ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৩৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২৫

প্রিন্ট

হরিণাকুন্ডুতে প্রকাশ্যে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ, প্রশাসন নীরব

হরিণাকুন্ডুতে প্রকাশ্যে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ, প্রশাসন নীরব
মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা আছে ১৭টি। এসব ইটভাটায় লাখ লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি ফিক্সড চিমনি’র ভাটাতেও পুড়বে ২২ লাখ মণ কাঠ। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে এ সকল ভাটাগুলো কাঠ মজুদ করেছে এবং তা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে ভাটা মালিকরা। অথচ ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না, সরকারের এমন কঠোর আইন রয়েছে।

সরেজমিন হরিণাকুন্ডু উপজেলার বেশ কয়েকটি ভাটা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মণ কাঠ মজুদ করা রয়েছে। ভাটার চিমনিতে ধোয়া বের হচ্ছে, আর পুড়ছে কাঠ।

হরিণাকুন্ডুর মালিপাড়াতে রয়েছে ব্যারেল চিমনি’র 'ভাই ভাই' ইটভাটা। এই ভাটার চারিদিকে কয়েকশ' মণ কাঠ রয়েছে। শ্রমিকরা জ্বালানী হিসেবে এই কাঠ ব্যবহার করছেন।

একই এলাকায় রয়েছে বিশ্বাস ব্রিকস। সেখানেও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তৈলটুপিতে রয়েছে ব্যারেল চিমনি’র সোহান ব্রিকস- তারাও পোড়াচ্ছেন কাঠ। ব্যারেল চিমনি’র আরো কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। তারাও ব্যাপক হারে কাঠ মজুদ করেছে।

স্থানিয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৈলটুপিতে রুমা ব্রিকস্, জামাত ব্রিকস্, এ জে ডাব্লিউ ব্রিকস, বৈঠাপাড়া এলাকায় এবি ব্রিকস্, চাঁদপুরের জেসমিন, এটিবিসহ একাধিক ব্রিকস্ কর্তৃপক্ষও প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পোড়াচ্ছে।

হরিণাকুন্ডুতে ১৩টি ফিক্সড চিমনি’র ভাটা রয়েছে। বেশিরভাগ ভাটায় প্রচুর পরিমানে কাঠ মজুদ দেখা গেছে। একইভাবে মালিপাড়ার ভাই ভাই ব্রিকস্ ও বৈঠাপাড়ার এবি ব্রিকস্ এ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এ সকল ভাটার কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন ভাটা মালিকদের একটি সূত্র। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন বৈধ কাগজপত্র।

তাদের ভাষায়, জিকজ্যাক ভাটা ছাড়া অন্য কোনো ভাটার অনুমোদনের সুযোগ নেই। সরকার ব্যারেল বা ফিক্সড চিমনি’র কোনো ভাটার অনুমোদন দিচ্ছে না।

ভাটা মালিকদের একজন জানান, তারা জিকজ্যাক ভাটা পরিচালনা করেন। এই ভাটায় কয়লা ব্যবহার হয়ে থাকে। জিকজ্যাক ভাটায় ইট পোড়ানোর খরচ একটু বেশি হওয়ায় অনেকে করতে চান না।

সূত্র জানায়, ব্যারেল বা ফিক্সড চিমনি’র ভাটার চেয়ে জিকজ্যাক ভাটায় ইট পোড়াতে তাদের ইটপ্রতি ২ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। এতে তারা ব্যবসায়ীকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কম টাকায় ইট তৈরী করে তারা কম টাকায় বিক্রি করছেন, আর তারা ওই টাকায় বিক্রি করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ভাটায় এক বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মণ কাঠ পুড়বে। এই হিসাবে ব্যারেল চিমনি’র ৪ ভাটায় পুড়বে প্রায় ২ লাখ মণ কাঠ। আর ১৩টি ফিক্সড চিমনি’র ভাটায় পুড়বে আরো ২২ লাখ মণ কাঠ। এ হিসাবে এ বছর হরিণাকুন্ডুর অবৈধ ১৭ ভাটায় প্রায় ২৫ লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হবে।

ভাটায় কাঠ সরবরাহকারী তফসের আলী জানান, সারা বছর তারা ভাটা মালিককে কাঠ দিয়ে থাকেন। গাছ কাটা ক্ষতিকর জেনেও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা এই কাজ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ভাই ভাই ব্রিকস্ এর মালিক বাদল জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ ভাটা পরিচালনা করে আসছি। উপজেলার অন্য ভাটাগুলোতেও কাঠ পোড়ানো হয়ে থাকে বলে তিনি দাবি করেন।

এভাবে কাঠ পোড়ানো ঠিক কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই করছে তাই তিনিও করছেন।

ফিক্সড চিমনি’র এক ভাটার মালিক জানান, আগামী বছর তিনি জিকজ্যাক ভাটা করবেন। এ বছর এভাবে চালানো ছাড়া উপায় নেই।

বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাফিস সুলতানা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ বিষয়ে ইটভাটাগুলোকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে বিষয়গুলো বিভিন্ন মিটিং–এ বলা হয়েছে।

প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হলেও কেনো উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, স্থানীয় ইটভাটাগুলোর মালিকরা প্রভাবশালী। জেলা পর্যায়ে বলা হয়েছে ব্যবস্থা নিতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত