ঢাকা, বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৩৭

প্রিন্ট

মহামারিকে ঘিরে যত সিনেমা

মহামারিকে ঘিরে যত সিনেমা
ছবি: সংগৃহীত

নাহিদা রীনথি

করোনার প্রভাবে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই গুনতে হচ্ছে লাশ। চীন থেকে শুরু হলেও মহামারির আঘাত লেগেছে আমাদের দেশে। করোনার প্রভাবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছু। বাণিজ্য-বিনোদন-ক্রীড়াজগতসহ জনজীবনের সর্বত্রই দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এই সময় আতঙ্কিত না হয়ে বরং ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহামারি নিয়ে অনেক আগে থেকেই নির্মিত হয়ে আসছে চলচ্চিত্র। নির্মিত হয়েছে কাল্পনিক, কখনো বা বাস্তবের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে। বর্তমান সময়ে সেসব সিনেমা বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। খুঁজে খুঁজে ওই ছবিগুলোই দেখছেন দর্শকরা।

তবে মহামারি ও ভাইরাস নিয়ে নির্মিত ছবিগুলো দেখার চেয়ে, না দেখতে বেশি উৎসাহিত করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু সিনেমার তালিকা-

কন্টাজিয়ন

ছবি: সংগৃহীত

ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে দিকে। মুক্তি পাওয়া ছবিটি এখন সবার মুখে মুখে। কারণ করোনার মতো একটি ভাইরাস নিয়ে এই ছবির মূল কাহিনী। তখন বক্স অফিসে ছবিটি সাফল্য পায়নি। ছবি নির্মাণের ৯ বছর পর চীন থেকে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ এই ছবিকে নিয়ে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, কন্টেজিয়নের গল্প আর বাস্তবের করোনাভাইরাস মহামারির অবিশ্বাস্য মিল। স্টিভেন সোডারবার্গ পরিচালিত ২০১১ সালের সিনেমা ‘কন্টাজিয়ন’ (অর্থ: রোগ সংক্রমণ) ছবিটি শুরু হয় কালো পর্দা থেকে। কেউ একজন কাশছে খুক খুক করে। তারপরেই অভিনেত্রী গুইনেথ প্যাল্ট্রোকে দেখা যায়। মোবাইলে রাত থেকে প্রেমিকের সাথে কথা বলছে সে। কাজের জন্য হংকংয়ে ছিল, সেখানেই প্রেমিকের সঙ্গে ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’ করেছে সে। আমেরিকায় এসে সে মারা যায়। ততক্ষণে রোগ ছড়িয়ে গেছে ছেলের ভিতর। স্বামী এখন দিশেহারা প্রায়। এভাবেই শহর থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবাই ব্যবহার করছে। কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক বন্ধ। যার সব মিলই আছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে। এখন যা চলছে নয় বছর আগেই যেনো সেভাবেই চিত্রনাট্য লিখেছেন স্কট জি বার্নস।

প্যানডামিক

ছবি: সংগৃহীত​

মহামারি ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। এ অবস্থায় এক ডাক্তার ও তার দল মহামারি থেকে যেসব মানুষ বেঁচে গেছেন, লস এঞ্জেলসে এসে তাদের খুঁজে বের করছেন। এমন কাহিনি উঠে এসেছে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্যানডেমিক’ ছবিতে। ছবির পরিচালক জন সুটস। চিত্রনাট্যকার ডাস্টিন টি বেনসন। এই ছবিটি জনমানসে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

টোয়েন্টি এইট ডেজ লেটার

ছবি: সংগৃহীত​

২০০২ সালে মুক্তি পায় এই ছবি। ছবিতে দেখা যায়, ব্রিটিশ ‘অ্যানিম্যাল লিবারেশন’ সংস্থার একদল আন্দোলনকারী একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের ভেতর ঢুকে পরীক্ষারত কয়েকটি শিম্পাঞ্জিকে মুক্ত করে দেয়। শিম্পাঞ্জিগুলোর ওপর একটি বিশেষ কেমিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছিল, যা প্রচণ্ড রাগের উদ্রেক করে এবং এটি বহনকারী যে কোনো প্রাণী যদি কাউকে কামড়ে দেয়, তাহলে সেই ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় চারজন শুরু করে বেঁচে থাকার লড়াই। সমস্ত ব্রিটেনে একটা ভয়াবহ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ২৮ দিন পর শুধুমাত্র হাতেগোনা কিছু মানুষ বেঁচে থাকে। সিনেমাটি একটি মাইলফলক তৈরি করে। প্রশংসার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সাফল্যও পায়। সে কারণে ২০০৭ সালে এর সিকুয়েল ‘টুয়েন্টি এইট উইকস লেটার’ মুক্তি পায়। এ ছবির পরিচালক ড্যানি বয়েল।

ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড

ছবি: সংগৃহীত​

এক ধরনের ভাইরাসের কারণে জোম্বি অর্থাৎ নরঘাতক হয়ে ওঠার কাহিনি দেখানো হয় ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ সিনেমায়। ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ সিনেমার গল্প জাতিসংঘের কর্মী গ্যারি লেনকে (পিট) নিয়ে যে তার পরিবারকে রেখে বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়ায় জম্বিদের হাত থেকে মানবজাতির ধ্বংস এড়াতে। ব্র্যাড পিট সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন।

আই অ্যাম লিজেন্ড

ছবি: সংগৃহীত​

হলিউড মহাতারকা উইল স্মিথ অভিনীত ২০০৭ সালের সিনেমা ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’। ছবিতে ভাইরোলজিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেখানে দেখানো হয় বেশ কয়েক বছর আগে মহামারিতে আক্রান্ত নিউ ইয়র্কের বেশিরভাগ মানুষ মারা যায়, বাকিরা পরিণত হয় দানবে জোম্বি রাক্ষসে। এদিকে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ ও সিংহ। একমাত্র বেঁচে থাকা মানুষ স্মিথ এর থেকে মুক্তিপথ খুঁজতে থাকেন। তার একমাত্র সঙ্গী তার পোষা অ্যালসেশিয়ান কুকুর। স্পেশ্যাল এফেক্টের সাহায্যে যেভাবে ফাঁকা নিউইয়র্ক শহর দেখানো হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

ক্যারিয়ারস

ছবি: সংগৃহীত​

২০০৯ সালের ছবি ‘ক্যারিয়ারস’-এ দেখানো হয় চার বন্ধু মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শেষে এক পর্যায়ে তারা জানতে পারছে, আসলে তারা নিজেরাই অন্য ভাইরাসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ভাইরাস শরীরে নয়, মনে, সেটা নিজেরা অবহিত হয় তারা। এ ছবি বিজ্ঞানের চেয়ে বেশি কিছু। এ ছবি দর্শনের ছবি, ভবিতব্যের ছবি।

আউটব্রেক

ছবি: সংগৃহীত​

১৯৯৫ সালে জার্মান পরিচালক উলফগ্যাং পিটারসনের ‘আউটব্রেক’ ছবিটি মুক্তি পায়। ডাস্টিন হফম্যান, মর্গান ফ্রিম্যান, রেনে রুশো, কিউবা গুডিং প্রমুখ অভিনীত এ ছবি। আফ্রিকার দেশ জায়ারে অনেকটা ইবোলার মতো প্রাণঘাতী কল্পিত এক ভাইরাস ‘মোতাবা’ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেই ভাইরাস আমেরিকার এক শহরে সংক্রমিত হয়। পরবর্তী কালে বাস্তবের ইবোলা আক্রমণ অনেকটাই মিলে যায় সিনেমার এই মোতাবার সঙ্গে।

রেসিডেন্ট ইভিল

ছবি: সংগৃহীত​

মিলা জোভোভিচ অভিনীত এই সিনেমাতে দেখানো হয় একটি বিশেষ চক্রের কারণে জীবাণু অস্ত্রের মাধ্যমে কীভাবে জোম্বি হয়ে পড়ছে গোটা শহর। এই ভাইরাস পরবর্তী কালে খাদ্য সংকটের কারণ হয় ও অর্থনীতির চাকা ভেঙে পড়ছে সেটাও দেখানো হয় এই ছবিতে। ছবিটি এত সফল হয় যে সিরিজও বানানো হয় ছবিটির।২০০৭ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: এক্সটিংশন’, ২০১০ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: আফটার লাইফ’, ২০১২ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: রিট্রিবিউশন’ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার’ মুক্তি পায়।

ব্লাইন্ডনেস

ছবি: সংগৃহীত​

২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে দেখানো হয় একটি সমাজে অন্ধত্ব কীভাবে মহামারি রোগের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাগি

ছবি: সংগৃহীত

ভাইরাসজনিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার কাহিনি দেখানো হয় অ্যাকশন স্টার আর্নল্ড শোয়ার্জেনিগার অভিনীত ২০১৫ সালের সিনেমা ‘ম্যাগি’তে। সিনেমায় এই নায়ককে আবেগতাড়িতএবং ভিন্ন এক চরিত্রে দেখা গেছে।

ডুমস ডে

ছবি: সংগৃহীত​

২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় ভবিষ্যতের স্কটল্যান্ডে এক ভয়াবহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা দেখানো হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত