ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০৯:৩৫

প্রিন্ট

খেয়ে না খেয়ে গবেষণা করছেন ড. আসিফ মাহমুদরা

খেয়ে না খেয়ে গবেষণা করছেন ড. আসিফ মাহমুদরা
শংকর মিত্র

অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ফাইজার, গ্লাসগোতে যারা গবেষণা করেন তারাও মানুষ, আমাদের আসিফ মাহমুদ, বিজন শীলরাও মানুষ। অক্সফোর্ডের গবেষকদের গবেষণার সুযোগ সুবিধা অনেক অনেক অনেক বেশী। আনলিমিটেড টাকা তারা খরচ করতে পারে, হয়তো বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি তাদের পেছনে বিনিয়োগ করে। কিন্তু আমাদের আসিফ মাহমুদ, বিজন শীল, সমীর সাহা, সেজুঁতি সাহাদের গবেষণার এতো সুযোগ নেই। মাস শেষ নির্ধারিত বেতনের চাকরি তারা করেন। গবেষণার জন্য চাইলেই তারা কোটি কোটি টাকা ঢালতে পারেন না। কিন্তু তাদের মেধা কী কম? একমাত্র টাকা খরচের সুযোগ ছাড়া মেধাবী মূল্যায়ণে কম কিসে তারা? এই করোনার জিন রহস্যতো ড. সমীর সাহা আর তার কন্যা ড. সেজুঁতি সাহাই আবিস্কার করেছেন। এটা আমাদের সফলতা নয়? গণস্বাস্থ্যের করোনার কিট ড. বিজন শিল আবিস্কার করেছেন। শতভাগ কাজে না লাগলেও কিছুটাতো হচ্ছে। প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে, সুযোগ দিলে আরো ভালো করবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

ড. আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারের পথে। সকল পরীক্ষা নিরিক্ষার পর এটার সফলতা দাবি করা হবে। এখনও সে প্রক্রিয়ার পথে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আসিফ মাহমুদ সফল হবেন। তার শিক্ষা মেধা কোনো অংশেই কম নেই। তার সৃষ্টিশীল চিন্তার কোনো কমতি নেই। নানা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে তাদের গবেষণা করতে হচ্ছে। হয়তো তার যন্ত্রপাতিসহ নানাকিছুতে দরকার ১০ কোটি টাকা কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে ২ কোটি। খেয়ে না খেয়ে শুধু সৃষ্টিশীলতার তাগিতে, দেশ প্রেমের তাগিদে আসিফ মাহমুদ, বিজন শীলরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। আমি নির্দ্বিধায় বলবো রাষ্ট্র বা কেউ তাদের শতকোটি টাকার ফান্ড দিক, সব সুযোগ সুবিধার যোগান দিক দেখেন আমাদের এই মেধাবিরা কি সৃষ্টি করে। স্বজাতির প্রতি এতো আস্থাহীনতা, হিংসা এই বাঙালী ছাড়া আর কোনো জাতির মধ্যে নেই। বাঙালী আসলেই একটা নৃ-তাত্বিকভাবে পরিচয়হীন জাতি। উষ্ঠা লাথি খাউরা জাতি। সাদা চামড়া দেখলেই কদমবুসি শুরু করে। নিজের প্রতি এতো অবিশ্বাসী, ভাবতেই অবাক লাগে। পারে শুধু ধর্ম নিয়ে, গোষ্ঠী নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে। সব অনুভূতি গিয়ে ঠেকে ধর্মতে।

অথচ এরা নিজেদের পূর্বসূরিদের কথা মনে রাখে না। এরা এফ আর খানকে ভুলে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতম ভবন যিনি তৈরী করেছিলেন। ১৯৭০ সালে আমেরিকার শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার বানিয়েছিলেন যা ছিল ১১০ তলা। এর আগে কেউ এটা ভাবতেই পারেনি। এফ আর খানকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী বলা হয়। এই এফ আর খান কিন্তু আরমানিটোলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন, বুয়েটে পড়েছেন এবং শুনেছি ভালো রেজাল্ট করেও বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আর সেই আরমানিটোলার এফ আর খান আমেরিকায় গিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভবন বানিয়েছেন। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও আমেরিকা থেকে বীরের ভূমিকা পালন করেন এফ আর খান। পৃথিবীর তাবত প্রকৌশলীরা তাকে কুর্নিস করেন।

রেডিও বা বেতারযন্ত্র আবিস্কার করেন এই বিক্রমপুরের সন্তান জগদীশ চন্দ্র বসু। প্যাটেন্ট করতে না পারায় কৃতিত্ব নেন মার্কনি। উদ্ভিদের প্রাণ আছে এটাওতো প্রমাণ করেছিলেন এই বাঙালী জগদীশ বসু।

যার নামে একটা পরমানুর কণার নাম, সেই বোসকণার আবিস্কারক সত্যেন্দ্রনাথ বোসকে কজন চেনে? যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়ার জন্য আইনস্টাইন সুপারিশ করেছিলেন। সেই সত্যেন বোসও তো বাঙালী। এমন আরো অনেককে খুঁজে পাওয়া যাবে।

এদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানতে দেয়া হচ্ছে না। চেতনা চেতনা করে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।

দেশে অনেক মেধাবী রয়েছেন যারা সুযোগের অভাবে অন্তর্জ্বালায় মরছেন। আর বিদেশে যারা চলে গেছেন তারা তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে হঠাৎ উদ্ভাসিত হচ্ছেন। এইতো আজকেই দেখলাম ইংল্যান্ডে বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়েছেন ফারজানা হুসেইন নামে একজন বাংলাদেশী বংশদ্ভূত। ইংল্যান্ডের মিডিয়ায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন ফারজানা।

এই মুহুর্তে অক্সফোর্ডে করোনা ভ্যাকসিন গবেষণা টিমে আমাদের দেশের আরেকজন মেয়ে রয়েছেন। যদি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আবিস্কার হয় তা হলে দেইখেন এই বাঙালী মেয়ের নাম ডাক।

কাজেই নোয়াখালীর গ্লোব কোম্পানির বিজ্ঞানী আসিফ মাহমুদের করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের খবরে যারা হাসি তামশা করছেন, ট্রল করছেন, তাদের বলবো আপনারা মুর্খতার পরিচয় দিচ্ছেন। মানুষের মেধা ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা নেই। সাদা চামড়ার পদলেহন ছাড়েন। ধর্মের সংকীর্ণতা ছাড়েন। স্বজাতির সন্তানদের মেধার মূল্যায়ণ করেন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখেন। যার নিজের প্রতি আস্থা নেই সেই নাস্তিক।

(লেখাটি ফেসবুক থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো)

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত