এমপিকে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি, থানায় অভিযোগ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৭

ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ১১ জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাশিদ।
হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে স্থানীয়রা চিহ্নিত করেছেন। তিনি তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের প্রয়াত জব্বার আলীর ছেলে মো. সোহরাব হোসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিএনপির একজন কর্মী।
ভিডিওতে মুহাম্মদুল্লাহকে উদ্দেশ করে সোহরাব বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নিয়ে কথা বললে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং পুনরায় রাস্তায় নামলে তার অবস্থা খারাপ করে দেওয়া হবে। বক্তব্যজুড়ে তিনি রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
হুমকির বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি আগে বিষয়টি শুনেছিলাম, তবে এইমাত্র পুরো ভিডিওটি দেখলাম। এখন আইনগতভাবে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটি জানতে উপজেলা থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”
হুমকির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। তারা উসকানি দিয়ে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। কেউ তাদের সঙ্গে এসব করতে যাচ্ছে না বলেই তারা এমন আচরণ করছে।”
ভিডিওতে মোতাহার হোসেনের নাম উল্লেখের বিষয়ে মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, “ভিডিওতে তো সরাসরি বলা হয়েছে, তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে ফেলবে। বিষয়টি বোঝার আর কিছু নেই। অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে তালুকদার সাহেবের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গেছে।”
হুমকির ভিডিওতে নিজের নাম আসা নিয়ে জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জের।
তিনি বলেন, “যে ছেলেটার বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, আমারও কোনো বিষয় নয়।”
ভিডিও প্রকাশের পর ওই ব্যক্তিকে তা মুছে ফেলতে বলেছেন বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলেছি, এটা তোমার ব্যক্তিগত বিষয়, ব্যক্তিগতভাবেই সমাধান করো। ভিডিওটি ডিলিট করো। পরে সে ভিডিওটি ডিলিট করেছে।”
হুমকি দেওয়া ব্যক্তির দলীয় পরিচয় প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন বলেন, বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই। সংগঠনের কোথাও তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তার প্রতিনিধি থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। প্রয়োজন হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হুমকির বিষয়ে জানতে বিএনপি কর্মী সোহরাব হোসেনকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র: বিডিনিউজ
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম









