ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

হতাশ না হয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রিজভীর 

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৫

হতাশ না হয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রিজভীর 

হতাশা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী হয়ে দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে নেতাকর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াপল্টনস্থ আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর দোয়া মাহফিলে এ আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে যে, কারো শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে ভরিয়ে দেবে।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।

দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে একটি ‘বড় ও অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতা-কর্মীদের তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

বক্তব্যে ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন রিজভী। প্রশ্ন তোলেন, এই ৪৫ বছর সে কোথায় ছিল? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?

একইসাথে কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সেসময় তিনি অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে।

একইভাবে সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সাথে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাব চাওয়ার দাবি করেন তিনি।

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলা হয়, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো (যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল) এই বিপ্লবের সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের অটুট নেতৃত্বের কারণেই আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও দল কোনো আপসকামিতা বা গোপন আঁতাত করেনি বলে উল্লেখ তিনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন-সহ নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত