ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৭

প্রিন্ট

রাষ্ট্রহীন মানুষেরা

রাষ্ট্রহীন মানুষেরা
অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আসাম রাজ্যের নাগরিকদের চূড়ান্ত তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। এই ১৯ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বে এক থেকে দেড় কোটি মানুষ দেশহীন। এরা বঞ্চিত মৌলিক অধিকার থেকে। টিকে আছে কোনোরকম।

চলুন দেখি পৃথিবীর কোথায় কোথায় আছে ঠিকানাহীন মানুষ।

বাংলাদেশ/মিয়ানমার: ১৯৮২ সালে বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি আইন পাশ হয়। আর তাতেই নাগরিকত্ব হারায় মুসলিম প্রধান রোহিঙ্গারা। জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় মানবিক বাংলাদেশ। জনসংখ্যার চাপে থাকা ছোট্ট দেশটিতে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

আইভরি কোস্ট: ছয় লাখ ৯২ হাজার ঠিকানা বিহীন মানুষকে ঠাঁই দিয়েছে আইভরি কোস্ট৷ বুরকিনা ফাসো, মালি, ঘানা থেকে এই লোকগুলো এসছে আইভরি কোস্টে। দেশটির কফি এবং তুলা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে কোনোরকম দিন যাপন করছে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এসব মানুষ। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ বিদেশি নাগরিক। যারা এখন বাস্তুচ্যুত।

থাইল্যান্ড: চার লাখ ৭৯ হাজার রাষ্ট্রহীন মানুষের বসতি থাইল্যান্ডে। পাহাড়ি নৃগোষ্ঠী ইয়াও, হ্যামং এবং কারেন সম্প্রদায়ের মানুষ এরা। মিয়ানমার এবং লাওস সীমান্তবর্তী পর্বত এলাকায় তাদের অস্থায়ী আবাস।

ইস্তোনিয়া/লাটভিয়া: সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে বাল্টিক রাষ্ট্র গঠন হলে, কপাল পোড়ে অন্তত দুই লাখেরও বেশি মানুষের। কারণ তাদের আর কোনো ঠিকানা নেই, কোনো বসতি নেই। তাদের দুই লাখ ২৫ হাজার আছেন লাটভিয়াতে আর ৭৮ হাজার আছেন ইস্তোনিয়ায়।

সিরিয়া: ১৯৬২ সালের কথা। আরবকরণের প্রক্রিয়ায় বলি হয়ে, নাগরিকত্ব হারান কুর্দরা। গৃহযুদ্ধের আগে অন্তত তিন লাখ কুর্দ হয়ে পড়ে দেশহীন। জাতিসংঘের হিসেব মতে, এখনও সিরিয়ায় নাগরিকসুবিধা বঞ্চিত হয়ে বাস করছে ১ লাখ ৬০ হাজার কুর্দ। অনেকে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে।

কুয়েত: ১৯৬১ সালে স্বাধীনতা এলেও নাগরিক স্বীকৃতি জোটেনি যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত বেদুঈনদের। জাতিসংঘের তথ্য মতে, ৯২ হাজার বেদুঈন আছে কুয়েতে। যারা বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং চাকরির মতো নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত।

ডমিনিকান রিপাবলিক: অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে, ২০১৩ সালে জাতীয়তা বিষয়ক আইনে পরিবর্তন আনার পর, আদালত থেকে রুল জারি করা হয়। আর তাতেই অনেকেই হয়ে যান দেশহীন। এমনকি, হাইতি থেকে আসা অনেক মানুষ ডমিনিকে জন্ম নিলেও মেলেনি নাগরিকত্ব। জাতিসংঘের ২০১৫ সালের হিসেব বলছে, এখানে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার।

ইরাক: নাগরিক সুযোগ বঞ্চিত সাড়ে ৪৭ হাজার মানুষের আবাস ইরাক। এদের মধ্যে আছেন, ঐতিহাসিকভাবে ইরাক-ইরান সীমান্তে বসবাসকারী কুর্দ, ফিলিস্তিনের শরণার্থী আর বেদুঈনরা।

ইউরোপ: ভারতীয় বংশোদ্ভুত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রোমা। এই সম্প্রদায়ের হাজার দশেক মানুষের বাস, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে৷ তারাও আছেন নাগরিকত্ব সংকটে। চেকোশ্লাভাকিয়া ও যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে গেলে, তাদের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায় নতুন রাষ্ট্র। কসভো আর বসনিয়ায় ঠাঁই নেয়া রোমারাও যুদ্ধের কারণে পরিচয় সংকটে পড়ে যান।

কলম্বিয়া: ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে অনেক মানুষ পাড়ি জমান কলম্বিয়ায়। যাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছে অন্তত ২৫ হাজার শিশু। তারাও আছে পরিচয় সংকটে। কারণ, কলম্বিয়া নাগরিকত্ব পেতে বাবা-মায়ের মধ্যে একজনের সে দেশের নাগরিকত্ব থাকতে হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত