ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে

পৃথিবীর প্রাচীন পতাকা ও ভাইকিংসদের আধিপত্য

  শ্রাবণ রহমান

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২২, ২০:০২  
আপডেট :
 ১৭ মে ২০২২, ২০:১৯

পৃথিবীর প্রাচীন পতাকা ও ভাইকিংসদের  আধিপত্য
শ্রাবণ রহমান

যদি জানতে চাই একটি দেশ বা ভূখণ্ডের প্রধান প্রতীক কি হতে পারে তাহলে সবাই উত্তর দিবে পতাকা। হ্যাঁ, পতাকা একটি দেশের সার্বভৌমত্ব প্রকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না, যাদের নিজস্ব কোনো পতাকা নেই।

আমরা অনেকেই বিখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপ অভিনীত 'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান' চলচ্চিত্রটি দেখেছি। এর প্রতিটি পর্বই শিশু থেকে বয়স্ক সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয়।

সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজগুলো বছরের পর বছর ডেপ-এর জাহাজের (ক্যাপ্টেন জ্যাক) বিরুদ্ধে লেগে আছে। আসলে এরা ছিলেন ভাইকিংস, আর এদের মধ্য দুঃসাহসী ক্যাপ্টেন জ্যাক-এর চরিত্রে অভিনয় করেন জনি ডেপ।

তবে চলুন জেনে নেয়া যাক কারা ছিলেন এই ভাইকিংস?

ভাইকিং নামটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের থেকে এসেছে পুরাতন নর্স শব্দ "ভিক" (বে বা ক্রিক) থেকে যা "ভাইকিংস" (জলদস্যু) বা সমুদ্রের জলদস্যুদের বোঝানো হয়েছে।

ভাইকিংসরা অষ্টম শতাব্দীর শেষ থেকে একাদশ শতকের শুরু পর্যন্ত সমুদ্রের অভিযাত্রী ছিলেন। তারা নিজেদের ব্যবসায়ী, অভিযাত্রী এবং যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

মূলত ভাইকিংসরা সমুদ্রের ত্রাস ছিলেন। তারা কলম্বাসের অনেক আগেই আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন এবং রাশিয়ার দূরবর্তী অঞ্চলে যতদূর পূর্বে যাওয়া যেতো প্রথম তাদের পায়ের ছাপই পাওয়া গিয়েছিলো। আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১ শতক পর্যন্ত, বিপুল সংখ্যক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান তাদের ভাগ্যের অন্বেষণে জন্মভূমি ছেড়ে সমুদ্রে যাত্রা করে।

প্রথমে তারা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় স্থানগুলোতে, বিশেষ করে অরক্ষিত স্থানগুলোতে অভিযান চালায়। পরবর্তী তিন শতাব্দীতে তারা জলদস্যু, আক্রমণকারী, ব্যবসায়ী এবং বসতি স্থাপনকারী হিসেবে ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় মহাদেশের বেশিরভাগ অংশে আক্রমণ করে এবং আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড এবং নিউফাউন্ডল্যান্ডের কিছু অংশ তাদের দখলে নিয়ে নেন।

নবম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে ভাইকিংসরা বসতি স্থাপনের পাশাপাশি অভিযানের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করে ইংল্যান্ড দখল করা। ভাইকিংসরা স্কটল্যান্ডের উত্তর দ্বীপপুঞ্জ (শেটল্যান্ড এবং অর্কনিস), হেব্রাইডস এবং মূল ভূখণ্ডের বেশিরভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা প্রথমে আয়ারল্যান্ডের ব্যবসায়িক শহর: ডাবলিন, ওয়াটারফোর্ড, ওয়েক্সফোর্ড, উইকলো এবং লিমেরিক প্রতিষ্ঠা করেন এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যে এবং আইরিশ সাগর পেরিয়ে ইংল্যান্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য আইরিশ উপকূলে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করেছিলো। যদিও তারা পরবর্তীতে ইংল্যান্ড দখল করতে ব্যর্থ হয়।

এদের হাত থেকে ব্রিটিশরা বাঁচার পথ খুঁজতে থাকে এবং সমুদ্রগামী ব্যবসায়িক জাহাজের নিরাপত্তা দিতে ব্রিটিশ সরকার সমুদ্রে তাদের নিজস্ব নৌবাহিনী নিয়োজিত করে। তাদের সাথে ভাইকিংসদের ইঁদুর বিড়ালের মতো সারা বছর যুদ্ধ লেগেই থাকতো। যা আমরা ডেপ-এর সিনেমাতে দেখেছি।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মধ্য ডেনমার্ক ছিলো ভাইকিংসদের স্বর্গ। বলা হয়ে থাকে তাদের পূর্বপুরুষরা এই অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তারা সমুদ্রবিদ্যা সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ছিলেন। যা এখনও বিরাজমান।

সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডেনমার্কে অবস্থিত। তাদের তত্ত্বাবধায়নে সারা বিশ্বের সমুদ্র সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন, রীতিনীতি লেখা হয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্বের সবচেযে বড় মালবাহী জাহাজ কোম্পানি 'মার্স্ক লাইন', যা ডেনমার্ক ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো এই ডেনমার্কের পতাকাই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পতাকা। যা ১২১৭ সালে প্রথম উত্তোলন করা হয়। এবার বোঝা যাচ্ছে, ভাইকিংসদের আধিপত্য এখনও ডেনিশরা বয়ে বেড়াচ্ছে।

যাই হোক, উপরের এতো ইতিবৃত্ত বলার প্রধান কারণ গত সপ্তাহান্তে এই ভাইকিংসদের পূর্বপুরুষের মাটিতে পা রেখেছিলাম। পৃথিবীর আদি পতাকা তলে দাঁড়িয়ে অনুভব করছিলাম তাদের শক্তি ও সামর্থ্য কেমন ছিলো।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী

বাংলাদেশ জার্নাল/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত