ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

এমবাপের এক গোলে টিকে রইল ফরাসিদের স্বপ্ন

  ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬  
আপডেট :
 ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২

এমবাপের এক গোলে টিকে রইল ফরাসিদের স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত

প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে বেশ ভুগতে হলো। বিরতির পর দৃশ্যপটে কিছু বদল আসল বটে, যদিও খুব বেশি সুযোগ তৈরি হলো না। কঠিন সময়ে দলকে পথ দেখালেন কিলিয়ান এমবাপে। অধিনায়কের নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল দিদিয়ে দেশোঁর দল।

ফিলাডেলফিয়ার প্রচণ্ড গরমেও খেলার ছন্দপতন হলো কিছুটা। তবে শেষ ষোলোয় ১-০ গোলের জয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে গেল ফরাসিরা।

পিছিয়ে পড়ার পর, বাকিটা সময়জুড়ে শারীরিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের স্বাভাবিক খেলায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করল প্যারাগুয়ে, তা লড়াইয়ে ছড়াল বাড়তি উত্তাপ।

তিন-চতুর্থাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের পাঁচ শটের একটিই লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের আগে যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, মাঠের লড়াই শুরু হতেই তেমন কিছুর দেখা মেলে। এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসেদের আটকাতে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় প্যারাগুয়ে। বেশিরভাগ সময় তাদের মাঠের ১০ জন খেলোয়াড়ই নিজেদের গোলবক্স ও এর আশপাশে অবস্থান নিয়ে থাকে।

বল দখল বদলের সময়ও তাদের সংঘবদ্ধ কৌশল ছিল দারুণ। মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠলেও, তা ব্যর্থ হওয়ার পর অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় তারা আবার ছুটে আসছিল রক্ষণে।

তাই প্রথম ২৫ মিনিটে ৮০ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল রেখেও উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি ফ্রান্স। মাঝে একবার বেশ দূর থেকে চেষ্টা চালান মানু কোনে, তবে তার শট লক্ষ্যে থাকেনি।

প্রথম বিরতির পর প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ একটু একটু করে উন্মুক্ত হতে থাকে। তবুও প্রথমার্ধে একবারও দলটির গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ফ্রান্স।

৩১তম মিনিটে প্রথমবার তারা ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে। ডান দিক থেকে উসমান দেম্বেলে গোলবক্সে দারুণ ক্রস বাড়ান; কিন্তু প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের মুখে হেড করতেই পারেননি এমবাপে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। প্যারাগুয়ে একটু ওপরে উঠে চেষ্টা করতে থাকে, তাতে ফ্রান্সের আক্রমণের জায়গাও তৈরি হয়। পরপর দুই মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগও পায় তারা।

৫২তম মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ বল ধরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মাঝমাঠে উঠে আসতে দেখে এমবাপের উদ্দেশে লম্বা করে বল বাড়ান। ক্ষিপ্র গতিতে সবাইকে পেছনে ফেলে ছুটে যান এমবাপে; কিন্তু তার শট নেওয়ার আগেই বল বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার কাসেরেস।

এরপর গোলবক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন কোনে। এবার বল লক্ষ্যেই ছিল, দারুণ নৈপুণ্যে এক হাত দিয়ে বল বাইরে পাঠান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল।

অবশেষে ৭০তম মিনিটে এমবাপের সফল স্পট কিকে ডেডলক ভাঙে। দেজিরে দুয়ে গোলবক্সে ফাউলের শিকার হলেও প্রথমে খেয়াল করেননি রেফারি। খেলা চলতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ পর চিত্রসহায়ক প্রযুক্তির পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান রেফারি।

প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ চলতে থাকে। ডাগআউটে দলটির কোচ ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেন, ডাইভ দিয়েছে দুয়ে। এমনকি বিরতির সময়ও এমবাপের কাছে গিয়ে প্যারাগুয়ের একজন কিছু একটা বলেন, তাতেও সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আবারও শীর্ষে উঠলেন এমবাপে। সাতটি গোল ও দুটি গোলে সহায়তা নিয়ে তিনি এখন সবার ওপরে। সমান সাতটি গোল করেছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল হলো ১৯টি, একটি বেশি নিয়ে তালিকার চূড়ায় আছেন মেসি।

ওই গোলের পরও কিছুক্ষণ মাঠের খেলায় উত্তাপ বজায় থাকে। অহেতুক কিছু কড়া ফাউলেরও দেখা মেলে।

নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে আবার ভীতি ছড়ান এমবাপে। রায়ান শের্কির পাস ধরে রেয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।

১০ মিনিট যোগ করা সময়ে আরও দুটি দারুণ সুযোগ পান এমবাপে। গোলবক্সের মুখ থেকে তার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকানোর পর ফিরতি বলে তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও রুখে দেন হিল।

সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। গত আসরে আফ্রিকার এই দলকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল দেশোঁর দল।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত