্কুলের ব্যাপক সংস্কার কাজ দেখাশোনা করতে হয় তাঁকে। তিনিও বাংলাদেশ জার্নালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সাথে সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিয়াউল কুদ্দুস, প্রধান শিক্ষক শিমুল মহাজন, হাটহাজারী প্রেসক্লাব সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়াসহ ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অনেকে উন্নয়ন কাজে গতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা হাটহাজারির সময়ের সফল, সক্রিয় ও দক্ষ ইউএনও রুহুল আমিনসহ হাইওয়ে পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের বেআইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করে সড়ক নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টাকেও ধন্যবাদ জানান।

লেখক: জেষ্ঠ্য সাংবাদিক- কলামিস্ট

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত