পর্ব - ১
গল্পের নানান রঙ-বেরঙ অসুখ বিসুখে ভেসে চলে জীবন
রাজীব কুমার দাশ
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৫, ১৬:১৪ আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ১৬:২৪

ডিসি অফিসের লাল মিয়া কেরানি ক'দিন আগে তার সক্রিয় কর্মময় জীবন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সফল চাকরি জীবনে তার অনুতাপ কিংবা খেদোক্তি যা ই আছে; তা হলো তার পাঁচ সন্তানের
একজনও বিসিএস ক্যাডার হতে না পারার অনুশোচনা।
কী ছিলো না কেরানি লাল মিয়ার?
তীক্ষ্ণ উপস্হিত বুদ্ধি,শাণিত সন্মোহনী নেতৃত্ব,রাশপুতিন চাহনি,তাৎক্ষণিক কানভারী ছোগলখুরি! তার কেউ প্রতিপক্ষ মনে হলে কিছুদিনের মাঝে দফারফা হয়ে যেত। সে কারণে পারতপক্ষে কেরানি লাল মিয়া সিন্ডিকেটকে সমীহ করা বাদে কেউ খোঁচা দিতে চাইতো না।
মন্ত্রণালয়ের বাঘা বাঘা মন্ত্রী কিংবা বড় কেরানি সচিব সরকারের দেয়া নানান অনুদান হয়ে ডিসি সাহেবের নয় ছয় কাগজে কলমে আছে,অথচ বাস্তবে নাই,এমন প্রজেক্ট জলমহাল ও খাস জমির বন্দোবস্ত ফাইল নিয়ে ডিসি সাহেবকে কখনো উপরে কৈফিয়ত দিতে হয়নি। ডিসি সাহেব আসে যায়, লাল মিয়া কেরানি সিন্ডিকেট থেকেই যায়।
দেখতে দেখতে বছর ত্রিশেক সময় পেরিয়ে যায়। ডিসি সাহেবদেরও প্রমোশন হয়। তাঁরাও একসময় সচিবালয় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সচিব হন। লাল মিয়া কেরানি মাঝে মাঝে আক্ষেপ করে ফোন করে তাঁদের বলেন,স্যার, আমি লাল মিয়া।
: তোমরা আছো কেমন ?
- স্যার, আর বলিয়েন না। আপনার মতো বড় মনের মানুষ আর কোনোদিন কপালে জুটবে না। আপনি চলে যাবার সাথে ধীরে ধীরে আমাদের রিজিক ও বরকত চলে গেছে।
: কিছুটা রাজকীয় শ্লেষ বক্রোক্তি হাসিতে ...কী যে বলেন না লাল মিয়া!
আমি সবকিছু জানি। ডিসি'কে ফোন টোন করে আপনার ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করতে পারব না। আপনিত তাঁর ব্যাপারে সবকিছু জানেন।
- হ। জানি স্যার। তাঁর বাবা ছিলেন, আপনার অফিসের মাষ্টার রোলের ঝাড়ুদার চাঁদ আলী। আপনি চলে যাবার সময় আপনাকে বয়ে কয়ে মাষ্টার রোলে চাকরির ব্যবস্হা করেছিলাম।
: শোনেন,লাল মিয়া। সময়ের সাথে সাথে মানুষ নিজেদের পাল্টে নেয়। আমার কী ই বা করার আছে? আমি আপনার ব্যাপারে কাকেইবা সুপারিশ করে বলবো? আপনিই বলেন। আমাদের পরের কয়েকটা ব্যাচ বাদে সরকারি বেসরকারি চেয়ারগুলো পেরিয়ে রাজনীতির নেতা পাতি নেতা দেন দরবার হয়ে সবখানেই দেখি,- চা দোকানি, ঝাড়ুদার রিক্সা ড্রাইভার থানার দালাল ড্রাইভার পিয়ন কুলি ডোম সন্তানেরা রাষ্ট্রযন্ত্রের খোপে খোপে যে যার মতো করে বসে গেছে।: আপনার সন্তানেরা কে কী করছেন?
- স্যার,আর বলিয়েন না। বড় সন্তান বিসিএস ট্রাই করেছে কয়েকবার। মানুষের সুখের পরে দুঃখ ঝড়ে পড়ে অবিরত বলে সে এখন মধ্যপ্রাচ্যে ঘাম ঝড়িয়ে সুখের প্রায়শ্চিত্ত করছে। অন্য সন্তানেরাও ছোটখাটো কিছু না কিছু করে চলেছে।
সব্যসাচী সচিব ড. মহসীন সাহেব খানিক নিশ্চুপ সময় জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে চলেছেন। কিছু সময় আগে তাঁর সচিবালয় অফিসে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেখা করে গেলেন,তাঁদের পারিবারিক বর্গাচাষার দুই ছেলে আর্মি ও বিসিএস পুলিশ অফিসার। সচিব সাহেবের গুণধর সন্তান,- দেশের অন্যান্য ঘুসখোর সরকারি বেসরকারি চাকুরে,সন্ত্রাসী নেতা পাতি নেতা ডাকাত ব্যবসায়ীদের সন্তানদের মতো, তাকেও বিদেশ পাঠিয়ে পড়ালেখা, সেটেল করেননি বলে - তাঁর দোষ ধরে বেড়ান।
- স্যার, লাইন কেটে দিলেন?
: না, বলেন লাল মিয়া।
- স্যার, রাজু ভাইয়ার কী অবস্হা?
: না, কিছু করছে না। বিসিএস ট্রাই করেছিল দু'বার।
- স্যার, আপনাকে কত করে বলেছি, বিদেশ পাঠিয়ে সেটেল করে দিন। আপনার হাতে কত কত সুযোগ ছিলো।
: লাল মিয়া। আপনিত আমার সবি জানেন। আমার নীতি নৈতিকতা
আদর্শ।
- তা জানি স্যার। আপনার প্রবচন এখনো কানে বাজে। স্কুল,কলেজ মাদ্রাসা ভিজিট সময়ে বলে বেড়াতেন -
" ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ। "লেখক: গল্পকার
বাংলাদেশ জার্নাল/এজেএইচ










