ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:১৫

প্রিন্ট

ফোর্বসের সেরা উদ্যোক্তার তালিকায় ‘পাঠাও’র সিইও ইলিয়াস

ফোর্বসের তালিকায় ‘পাঠাও’র সিইও ইলিয়াস
জার্নাল ডেস্ক

এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা হুসাইন এম ইলিয়াস। অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পাঠাও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) হুসাইন এম ইলিয়াস। চলতি বছর এশিয়ার ২৩টি দেশ থেকে কয়েক হাজার তরুণের মধ্যে থেকে ৩০ বছরের নিচের ৩০ তরুণের নাম ঠাঁই পেয়েছে এই তালিকায়।

চতুর্থবারের মতো করা তালিকায় ১০ ক্যাটাগরিতে ৩০০ জনকে স্থান দেয়া হয়েছে। ফোর্বসের সেই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন হুসাইন ইলিয়াস। ইতোমধ্যে তার প্রতিষ্ঠান পাঠাও দেশে অন্তত দুই লাখ তরুণের ফ্রিল্যান্স কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন ইলিয়াস সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, হুসেইন ইলিয়াস এবং শিফাত আদনান মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পাঠাও। প্রথমে মোটরবাইক দিয়ে শুরু করে একে একে এটি পার্সেল সার্ভিস, কার রাইড, অন-ডিমান্ড লজিস্টিকস এবং ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে থাকে।

বর্তমানে পাঠাওয়ের শুধু মোটরবাইক আর কার রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বাংলাদেশের ৫টি শহর ও নেপালের কাঠমান্ডুতে অর্ধকোটি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে। তাই পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘কনজিউমার টেকনোলজি’ শাখায় হুসেইন ইলিয়াস স্থান পেয়েছেন ফোর্বসের অনূর্ধ্ব-৩০ উদ্যোক্তার তালিকায়। বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়ায় শিফাত আদনান এ তালিকায় আসতে পারেননি।

প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার ‘গো-জেক’র অনুপ্রেরণায় ইলিয়াস স্বপ্ন দেখছেন পাঠাও হয়ে উঠবে বাংলাদেশের ‘সুপার অ্যাপ’। পাঠাও এ পর্যন্ত চার রাউন্ডে ১ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছে। কোম্পানিটির মূল্য বর্তমানে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি।

তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান করে নিয়ে চমক দিয়েছে এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিস্তান ও লাওসের সামাজিক উদ্যোক্তারা। এর ফলে তালিকাটি আরও বহুমুখী হয়েছে বলে জানায় ফোর্বস।

ম্যাগাজিনটি বলছে, তারা এই সামাজিক উদ্যোক্তা খুঁজতে গিয়ে এতো এতো সব কাজ পেয়েছে যা বাস্তবায়ন করতে পারলে এই তরুণরা বিশ্বকে বদলে দিতে পারবে। এসব উদ্যোগের মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাবার, এনার্জি সম্পর্কিত শিল্প। এছাড়াও বেশকিছু উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে কাজ করেছেন। এর বাইরে বড় একটি খাত হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে উদ্যোগও নিয়েছেন অনেকেই বলে জানায় ফোর্বস।

চলতি বছরের তালিকায় সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে পাঁচ দেশ। এগুলো হলো- চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর। তালিকায় স্থান পাওয়া ৭০ শতাংশ তরুণ সেই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা।

ফোর্বস বলছে, এসব তরুণ সপ্তাহে কমপক্ষে ৬৮ ঘণ্টা করে কাজ করেছে নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে। এদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ কোন একটি সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে নিজেদের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন।

হুসাইন এম ইলিয়াসের পাশাপাশি ফোর্বসের তালিকায় থাকা আরেক বাংলাদেশী উদ্যোক্তা মোরশেদ আবদুল্লাহ আল। তিনি মূলত কার্টুনিস্ট। তার উদ্যোগ ‘মোরশেদ মিশুর ইলাস্ট্রেশন’।

তার সম্পর্কে ফোর্বসে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু বিশ্বজুড়ে চলমান ভয়াবহ বিভিন্ন যুদ্ধের ওপর কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করতে শুরু করেন। যুদ্ধের মর্মান্তিক ও যন্ত্রণাকর ছবিগুলো তার কলমের প্রতিভায় রূপ নিতে থাকে হাসি-আনন্দ ভরা শিল্পকর্মে। মিশুর আশা ছিল এসব কার্টুনের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা, যুদ্ধের নির্মমতা না থাকলে পৃথিবীটা কত সুন্দর হতো।

মিশুর আঁকা এসব কার্টুন ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ নামক তার এমনই একটি প্রজেক্ট পুরস্কার পায় এবং তারপরই বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীর জন্য কার্টুন আঁকতে শুরু করেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় মোরশেদ মিশু ফোর্বসের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং’ শাখায় স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মোরশেদ মিশু ইলাস্ট্রেশন চালানোর পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মিশু।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close