ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২১, ১৯:৩৭

প্রিন্ট

গ্রেপ্তার জঙ্গিদের পুলিশের উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল

গ্রেপ্তার জঙ্গিদের পুলিশের উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল
মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে সিটিটিসির ইনভেস্টিগেশন বিভাগ আনসার আল ইসলামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ ও বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গ্রেপ্তারকৃত চার সদস্য। এছাড়া চক্রটি টেলিগ্রাম আ্যপসে সায়েন্স প্রোজেক্ট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করেছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় অভিযান চালিয়ে সেই টিমের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। রোববার (৯ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

সিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. জসিমুল ইসলাম ওরফে জ্যাক, মো. আব্দুল মুকিত, মো. আমিনুল হক ও সজীব ইখতিয়ার। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ব্যাগ, একটা চাপাতি, পাঁচটি স্মার্টফোন ও দুইটি উদ্ধার করা হয়।

সিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গ্রেপ্তার সদস্যরা ঢাকা ও সিলেটে পুলিশ ও বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এ চক্রের বাকি দুই সদস্য হিজরতের উদ্দেশে আফগানিস্তান গিয়েছে। গ্রেপ্তার এই চারজনেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করে কথিত হিজরতের মাধ্যমে আফগানিস্তান পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তারা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার উদ্দেশে রেকি করে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সদস্যরা নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ বাস্তবতায়নের লক্ষ্যে অনলাইনে টেলিগ্রাম আ্যপসে সায়েন্স প্রোজেক্ট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইস পর্যালোচনা করে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাবাদে তারা জানিয়েছে, তারা সংগঠনের আদর্শ বাস্তবতায়নের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোহাম্মদপুরে এসে একত্রিত হয়। আনসার আল ইসলামের দায়িত্বশীল বা মাসুল ফরিদ ওরফে তারিক আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় সামাজিক যোগাযোগ আ্যপস গ্রুপ ও অনলাইনে গোপনীয় টেক্সট নামের সিক্রেট চ্যাটিং আ্যপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

আসাদুজ্জামান আরো বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তাররা সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশে সিলেটের কোতয়ালি থানা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে হোটেল ম্যানেজারকে আহত করে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. জসিমুল হক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। মো. আব্দুল মুকিত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার মারকাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। মো. আমিনুল হক সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং মো. সজীব ইখতিয়ার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত