ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

খায়রুল হকের কারামুক্তি অনিশ্চিত, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ২০:০৩

খায়রুল হকের কারামুক্তি অনিশ্চিত, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে এবার বনানী থানায় করা হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর তিনি কারামুক্ত হচ্ছেন মর্মে কয়েকবার তার আইনজীবীরা বলেন। তবে নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন থাকায় তিনি এখনো কারামুক্ত হতে পারেননি।

বনানী থানার এ মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে তাদের শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।

অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এক বছর পর খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিন রাতেই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা, রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের করা পৃথক পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

এ ছাড়া ২০ মে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

এর আগে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক। তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।

গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্ট। আদালত তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত