ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৪৯

প্রিন্ট

‘টাইমলি ম্যারেজ’ নিয়ে যা বললেন আজহারী

‘টাইমলি ম্যারেজ’ নিয়ে যা বললেন আজহারী
ছবি: সংগৃহীত

স্যোশাল মিডিয়া ডেস্ক

বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পবিত্র জীবনযাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ব্যবস্থা করেছে। নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিবাহ হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায় এবং মানুষের চরিত্র ও সতীত্বকে রক্ষার হাতিয়ার।

ইসলাম ধর্মে সন্তানকে সঠিক সময়ে বিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতাই জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী ‘টাইমলি ম্যারেজ’ নিয়ে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। বিয়ের সম্পর্ক— যৌবনের সাথে, ক্যারিয়ারের সাথে নয়। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পড়ে রয়েছে সারা জীবন। যৌবন আল্লাহর দেয়া এমন এক অমূল্য নেয়ামত, যেটা নবায়নযোগ্য নয়। তাই, যৌবনের শুরুতেই বিয়ে করুন এবং হালাল পন্থায় যৌবনকে উপভোগ করুন।

.

অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থানের মতোই বিয়েও একটি বেইসিক নিড বা মৌলিক অধিকার। এটি একটি সহজাত বিষয় যেটাকে ইগনোর করার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে একটি ছেলে অথবা মেয়ে গড়ে পনেরো-ষোল বছর বয়সেই পরিপূর্ণ সেক্সুয়াল অ্যাবিলিটি লাভ করে থাকে। কিন্তু তারা বিয়ের পিড়িতে গিয়ে বসে আরো দশ-পনেরো বছর পর। এই লম্বা সময় ধরে যৌন ক্ষুধা নিবারণের কোন বৈধ সুযোগ কি তাদের হাতে রয়েছে? না, নেই। উপরন্তু বিয়ের প্রশ্ন উঠলেই আসে সামাজিক যতো নিয়ম কানুনের দোহাই।

.

একটি মুসলিম সমাজে এটা অপ্রত্যাশিত, অমানবিক এবং সুস্পস্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। সন্তানের খাদ্য, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা ইত্যাদি চাহিদা মেটাতে, অভিবাবকগণ যতোটা সজাগ এবং সিরিয়াস, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বৈধভাবে যৌন চাহিদা মেটানোর বন্দোবস্ত করাতে তারা ঠিক ততোটাই উদাসীন। নানান অজুহাত, বাহানা আর সামাজিকতার দোহাই দিয়ে, বিয়েকে দিনকে দিন জটিল থেকে আরো জটিলতর করা হচ্ছে।

.

মৌলিক এই চাহিদা মেটানোর বৈধ উপায় যেহেতু রুদ্ধ, তাই অবৈধ উপায়গুলো সেই স্থান দখল করে নিবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ফলে হারাম রিলেশনশিপ, পর্ণগ্রাফি উপভোগ এবং ধর্ষনের মত জঘন্য ঘটনাও আজ দেশের রুটিন নিউজে পরিনত হয়েছে। তাই, নতুন প্রজন্মকে এই ধ্বংস আর অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে, অভিবাবকদের আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

.

আসুন, আমরা অভিবাবকগণও আরো একটু মানবিকতার চর্চা করি। বৈধভাবে যৌন চাহিদা মেটানোর সুযোগকে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য আরো সহজলভ্য করে তুলি। আমাদের অবহেলায়, আমাদের আদরের সন্তানেরা হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে, অভিভাবক হিশেবে আল্লাহ তা’আলার দরবারে আমরা কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারবনা। তাই, আসুন সবাই মিলে— টাইমলি ম্যারেজকে “হ্যা” বলি, আর বিবাহ বহির্ভূত সকল রিলেশনশিপকে “না” বলি। বিয়েকে সহজ করুন, দেখবেন অশ্লীলতার সকল পথ আপনাতেই রুদ্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ছবি: ফেসবুক

.

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:

“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত রয়েছে, তাদেরকে বিয়ে করিয়ে দাও। আর, তোমাদের দাসদাসীদের মধ্যে যারা বিবাহের যোগ্য, তাদেরও বিয়ের ব্যবস্থা করো। যদি তারা গরীব হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা আপন মেহেরবানীতে তাদেরকে ধনী করে দেবেন, আল্লাহ তা’আলা বড়ই প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।”

[সূরা নুর, আয়াত: ৩২]

.

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রা:) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন:

“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ রাখে, তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্রকে হেফাজত করে। আর যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সিয়াম পালন করে; কেননা, সিয়াম তার প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনে সহায়ক।”

[সহিহ বুখারি]

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত