ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৫৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ১৮:২১

প্রিন্ট

বাজেট প্রত্যাখ্যান বিএনপির

বাজেট প্রত্যাখ্যান বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০-২১ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, বাজেট লুটপাটকারী, ধনিকশ্রেণি ও আমলাতন্ত্র-নির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত হয়েছে এবং তাদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস পরবর্তী এক অনলাইনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে একটি লুটেরা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। এ বাজেট লুটপাটকারী, ধনিকশ্রেণি ও আমলাতন্ত্র-নির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত হয়েছে এবং তাদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে।’

‘২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমেই বোঝা যায় এই বাজেট স্রেফ একটা সংখ্যানির্ভর মোহাবিষ্ট ধুম্রজাল সৃষ্টিকারী বাজেট’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘সংখ্যানির্ভর মোহাবিষ্ট এই বিরাট বাজেটের ৬৬ শতাংশ আসবে রাজস্ব আয় থেকে। যা একেবারেই অসম্ভব। অবশ্য বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘টাকা কোথা থেকে আসবে সে চিন্তা আমরা করিনি” তিনি বলেছেন, আগে টাকা খরচ করি তারপর দেখা যাবে। তাই এবারের বাজেট ধুম্রজাল সৃষ্টির তামাশার বাজেট ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সরকারের বিগত বাজেটগুলোর মত এ বাজেটেও লুটেরা সরকারের ধনিকশ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবার বাজেট, এই বাজেট করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট কৃষিক ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের কর্মক্ষম বেকার মানুষকে এবং নতুন করে বেকার হওয়া মানুষকে বেকার রেখে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট গরীব মানুষের সুবিধা কমিয়ে ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বৃদ্ধির বাজেট, সর্বোপরি এই বাজেট রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকারীদের আরও সুযোগ বৃদ্ধির বাজেট। তাই এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

কালো টাকার মালিকদের কথায়ই শুনলেন অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘কালো টাকার মালিকদের টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন এমন সমালোচনা থাকলেও তা তোয়াক্কা করেনি সরকার। সবচেয়ে বড়কথা সরকারের অন্যকোন কর্তৃপক্ষ এই টাকার উৎস নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে পারবেনা। অথচ একজন সৎ করদাতাকে ৩০ শতাংশ পর্য ন্ত কর দিতে হবে। এ বাজেট মানুষকে অসৎ হবার প্ররোচনা দেবার বাজেট।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে গত ৩০ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার একটি অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট পাশ হয়েছে। যাকে অর্থনীতিবিদরা স্বপ্নবিলাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত করার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এবারের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রত্যাশিত র্দীঘ আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। আর গত ১৫ জুন অনির্ধারিত ২৩ জুন বর্তমান অধিবেশন মুলতবী করে মাত্র একদিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে যা অকল্পনীয়। অথচ ভার্চুয়াল অধিবেশন চালিয়ে হলেও বাজেট আলোচনা দীর্ঘায়িত করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যেত। বাজেটের সমালোচনা এড়াতেই অধিবেশন সংক্ষপ্তি করে তড়িঘড়ি করে বাজেট পাশ করেছে সরকার।’

‘সরকার আমাদের (বিএনপি) সুপারিশ ও অর্থনীতিবিদদের মতামত উপেক্ষা করে একটি গতানুগতিক অবাস্তব বাজেট পাশ করলো’ বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত