ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:০৯

প্রিন্ট

বৃষ্টির পানি আর নারকেল খেয়ে সাগরে ৩২ দিন

বৃষ্টির পানি আর নারকেল খেয়ে সাগরে ৩২ দিন
অনলাইন ডেস্ক

আচমকা কোনও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর সাগরে অসহায় ও অতি অমানবিক অবস্থায় বেঁচে টিকে থাকার নানা ঘটনা আমরা জানি। ভাগ্য ভালো থাকলে এদের কেউ কেউ বা বেঁচে ফেরেন, যা রূপকথার গল্পের মতোই অস্বাভাবিক মনে হয়। সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশি থেকে এমনই চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন পাপুয়া নিউ গিনির বাগেইনভিল প্রদেশ থেকে। এরপর এক ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনায় তাদের আট সঙ্গীর সলিল সমাধি হয়। আর বেঁচে যাওয়া ওই চারজন দিক হারান সাগরের উত্তাল জলরাশিতে। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল বলেই দীর্ঘ ৩২ দিন পর তারা ডাঙ্গায় ফিরতে পেরেছেন। এসময় তাদের বেঁচে থাকার উপকরণ ছিল কেবল বৃষ্টির পানি আর নারকেল।

গত ২২ ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপনের জন্য বাগেইনভিল প্রদেশ থেকে কার্টেরেট দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে নৌকায় করে যাত্রা শুরু করেছিল একটি দল। বাগেইনভিল থেকে ওই নৌযাত্রীদের গন্তব্যস্থলের দূরত্ব ছিল ৬২ মাইল। কিন্তু ভাগ্য তাদের অনুকূলে না থাকায় কিছুদূর যাওয়ার পরই তাদের ছোট্ট নৌকাটি উল্টে যায়। এতে নৌকার আট যাত্রী-ই ডুবে যান। বাকিরা নৌকাটিকে বহু কষ্টে সোজা করতে সক্ষম হন এবং এতে করেই সাগরে ভাসতে শুরু করেন। কিন্তু নৌকাতে থাকা তাদের সমস্ত উপকরণ সাগরে ভেসে যাওয়ায় শুরু হয় খাবার সঙ্কট।

উদ্ধারকৃতদের একজন ডোমেনিক স্ট্যালি বলেন, ‘ওই দুর্ঘটনায় এক দম্পতিও মারা যান। তখন তাদের ছোট্ট বাচ্চাটিকে আমিই দেখভাল করছিলাম। পরে সেও মারা যায়।’

এদিকে তারা সাগরে ভাসার সময় বেশ কিছু জেলেনৌকা দেখতে পান এবং চিৎকার করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা জেলেদের নজর এড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৩২ দিন ধরে ক্রমাগত সাগরের বুকে ভেসে থাকেন ওই চারজন। গত ২৩ জানুয়ারি অবশেষে তাদের নিউ ক্যালেডোনিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী এবং ১২ বছর বয়সী একজন কিশোরীও রয়েছে।

উদ্ধার করার পর গত শনিবার তাদেরকে সলোমান দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী হোনিয়ারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের পপুয়া নিউ গিনির হাই কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাই কমিশিনার জন বালাভু জানান, উদ্ধারকৃতরা ডায়রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন।

প্রশান্ত মহাসাগরে দিক হারিয়ে ভেসে যাওয়াদের উদ্ধারের এটি কোনও নতুন ঘটনা নয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সালভাদরের মৎস্যজীবী জোসে আলভারেঞ্জাকে দীর্ঘ ১৩ মাস পর উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূল থেকে এক সঙ্গীকে নিয়ে সাগরে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে মার্শাল এলাকায় নৌকা ডুবে যাওয়ার পর সাগরে হারিয়ে যান জোসে। আর নৌডুবিতে মারা যান তার সঙ্গী। এরপর শুরু হয় তার সাগরে বেঁচে থাকার দীর্ঘ সংগ্রাম। তিনি কাঁচা মাছ আর পাখিদের মাংস খেয়ে বেঁচেছিলেন। আর তৃষ্ণা মেটাতে তাকে বৃষ্টির পানি, কচ্ছপের রক্ত এমনকি নিজের পেশাব পর্যন্ত পান করতে হয়েছে। সাগরে জোসে আলভারেঞ্জারের দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে ভেসে থাকা আরেকটি রূপকথা হয়ে আছে। সে গল্প অন্যদিন শোনা যাবে। আজ থাক।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত