ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫১

প্রিন্ট

অমিত শাহ'র বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বিএনপি

অমিত শাহ'র বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপিকে দোষারোপ করে ভারতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান অমিত শাহ'র বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।

লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব আইন লোকসভা ও আজকে বোধহয় রাজ্যসভা পাস হয়ে গেলো। ভারতের আইন নিয়ে আমাদের খুব বেশি কথা বলার নেই। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু তাদের কোনো বক্তব্য, দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য যদি আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে নিঃসন্দেহে সেই সম্পর্কে কথা বলাটা আমরা দায়িত্ব মনে করি। আজকে আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের মন্তব্যে বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ যিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তার মন্তব্যে আমরা শুধু উদ্বিগ্নই নই, আমরা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ। এজন্যই যে, আমরা কেউ কখনো আশা করতে পারিনি যে, তাদের দেশের এরকম দায়িত্বশীল নেতা এবং যারা এই অঞ্চলে বেশ প্রভাব নিয়ে আছেন, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যখন দায়িত্বহীন মন্তব্য আসে, সেটাকে আমাদের কোনো মতেই মেনে নেয়া সম্ভব হয় না। সে কারণে আমরা অমিত শাহের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি যে, এই ধরনের কোনো রাজনৈতিক দলকে ভিন্ন দেশ বা অন্য দেশে সুনির্দিষ্ট করে দোষারোপ করা থেকে তারা বিরত থাকবেন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে তিনি (অমিত শাহ) যে মন্তব্য করেছেন যেটাতে আমাদেরকে দোষারোপ করা হয়েছে সাম্প্রদায়িক সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে। যেটা একেবারে ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, ড. আবুল বারাকাত সাহেবের যে রিপোর্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে যেটা বেরিয়েছে গত ১০ বছরে। তাতে উনি পরিস্কার করে রিপোর্টে বলেছেন যে, শতকরা ৭০ ভাগ যদি কেউ দখল করে থাকে সেটা আওয়ামী লীগের হাতে আছে। ইতিহাস তাই বলে যে, একাত্তর সালের পর থেকে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যত অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি যে বেদখল কিছু হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে, তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে উনার বক্তব্য কাকতালীয় হবে কিনা জানি না। অমিত শাহের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ওবায়দুল কাদের সাহেবও হঠাৎ করেই আজকে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আখ্যা দিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিএনপি কখনোই কোনো সাম্প্রদায়িক দল ছিলো না, বিএনপি নেই। বিএনপি সরকারের আমলগুলোতে সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করেছে।

আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, সেই অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ নিয়ে যে ঘটনা ঘটে তখন বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ছিলো, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ছিলো। তখন কিন্তু কোথাও কোনো রকমের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটতে দেয়া হয়নি। আমরা যখনই সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, আমরা এটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি, যাতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়। দীর্ঘকালের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে সেই সম্প্রীতি আরো শক্ত করার জন্য আমরা কাজ করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা শুরু হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। দুঃখজনক হলো এটা তুলতে হলো গাম্বিয়াকে। বাংলাদেশ এটা তুলতে পারিনি।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত