ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

হাদি হত্যা মামলায় জাবের কেন বাদী, প্রশ্ন বোন মাসুমার

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১৮:৫৪

হাদি হত্যা মামলায় জাবের কেন বাদী, প্রশ্ন বোন মাসুমার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কীভাবে বাদী হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি। এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি।

মাসুমা হাদি বলেছেন, আমাকে বুঝানো হয় যে, ওমরের (হাদির বড় ভাই) কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে- ‘এখন আমারা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছিনা। উল্লেখ্য যে, এধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোন আইনি জটিলতা নেই । এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে আততায়ীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন তিনি। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি ফেইসবুকে দুটি পোস্টে দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যায় বিএনপি, জামায়াত ও অন্তর্বর্তী সরকারের লোকজন জড়িত। এরপর তাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আক্রমণ শুরু হলে পরদিন এক পোস্টে তিনি লেখেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলা তদন্তাধীন থাকায় আমার পোস্ট প্রত্যাহার করে নিলাম।

হাদি হত্যার পর ওমর হাদিকে যুক্তরাজ‍্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি কেন এই সুবিধা নিয়েছেন কিংবা ওমর বা তার পরিবারের কেউ কেন মামলার বাদী হয়নি এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। অনেকেই লেখেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ পরিবারের কেউ তখন মামলার বাদী হতে চাননি।

হাদি হত্যা মামলার বাদী হওয়া নিয়ে দুদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় ‘নোংরামি হচ্ছে’ মন্তব্য করে মাসুমা লিখেছেন, আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলত চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অবধি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আসে পাশে যারা থাকে, তার পরিবারেকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে।

হাদির বোন লিখেছেন, আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী- সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিক্সায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো, ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো। ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল, সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নিবে, সেই দিন সকালে ওমর এভার কেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।

মাসুমা প্রশ্ন রেখেছেন, মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে কে বলছে যে,আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোন লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সঙ্গে শুক্রবার বিকালে যোগাযোগ করা হলে আরেকজন ফোন ধরেন। তিনি কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য আগে প্রশ্ন জানতে চান। প্রশ্ন শোনার পর ওই ব্যক্তি পাঁচ মিনিট পর যোগাযোগ করিয়ে দেবেন বলে জানান। তবে এরপর একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও জাবেরের ফোন রিসিভ করা হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত