ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৯

প্রিন্ট

এমপিও: কারো আনন্দ কারো বিষাদ

এমপিও: কারো আনন্দ কারো বিষাদ
কাফি খান

অবশেষে এমপিওভুক্তির ঘোষণা এলো। বুধবার গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ঘোষণা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশাল সংখ্যক এমপিও প্রত্যাশীর অধীর প্রতীক্ষার অবসান হলো।

অনটনের সাথে নিয়ত সংগ্রামের দিনগুলো পেছনে ফেলে অনাগত দিনের সুখ-সাচ্ছন্দ্য ভাবনায় তারা যারপরনাই খুশি। বহু ত্যাগ-তিতীক্ষা ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর এ প্রাপ্তিতে আনন্দে উদ্বেল এসব শিক্ষক ও তাদের পরিবার-পরিজন। বলা যায়, তাদের এই খুশির কাছে যেকোনো পরম উৎসবের দিনও নস্যি।

অন্যদিকে এবারো এমপিওবঞ্চিত নানা ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে বছরের পর বছর বিনা বেতনে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে আসা ছাপোষা মানুষগুলোর বিষাদগাথা যেন আরো দীর্ঘ হলো। দীর্ঘ ৯ বছর পর ঘোষিত এমপিওর তালিকায় নাম খুঁজে না পেয়ে ভাগ্যাহত এই শিক্ষক-কর্মচারীদের শেষ আশার প্রদীপটিও যেন নিভে যেতে বসেছে।

শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে কর্মরত এই শিক্ষকদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার জো নেই। নিভৃত পল্লীতে তাদের ত্যাগ, শ্রম ও ঘামে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত রচিত হয়। কখনো অজপাড়া-গাঁয়ের কর্দমাক্ত মেঠোপথ মাড়িয়ে, কখনো বা শীত-বর্ষার বৈরি প্রকৃতি উপেক্ষা করে তারা ছুটে যান প্রাত্যহিক কর্তব্য-কর্মে। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একদিন এমপিওভুক্ত হবে সে আশায় বুক বেঁধে কায়-ক্লেশে দিনযাপন করেন তারা। কিন্তু এবারো শিকে না ছেড়ায় অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে কবে মুক্তি মিলবে সেই ভাবনায় মুষড়ে পড়েছেন বিশাল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী।

এ কথা ঠিক, বর্তমান সরকার শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিভিন্ন স্তরে অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষাবৃত্তিসহ সরকারের নানামুখী উদ্যোগ সে কথারই জানান দেয়। তবে সরকারের সামর্থেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আছে কর্মপন্থা নির্ধারণের নীতিগত কৌশল। সর্বশেষ ২০১০ সালে এমপিওভুক্তির ঘোষণা এসেছিলো। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৯ বছর। দেরিতে হলেও এমপিও প্রত্যাশী বিশাল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর অনিশ্চয়তার দিন কাটলো।

এমপিওর তালিকায় আসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের এই প্রাপ্তিতে আমাদের অভিনন্দন। সেইসাথে প্রধামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের চাওয়া থাকবে- আশাহত মানুষগুলোর কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষকদের সার্বিক বঞ্চনার অবসান হলেই কেবল শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া সব উদ্যোগ-সদিচ্ছা সার্থকতা পাবে।

লেখক: সাংবাদিক

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত