ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৪

প্রিন্ট

গণশিক্ষা সচিবকে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আবেগঘন চিঠি

গণশিক্ষা সচিবকে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আবেগঘন চিঠি
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আকরাম-আল-হোসেন ৩০ অক্টোবর অবসরে যাচ্ছেন। দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে একজন উচ্চপদস্থ আমলা হিসেবেই নয় ব্যক্তি হিসেবেও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে এমনই একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

মাননীয় সিনিয়র সচিব,

সময়ে সাথে পাল্লা দিয়ে গিয়ে আর মাত্র ২০ দিন পর আমরা হারাব আমরা আমাদের প্রিয় অভিভাবককে। হারানোর ব্যথায় যেন না হারিয়ে ফেলি আমার প্রিয় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দের বুকে চেপে রাখা ইজ্জত ও আশায় লালিত স্বপ্নটুকু।

স্যার, আপনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আপনার মুখ উজ্জ্বল রাখতে সবচেয়ে বেশি যে সফলতা পেয়েছেন, তা হলো আপনার দেওয়া সেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ One day one Word-এর অতি অভিনব কৌশলের সফলতা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সমাজে অবহেলিত হলেও, রাষ্ট্রের কাছে যুগে যুগে উচ্চ আমলাদের কাছে অবহেলিত থাকলেও আপনার মতো আন্তরিক একজন অভিভাবক পেয়ে ভুলেই গিয়েছিল তাদের কষ্টের কথা, অভাবের কথা, দুঃখের কথা। স্বপ্ন দেখেছে আপনাকে নিয়ে। নিশ্চয়ই আপনি জানেন, কতটা ভালবাসলে, কতোটা বিশ্বাস রাখলে সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাকরি বিধিকে উপেক্ষা করে আপনার চাকরির সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। নিশ্চয়ই এটি ইতিহাসের এই প্রথম একটা নজির।

স্যার, সাধারণ শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপনার সংস্পর্শে তিনবার পৌঁছাতে পেরেছি, দেখেছি খুব কাছে থকে আপনার প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি আন্তরিকতা।

মাননীয় মহোদয়, ২০০০ সালে নিজের অনিচ্ছা স্বত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে আঁকড়ে ধরেছি। ২০ বছরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে অনেক বাঁধাকে অতিক্রম করে পর পর চারটি স্কুলে যে অবদান রেখেছি, যে সফলতা পেয়েছি, এই এলাকায় যে সাধারণ থেকে অতি সাধারণ শিক্ষার্থী অভিভাবকদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা পেয়েছি তা আমার জীবনে চরম পাওয়া।

তা-ই আমার প্রায় দুই যুগের এই অভিজ্ঞতা থেকে এটি নিশ্চিত বলতে পারি যে, শুধু মেধা নয়, আন্তরিকতায় পারে মান সম্মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে পরিবর্তন করতে। এটা যে মিথ্যে নয়, তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো আপনার One day one Word এর সফলতা।

ঠিক এমন এক সময়ে অনেক আন্দোলনের সুফল হিসেবে ০৯.০২.২০২০ তারিখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে উন্নতকরণের পরিপত্র প্রকাশ পায়। আমার প্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যে অতি সাদা মনের মানুষ তাই কখনো বিশ্বাস করেনি পরিপত্রের সেই ৫ নাম্বার কলামের শর্তের কথা। বিশ্বাস করেনি কারণ আপনি বলেছেন ১৩ গ্রেড সকলেই পাবে। এমনি সন্দেহাতীত ভাবে যখন জেনে গেল যে শুধুমাত্র স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষকেরা এই গ্রেডের সুবিধা পাচ্ছে। পাচ্ছে না আপনার মন্ত্রণালয়ের বিগত নিয়োগবিধি শর্ত পূরণ করা অন্যান্য শিক্ষকেরা। ঠিক তখন বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাব্য সকল শিক্ষকের মনের আকাশে কালো মেঘ দেখা দিল, কপালে ভাজ পড়ল হতাশ হওয়ার।

মহোদয়, প্রাথমিক শিক্ষাই হলো সকল শিক্ষার বুনিয়াদ, আর এই বুনিয়াদ গঠনের কারিগর হলো প্রাথমিক শিক্ষক। হ্যাঁ, মানুষ গড়ার এই কারিগরকে যখন তার শিক্ষার্থীদের কাছে, সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে, পেশাজীবী অন্যান্য চাকরিজীবিদের কাছে অযোগ্য বলে ১৩তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তার মানসিক অবস্থা যে কেমন হবে তা আপনিও একান্ত ভাবনায় ভাবলেও উপলব্ধি করতে পারবেন।

মাননীয় মহোদয় আমি জানি আপনিও ফেসবুক দেখেন, কমেন্ট করেন। আপনি নিজেই আমার দুটি স্ট্যাটাসে কমেন্ট করেছেন ধন্যবাদ ও অভিনন্দন দিয়ে, সেই বিশ্বাস থেকেই আজকের এই লেখা আপনাকে অবগত করতে। আইনই আইনকে সিদ্ধ করে, আর করে বলেই সম্ভাব্য বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের পক্ষে আপনার কাছে আবেদন করছি। আমার প্রিয় সিনিয়র শিক্ষকদের সম্মানটুকু রক্ষার করুন। নয়ত কতো শিক্ষককে যে, আত্মহত্যা করতে হবে জানি না। কেননা শিক্ষকতা একটি মহান পেশা এই শব্দটিকে লালন করেই তারা আজো সব ভুলে যায়, তাকে আঙুল তুলে কতো খোঁচা মেরে কথা বলা।

মাননীয় সিনিয়র সচিব মহোদয়, এখনো তো ফয়সালাই হয়নি পরিপত্রের স্পষ্টীকরণে ফিক্সেশনে কে পাবে না, তাতেই সদ্য নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষকের স্ট্যাটাস ও কমেন্টে অযোগ্য বলে নিজেকে গর্বিত যোগ্য ভাবছেন। সে ভুলেই গেছে যে, তার শিক্ষাগুরুকে এমন কটাক্ষ করে কথা বলছেন। এতে কি প্রমাণিত হয়না তারা আন্তরিকতার চেয়ে নিজের যোগ্যতা প্রকাশে গর্বিত সে!

অতঃপর একই বিদ্যালয়ের দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীও বললে এই স্যার অযোগ্য স্যার। এমন পরিস্থিতি কেহ মেনে নিবে চোখের পানি মুছে, কারণ অভাবের সংসারে তার সন্তানকে লেখাপড়া করে মানুষ করতে হবে। কেহ অধিক আন্তরিক হয়ে থাকবে না তার আন্তরিকতা। মুখ লুকিয়ে কখনো শ্রেণি কক্ষে পাঠ হয় না।

হয়ত আপনার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার পরিপত্রের আলোকে চাকরি করাতে বাধ্য করাতে পারলেও পারবে না শিক্ষকতা করাতে। কেননা জোর করে শিক্ষা আদায় করা যায় না।

আমি জানি, এতসব বাস্তব আবেগের মূল্য নেই, আবেগ আপনার আইনকে সিদ্ধ করতে পারবে না হয়ত, তাই নিম্নে আইন দিয়েই আইনকে যেন সিদ্ধ করতে পারে তার কিছু তথ্য আপনাকে সদয় বিবেচনা করতে উদ্ধৃত করলাম, যা আপনি সদয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে মর্জি হয়।

⭕ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের গেজেটের ১০ এর ১ও ২ উপধারা শুধু চাকরি রক্ষা না চাকরির সুবিধাদিও পাওয়া? শুধু চাকরি রক্ষা হয়, ঐ পদের কোন অর্থনৈতিক সুবিধা না পায় তাহলে এটি নিশ্চয়ই অমানবিক ও অযৌগিক কারণ শিক্ষক যখন নিয়োগ পেয়েছিল তখন কোন কোন ধারায় উল্লেখ ছিল না যে সময়ের সাথে এই পদটি উন্নীত হলে ও পরবর্তী নিয়োগবিধি সিদ্ধ না হলে সে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না।

⭕ ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষকের একধাপ ও প্রধান শিক্ষকের দুইধাপ স্কেল উন্নীত হলেও সকলেই আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।

⭕ ২০১৪ সালে সহকারী শিক্ষকের এক ধাপ ও প্রধান শিক্ষকের পর দুই স্কেল উন্নীত হলে তখনও সকল শিক্ষকেরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়নি।

⭕ ২০২০ শুধু সহকারী শিক্ষকদের একটি গ্রেড উন্নীত করা হলেও শর্তের বেড়াজালে বঞ্চিত হচ্ছে ২০১৩ নিয়োগ বিধিতে নিয়োগপ্রাপ্য শিক্ষকেরা।এই উন্নীত গ্রেডে যে ২০১৯ নিয়োগ বিধি ২(গ) ধারা শর্ত দেয়া হয়েছে সেই নিয়োগ বিধির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষকগণ আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, এটি যৌক্তিক হিসেবে মেনে নেয়া যায় না।

⭕ ১৯৭৩, ১৯৮৩, ১৯৯১, ২০১৩ সালে ভিন্ন ভিন্ন বিধিমালা অনুসারে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা ভিন্নতা হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বেতন স্কেল ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৭, ২০০৪ -এ সকল শিক্ষক উন্নীত বেতনস্কেল প্রাপ্ত হন।

⭕ বিধিমালা ১৯৭৪-এ সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক (AIS) এবং Assistant to TEO পদে যোগ্যতা ছিল HSC পাশ।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে পদ দুটি বিলুপ্তি হয়ে ATEO( সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার) পদে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সাল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন গেজেটেড কর্মচারীদের নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮৫ অনুসারে AUEO দের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বিএডসহ স্নাতক এবং ১ বছরের অভিজ্ঞতায় ১৪ তম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত। ১৯.১২.১৯৯৪ সালে উক্ত পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয় অর্থাৎ ১০ম গ্রেড। ১০ গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পর শর্ত থাকে যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক স্নাতকোত্তর থাকতে হবে। কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশে শর্ত পূরণ ছাড়াই সকল সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ১০ম গ্রেড প্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে তাদের অনেকেই পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে ১ম শ্রেণির পদ মর্যাদা (৯ম গ্রেড) প্রাপ্ত হন।

⭕ বিধিমালা ১৯৮৫ তে পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতক, সি-ইন-এড/বি-এড এবং তারা দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম গ্রেড) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তাদের মধ্যে থেকে ৩০% পদোন্নতিতে পিটিআই এর ইন্সট্রাক্টর হয়। ০৬.০১.১৯৯৬ সালে পিটিআই এর ইন্সট্রাক্টর পদটি ১ম শ্রেণিতে (৯ম গ্রেড) উন্নীত করেন। তবে শর্ত থাকে যে, পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের পদোন্নতি প্রাপ্ত ইন্সট্রাক্টরদের ১ম শ্রেণির (১০ম গ্রেড) পেতে হলে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিএডসহ ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পদোন্নতি প্রাপ্ত ইন্সট্রাক্টর অনেকেই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তীতে ২৫.০৯.২০১৩ সালে কোন শর্ত ছাড়াই ১ম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) প্রাপ্ত হন।

⭕ ১৩ তম গ্রেড বঞ্চিত শিক্ষকগণ ২টি টাইম স্কেল পেয়ে ১২তম গ্রেডে উন্নীত হবেন। আর বিধিমালা ২০১৯ এ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ কোন অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১৩তম গ্রেডে যোগদান করে ২টি উন্নীত গ্রেড (১০বছর ও ১৬ বছর) পেয়ে ১১তম গ্রেড উন্নীত হবেন। যার ফলে ১৫-২০ বছরে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকগণ জুনিয়র শিক্ষকগণের চেয়ে এক গ্রেড নীচে বেতন পাবেন যা বেতন বৈষম্য বাড়িয়ে দিবে।

⭕ উল্লেখ যে, ২০১৯ বিধিমালা এখনো কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি, তাহলে অভিজ্ঞতা কাদের জন্য প্রযোজ্য তাহা স্পষ্ট নয়।

⭕ ৪১ তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতকোত্তর অথবা এইচএসসি পাশের পর ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি পাশ, তবে শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ গ্রহণ যোগ্য নয়।

এমন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নন ক্যাডার হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে (১১ তম গ্রেড) পিএসসি নিয়োগ দিয়েছেন এবং ১১তম গ্রেডে তিনি বেতন পেয়েছেন। যেহেতু শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ গ্রহণ যোগ্য নয়, তার মানে এই নয় যে সে স্নাতকে তৃতীয় বিভাগ পায়নি, এমন যদি হয় তাহলে তৃতীয় বিভাগ পাওয়া স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে সহকারী শিক্ষক ১১ নয় ১৩তম গ্রেডে বেতন কেন পাওয়ার যোগ্য নয়।

⭕ নব জাতীয় কৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনেকেই এইচএসসি, সিইনএড শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ১১তম গ্রেডে বেতন নিয়ে স্বপদে এখনো বহাল থাকছেন ও বেতন পাচ্ছেন।

⭕ ১৯৯১ নিয়োগ বিধিতে যারা তৃতীয় বিভাগ পাওয়া শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন তারাও দ্বিতীয় ও এমনকি প্রথম বিভাগ প্রাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করেই মেধায় টিকে চাকরি নিয়েছেন। তাহলে কেন উন্নীত বেতন গ্রেডে যুক্তিহীন শর্ত জুড়ে দিয়ে বঞ্চিত করা হবে।

⭕ সংবিধানের ধারা মতে পিছিয়ে পড়া কোন গোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে এসএসসি বা অষ্টম পাশের যোগ্যতার বেতন স্কেলে স্নাতক পাশ পুরুষ শিক্ষকদের চাকরি দিয়ে তাদের বেতন দেয়া হয়ে থাকে তখন অগ্রগামী সেই গোষ্ঠীর উন্নীত গ্রেডের বেতন থেকে কেন বঞ্চিত হবেন।

⭕ সিজিএ পয়েন্ট ২.২৫ ( ৪৫-৪৯ নম্বর) পেলেই সে দ্বিতীয় শ্রেণির সমমান হন, আর একজন ৪০-৪৪ নম্বর পেয়ে ২.০০ পেয়ে তৃতীয় বিভাগ পান, তাহলে মাত্র ১ নম্বরের ব্যবধানে একজন শিক্ষক ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ এমনকি তাদের স্নাতকোত্তরে কারো প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির থাকার পরও সে অযোগ্য প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ স্নাতকে দ্বিতীয় নাই বলে। একজন তৃতীয় বিভাগ পাওয়া শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডার হয়ে সিনিয়র সচিবও হতে পারবেন কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষক ১৩ গ্রেডে বেতন পাবে না, এটি নিশ্চয়ই যৌক্তিক হতে পারে না।

এছাড়াও সরকারি চাকরি বিধিতে কিছু গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ হয় না, সেই পদগুলোতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পেয়ে পদগুলো অলংকৃত করে তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বেলায় নয় কেন?

এমন তো নয় যে ২০১৯ বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগে এইচএসসি ও তৃতীয় বিভাগ পাওয়া শিক্ষক নিয়োগ পাবে। তাহলে কেন পূর্বের নিয়োগ শর্তে চাকরি পেয়ে ঐ পদের উন্নীত হলে পরবর্তী নিয়োগ বিধি শর্তে সে বঞ্চিত হবেন, এই জনগোষ্ঠী তো এক সময়ে শেষ হবেই!

অতএব উপরিউক্ত আলোচনা ও তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে সকল সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড প্রাপ্যের কোন আইনগত বাধা নেই বলে আমি মনে করছি।

সুতরাং সকল সহকারী ১৩ তম গ্রেড প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিনীত অনুরোধ করছি।

লেখক: টি এম জাকির হোসেন, সহকারী শিক্ষক আউয়াল গাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত