ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২১ মে ২০২১, ১৫:৩৮

প্রিন্ট

গাছে গাছে পাখির নীড় বেঁধে দিচ্ছে তরুণেরা

গাছে গাছে পাখির নীড় বেঁধে দিচ্ছে তরুণেরা
গাছে গাছে পাখির নীড়। ছবি- প্রতিনিধি

সাজেদুর আবেদীন শান্ত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বাইগুনী গ্রামের সাত জন তরুণ মিলে ২০১৪ সালে ‘দূষনমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়বই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গড়ে তোলে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ উন্নয়ন পরিবার’। তাদের প্রধান কাজ দেশিও পাখির নিরাপদ কৃত্রিম আবাস তৈরী, প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র রক্ষাসহ নানা ধরনের সামাজিক কাজ। উপজেলার বাইগুনী, মহিমাগঞ্জ, বগুড়ার সোনাতলাসহ গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাখি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিতভাবে কাজ করছে সংগঠনটি।

বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য ৪০ জন। সাম্প্রতিক সময়ে অবাধ বৃক্ষ নিধনের কারণে পাখিরা তাদের নিরাপদ আবাসস্থল হারিয়েছে এবং খাদ্য সংকটের কবলে পড়েছে। ফলে পাখিদের স্বাভাবিক প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। পাখির প্রতি ভালবাসা থেকে এই সংগঠনটি নিজেদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামে পাখিদের বাসা তৈরি করার মাধ্যমেই সূচনা করে তার পাখি সংরক্ষণ কর্মসূচি।

এছাড়া গ্রামগঞ্জের নতুন প্রজন্মের মানুষ পাখিদের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল না হওয়ায় ব্যাপকহারে মারা যাচ্ছে পাখিরা। এছাড়া ফসল উৎপাদনে বিষাক্ত কীটনাশকের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাখিদের মৃত্যুর হারও বেড়েছে। এই প্রতিকূল অবস্থা থেকে পাখিদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছে ‘পরিবেশ উন্নয়ন পরিবার’।

ইতোমধ্যেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বাইগুনী গ্রামে এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলা চত্বরে তারা পাখির নিরাপদ আবাস তৈরি করেছে। তারা নিজস্ব অর্থায়নে এসব গ্রামে বাখির নিরাপদ কৃত্রিম বাসস্থান তৈরীর জন্য দুই হাজার কলস স্থাপন করেছে। পাখি হত্যা বন্ধ, তাদের বাসা নির্মাণ করে দেয়া ছাড়াও পরিবেশের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ছাড়াও সংগঠনটি আরো কিছু সামাজিক কাজ করে চলেছে।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘লাইসিয়াম’ নামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন, গ্রামীণ অসহায় মানুষদের স্বাস্থসেবা প্রদান, কৃষকদের নিরাপদ ফসল উৎপাদনে পরামর্শ দান, রক্তদান কর্মসূচি, পানি ও নদীদূষণ রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

শালমারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আয়ুব আলী সংগঠন সম্পর্কে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ চার বছর চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দেখেছি যে, তারা এই সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের ছিন্নমূল মানুষের জন্য সহায়তা, সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাতা-কলমসহ শিক্ষা উপকরণ এবং পাখিদের জন্য বাসস্থান দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবামুলক কাজ গুলো করে। আমি সমাজের বিত্তবানদের অনুরোধ করবো আপনারা যদি এই সংগঠনকে সার্বিকভাবে সহায়তা করেন তাহলে এই সংগঠনটির মাধ্যমে অনেক ছিন্নমুল মানুষসহ অনেকেই উপকারিত হবে। পরিবেশবাদী সংগঠনটির আমি সাফল্য কামনা করছি’।

স্থানীয় সমাজ সেবক আলী আজম রুবেল বলেন, ‘সংগঠনের সদস্যরা সুন্দর ভাবে পরিবেশের উন্নয়নমুলক কাজ গুলো করে থাকে। যেমন- পাখির বাসা তৈরি, পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গানো। কোরবানির ঈদে পশু জবেহর পর পশুর রক্ত, বর্জ্য বা বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা কিভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে এবং তা কিভাবে ফেলতে হয় সে সম্পর্কে স্থানীয় মানুষদেরকে বুঝায় এবং সচেতনতামুলক আলোচনা করে। আমি মনে করি আমাদের এলাকার সবার উচিত সংগঠনে কাজে সহযোগীতা করা’।

সংগঠন থেকে সাহায্য পাওয়া মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমি এই সংগঠনের মাধ্যমে একটি টি-স্টল পেয়েছি। এইটার মাধ্যমে আমি এখন খুব সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে চলতে পারছি। আমি সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশাকরি সংগঠনটি এগিয়ে যাবে’।

সংগঠনটির সভাপতি ইমরান এইচ মন্ডল বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে আমাদের সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এ যাবৎকালে আমরা যে কাজগুলো করেছি তার মধ্যে প্রধান কাজ হচ্ছে গাছে গাছে কলস লাগিয়ে পাখির কৃত্রিম বাসস্থান তৈরি করা, ঔষধি বৃক্ষসহ এলাকায় নানা ধরনের বৃক্ষ রোপণ করা, বাঁশের সাকো তৈরি, বছরে দুইবার করে মেডিকেল ক্যাম্প করা, শীতের সময় বিভিন্ন সহায়তা প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা’।

এছাড়াও চলমান মহামারীর সময় সেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করা, এলাকায় বিভিন্ন দরিদ্র মানুষদের আমাদের সাধ্যমত নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকি। আমরা আমাদের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদায় এই কাজ গুলো করে থাকি। নতুন কাজ করলে আমরা সদস্যদের ভিতরেই টাকা কালেকশন করে কাজ গুলো সম্পাদনা করে থাকি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত